বড় নিসবতের আড়ালে

বড় নিসবতের আড়ালে নোংরামী লুকানোর প্রতারণা!
দুই মহিলা। উভয়জনেরই বাচ্চা আছে। কিন্তু থাকে একা।
১ম মহিলার কাছে এসে কেউ জিজ্ঞাসা করল। তোমার পরিচয় বল-
১ম মহিলা- আমার পিতার নাম- আব্দুল্লাহ।
মায়ের নাম- আরিফা। স্বামীর নাম- আহমদুল্লাহ। স্বামীর পিতার নাম- আব্দুলকরীম।
এবার দ্বিতীয় মহিলাকে কেউ জিজ্ঞাসা করল- আমরা পাশের মহিলাকে তার পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে তার পিতা, তার স্বামী ইত্যাদির নাম বলে পরিচয় দিয়েছে, এবার তুমি তোমার পরিচয়টি বল। দ্বিতীয় মহিলাটি আস্তাগফিরুল্লাহ বলতে বলতে বলল- নাউজুবিল্লাহ! কি শিরিক! কি শিরিক! নিজের পরিচয়কে বান্দার দিকে নিসবত করেছে। আস্তাগফিরুল্লাহ । নিশ্চয় ঐ মহিলা মুশরিক। এরকম শিরকী কথা বলল কিভাবে? নিসবততো হবে আল্লাহর সাথে। আমার পরিচয় হল, আমি আল্লাহর বান্দি। ব্যাস এতটুকুই। প্রশ্নকারী ফিরে এল। এবার পাঠকদের কাছে আমার জিজ্ঞাসা উভয়ের মাঝে কে প্রতারক? কেন দ্বিতীয় মহিলাটি নিজের নিসবত সবচে’ উপরের দিকে করতে চাচ্ছে? জানেন? উদ্দেশ্য একটাই- মহান নিসবতের আড়ালে নিজের নোংরামী ঢেকে নেয়া। তার পিতৃপরিচয় লুকিয়ে ফেলা। তার ঘরের সন্তানটি হালাল কি না? এ বিষয়টি লুকিয়ে ফেলা। এ জঘন্য কাজটি করার জন্য সূত্র নিল কি চমৎকার তাইনা? নিসবত হবে বড়। কিন্তু এ বড় নিসবতের আড়ালে কত জঘন্যতা লুকিয়ে, কত জঘন্যতা ধামাচাপা তা কি ভেবে দেখেছি? আমাদের পরিচয় কেউ জিজ্ঞাসা করলে- আমরা বলি- আমরা প্রথমত দেওবন্দী, কারণ দেওবন্দীদের মাধ্যমে আমরা দ্বীনে ইসলাম পেয়েছি। আমরা হানাফী- কারণ ফুক্বহায়ে আহনাফ থেকে উলামায়ে দেওবন্দ দ্বীন পেয়েছেন। আমরা ওয়াল জামাআত। কারণ সাহাবায়ে কেরামের জামাআত থেকে ফুক্বাহায়ে আহনাফ দ্বীন সংগ্রহ করে সংকলিত করেছেন। আমরা আহলে সুন্নত। কারণ রাসূল সাঃ থেকে সাহাবায়ে কেরাম যে সুন্নত পেয়েছেন আমরা সেটির অনুসারী। তাই আমাদের পূর্ণ পরিচয়- আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত হানাফী দেওবন্দী। কিন্তু এ পরিচয় দেখে কারো কারো গায়ে জ্বালা ধরে। তার চিল্লায় শিরক শিরক বলে। আর তাদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে বিশাল নিসবত লাগিয়ে বলবে- তারা মুহাম্মদী। তারা মুহাম্মদ সাঃ এর সরাসরি অনুসারী। তারা মুহাম্মদ সাঃ এর মাযহাবের অনুসারী। মাঝখানের নিসবত বাদ দিয়ে বড় নিসবত কায়েমের মাজেজা আপনারা বুঝতে পারছেনতো? কার কাছে থেকে দ্বীন পেল? যেটিকে দ্বীন বলছে সেটি আসলে দ্বীন কি না? এরকম কোন সনদ আছে কি না? নাকি সূত্রহীন, অন্য ভাষায় জারজ সূত্র কি না? এসব লুকানোর জন্য নিসবতটিকে বড় করে তুলে ধরে। আল্লাহ তাআলা আমাদের এসব ফিতনাবাজদের হাত থেকে রক্ষা করুন। আমীন।
*(মুফতি লুৎফুর ফারাজি দাঃ বাঃ)*

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s