নামাযের যে সকল মাসআলায় কথিত আহলে হাদীস ভাইদের দলি

নামাযের যে সকল মাসআলায় কথিত আহলে হাদীস ভাইদের দলীল নেই ।

image

image

কথিত আহলে হাদীসরা কথায় কথায় আমাদের নামাযের নামাযের উপর অভিযোগ উত্থাপিত করে থাকে, প্রচার করে বেড়ায় যে, আমাদের নামায দুর্বল হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। কিংবা কোন প্রমান নেই আমাদের নামায পড়ার পদ্ধতির। দ্বীন ধর্ম সম্পর্কে অজ্ঞ সাধারণ মুসলমানদের মনে নামায সম্পর্কে সৃষ্টি করে চলে ওয়াসওয়াসা।

image

হাজার বছর ধরে পড়া নামায হচ্ছে না। তারা যে নামায বলছে সেটাই কুরআন হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নামায। আর অন্যরা যা পড়ছে তা কুরআন হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়।

বক্ষ্যমান প্রবন্ধে গায়রে মুকাল্লিদদের এ মিথ্যাচারের মুখোশ উন্মোচন করা হবে। তাদের নামায কোন পূর্ণাঙ্গ নামাযই নয় তাদের মূলনীতি অনুযায়ী। কারণ তাদের বক্তব্য অনুযায়ী কুরআন হাদীস ছাড়া অন্য কিছু দলিল হতে পারে না। সে হিসেবে নামাযের অসংখ্য মাসায়েল তারা প্রমাণ করতে পারবে না কুরআন হাদীস দ্বারা। ফলে তাদের নামায হয়ে যায় অপূর্ণাঙ্গ। এমনকি একটি পূর্ণাঙ্গ নামায শিক্ষার বইও তারা জাতিকে উপহার দিতে পারেনি ইংরেজ প্রতিষ্ঠিত এ দলটি। শুধু কিছু বিতর্কিত মাসআলার দলিল উপস্থাপন করেই পাড় পেয়ে যাওয়ার খেলায় মেতেছে বিভ্রান্তসৃষ্টিকারী এ ভাইয়েরা।

১-

গায়রে মুকাল্লিদ ভাইয়েরা আপনাদের নামাযের জন্য কি কি শর্ত? দয়া করে কুরআন হাদীস দ্বারা প্রমাণ করুন

আলফিক্বহু আলা মাজাহিবিল আরবাআতে চার মাযহাবের পূর্ণাঙ্গ নামাযের শর্তসমূহ সাবলীল ভাষায় ধারাবাহিকভাবে একের পর এক লিপিবদ্ধ করে দেয়া হয়েছে।

আমাদের নামাযের ৭ শর্তের কথা তালীমুল ইসলামের ৪৪ নং পৃষ্ঠায় স্পষ্টাক্ষরে বিদ্যমান। প্রতিটি মানুষই তা বুঝতে সক্ষম। সেই সাথে বেহেস্তী জেওরের মাঝেই স্পষ্ট ভাষায় নামাযের শর্তের কথা লিপিবদ্ধ আছে। প্রতিটি সাধারণ মানুষই যা পড়ে সহজে বুঝতে পারবেন।

আমাদের দাবি হল কথিত আহলে হাদীস বন্ধুরা তাদের নামাযের শর্ত কুরআন হাদীসের আলোকে জাতির সামনে উপস্থাপন করুন। নামায সহীহ হওয়ার জন্য কুরআন হাদীস দ্বারা কয়টি শর্ত?

২-

একথা সবাই জানে যে, চার ফিক্বহ সংকলিত হওয়ার পর সিহাহ সিত্তার কিতাব লিখা হয়েছে। তাই সিহাহ সিত্তার গ্রন্থ প্রণেতাদের উপর আবশ্যক ছিল ফিক্বহের কিতাবে উল্লেখিত নামাযের শর্তের বিরুদ্ধে হাদীস দ্বারা প্রতিবাদ করা ও সেসব শর্তকে বাতিল বলে প্রমাণ করা।

এ হিসেবে বর্তমান গায়রে মুকাল্লিদ তথা কথিত আহলে হাদীসদের উপর দায়িত্ব হল সিহাহ সিত্তার কিতাবের বরাত দিয়ে ফিক্বহের কিতাবের বর্ণিত নামাযের শর্তসমূহকে হাদীস বিরোধী বলে সাব্যস্ত করা, এবং একথা দেখানো যে, সিহাহ সিত্তার লেখকগণ নামাযের শর্ত বর্ণনাকারীদের বদ্বীন বলে আখ্যায়িত করেছেন কোন কোন স্থানে?

৩-

গায়রে মুকাল্লিদ ভাইয়েরা নিজেদের নামাযে গ্রহণযোগ্য ফরজসমূহ গ্রহণযোগ্য সিলেবাসে অন্তুর্ভূক্ত কিতাব থেকে দেখান!

সকল ফুক্বাহায়ে কেরাম তাদের নামায পদ্ধতি পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা করেছেন। যা সিলেবাসভূক্ত হয় মাদরাসায় পড়ানোহয়। রুকন কয়টি? ওয়াজিব কয়টি? সুন্নাত কয়টি? মুস্তাহাব কয়টি? কোনটি ছেড়ে দিলে কি হুকুম? কোনটি ছেড়ে দিলে নামায ভেঙ্গে যায়, কোনটি ছেড়ে দিলে সেজদায়ে সাহু ওয়াজিব হয়, কোনটি ছেড়ে দিলে কিছু হয় না ইত্যাদি বিস্তারিত বিবরণসহ কিতাব আছে। যা মাদরাসাসমূহের নিসাবে অন্তর্ভূক্ত। আমাদের কথিত আহলে হাদীস ভাইয়েরা তাদের নামায পদ্ধতির, শর্ত, ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত, মুস্তাহাবসহ কোনটি ছাড়লে কি হুকুম তা কুরআন হাদীস দ্বারা প্রমাণ সমৃদ্ধ একটি কিতাব উপুস্থাপন করুন যা তাদের দরসে নিজামীর অন্তুর্ভূক্ত। শুধুমাত্র একটি কিতাব।

৪-

কথিত আহলে হাদীস ভাইয়েরা প্রথমে স্বীয় কিতাব থেকে কুরআন হাদীস দিয়ে রুকন, ওয়াজিব, মুস—াহাব এবং এসব ছেড়ে দিলে নামাযে হুকুম কী হবে? তা বর্ণনা করার পর দয়া করে বলবেন-

ক) নামায সংক্রান্ত আমাদের সংজ্ঞা, হুকুম এবং আরকান ভুল হওয়ার বিষয়টি সহীহ, সরীহ ও বৈপরীত্বহীন হাদীস দ্বারা প্রমাণ করবেন।

খ) নিজেদের নামাযের বিভিন্ন অবস্থার সংজ্ঞা, হুকুম, আরকান হাদীস দ্বারা দেখাবেন। অথবা আরকান মান্যকারীদের মুশরিক, বেদআতি হওয়া প্রমাণ করে দেখাবেন।

৫-

ওয়াজিব কাকে বলে আমাদের সংজ্ঞা আমাদের মাদরাসার নিসাবী কিতাব তালীমুল ইসলামে স্পষ্টাক্ষরে বিদ্যমান। {তায়ালীমুল ইসলাম উর্দু-৩-১২৯-১২৮} আপনারাও ওয়াজিবের সংজ্ঞা স্বীয় নেসাবী কিতাব থেকে কুরআন হাদীসের ভিত্তিতে দেখান।

৬-

নামাযের ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত, মুস্তাহাব বিষয় সব ক’টি বিষয়কে কুরআন হাদীস দ্বারা বাতিল প্রমাণ করে দেখান, অথবা চারটিকেই কুরআ হাদীস দ্বারা প্রমাণ করে দেখান। নতুবা এ চারটি মান্যকারীকে বেদ্বীন হওয়া কুরআন হাদীস দ্বারা প্রমাণ করে দেখান।

৭-

আমরা হানাফীরা সুন্নাতে মুআক্কাদার সংজ্ঞা, প্রমাণ পদ্ধতি, তরককারীর হুকুম, এবং সুন্নাত কয়টি? এসব আমাদের দরসে নিজামীতে পঠিত কিতাব থেকে দেখাবো। যেমন- তালীমুল ইসলাম-৩/১৩০}

এবার কথিত আহলে হাদীস ভাইয়েরা তাদের ক্লাসের সিলেবাসে অন্তর্ভূক্ত কিতাব দিয়ে সুন্নাতের সংজ্ঞা, প্রমাণ, পদ্ধতি,তরককারীর হুকুম এবং সুন্নাত কয়টি? এসব কুরআন ও সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণ করে দেখাবেন। নতুবা আমাদের বর্ণিত সংজ্ঞা কুরআন হাদীস দ্বারা বাতিল ও শিরক বলে প্রমাণ করে দেখান।

৮-

আমরা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত হানাফীরা নামাযের মুস্তাহাব, সংজ্ঞা, পদ্ধতি, প্রমাণ, আদায়কারী ও তরককারীর হুকুম এবং মুস্তাহাবের পরিমাণ নিজেদের ক্লাসে পঠিত সিলেবাসভূক্ত কিতাব তালিমুল ইসলাম ৩/১৩০ নং পৃষ্ঠা থেকে দেখাব।

৯-

এবার কথিত আহলে হাদীস ভাইয়েরা আমাদের মুস্তাহাবের সংজ্ঞা, পদ্ধতি, প্রমাণ, আদায়কারী ও তরককারীর বিধান এবং সংখ্যা ইত্যাদিকে কুরআন হাদীস দ্বারা বাতিল বলে প্রমাণ করে দেখাতে হবে। আর মুস্তাহাবের সহীহ সংজ্ঞা, পদ্ধতি, প্রমাণ, সংখ্যা, আদায়কারী ও তরককারীর হুকুম কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে নিজস্ব সিলেবাসভূক্ত কিতাবে দেখাতে হবে।

১০

নামায ভঙ্গের কারণ কয়টি? কতগুলো বিষয় থেকে নামাযকে রক্ষা করা জরুরী? এসব জানা আবশ্যকীয় বিষয়। তাই হানাফীগণ নামায ভঙ্গের সংজ্ঞা, হুকুম, সংখ্যা স্বীয় নিসাবের কিতাব দিয়ে দেখাতে পারবে। {তালীমুল ইসলাম-৩/১৬৭}

১১

এবার গায়রে মুকাল্লিদ ভাইয়েরা আমাদের সংজ্ঞা, হুকুম এবং সংখ্যাকে ভুল প্রমাণ করবেন কুরআন ও সহীহ হাদীস দিয়ে। সেই সাথে নামায ভঙ্গের সঠিক সংজ্ঞা, হুকুম, সংখ্যা কুরআন ও সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণ করে তা স্বীয় নিসাবে অন্তর্ভূক্ত কিতাব দিয়ে দেখাবেন।

১২

আমরা নামাযের মাকরূহসমূহ, মাকরূহের সংজ্ঞা, প্রমাণ, হুকুম মাকরূহাতের সংখ্যা নির্ভরযোগ্য দরসী কিতাব থেকে দেখাতে পারবো। {তালীমুল ইসলাম-৩/১৬৯}

১৩

এবার কথিত আহলে হাদীস ভাইয়েরা আমাদের এ সংজ্ঞা, প্রামাণ, হুকুম এবং সকল মাকরূহাতকে কুরআন ও সহীহ হাদীস দ্বারা ভুল প্রমাণ করে দেখান। সেই সাথে মাকরূহাতের সঠিক সংজ্ঞা, সহীহ প্রমাণ, সহীহ হুকুম, এবং সহীহ সংখ্যা নিজেদের নির্ভরযোগ্য নিসাবী কিতাব দিয়ে দেখাবেন, সেই সাথে উল্লেখ করতে হবে কুরআন ও সহীহ হাদীসের কোথায় এসব আছে?

গায়রে মুকাল্লিদদের নামায কুরআন হাদীস দিয়ে প্রমাণিত নয়

১৪

এ আলোচনায় কথিত আহলে হাদীস ভাইয়েরা স্বীয় উসূল কুরআন ও সহীহ হাদীসই মান্য হিসেবে শুধু কুরআন ও সহীহ হাদীসই দলিল হিসেবে উপস্থাপন করতে পারবেন। এমন কোন নাম উচ্চারণ করতে পারবেন না যার নাম কুরআন ও হাদীসে নেই।

উসুলে ফিক্বহ, উসুলে হাদীস, উসূলে তাফসীর, আসমায়ে রিজাল, ও উসূলে জারাহ ও তাদীলের মধ্য থেকে কেবল সেসব কথাই উদ্ধৃত করতে পারবে, যা উক্ত বিশেষজ্ঞ কুরআন ও সহীহ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত করেছেন। নিজের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান দিয়ে কোন কিছু আবিস্কার করে থাকলে তা দলিল হিসেবে যোগ্য হবে না। তাহলে কুরআন ও সহীহ হাদীসের উল্টো ব্যক্তির তাক্বলীদ হয়ে যাবে। যা তাদের ভাষায় শিরক।

১৫

যদি গায়রে মুকাল্লিদ বিতার্কিক নিজেদের নামাযের শর্ত, আরকান, সুনান, মুস্তাহাব্বাত, মাকরূহাত, মুফসিদাত, এবং বিধি-বিধান স্বীয় গ্রহনীয় নিসাবী কিতাব থেকে এবং কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে প্রমাণিত করে দেখাতে অপারগ হয়, তাহলে তার একথা লিখে দিতে হবে যে, সে তার নিজের নামাযের বিশদ বিবরণ নিজেদের গ্রহনীয় নিসাবী কিতাব থেকে, এবং কুরআন ও সহীহ হাদীস দিয়ে প্রমাণ করে দেখাতে অক্ষম।

আর নিজেদের দাবী তথা কুরআন হাদীসই মানে এ দাবীর ক্ষেত্রে মিথ্যুক প্রমানিত হয়েছে। এমনিভাবে হানাফীদের নামাযের শর্ত, রুকন, সুনান, মুস্তাহাব্বাত, মাকরূহাত, মুফসিদাত, তাদের সংজ্ঞা ও আহকামকে কুরআন হাদীসের বিপরীত প্রমাণ করতে অক্ষম হয়েছে। এবং তাদের এ দাবীর ক্ষেত্রে সে সম্পূর্ণ মিথ্যুক যে, হানাফীদের নামায কুরআন হাদীসের বিপরীত।

কথিত আহলে হাদীসরা যখন তাদের নামাযের বিশদ বিবরণ তাদের নিজস্ব সিলেবাসের কিতাব থেকে দিতে অক্ষম প্রমানিত। এখন তাদের নামাযের আমলী হালাতের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করি। তাদের উপর আবশ্যক হল, তাদের প্রতিটি মাসআলা সহীহ,সরীহ ও বৈপরীত্বহীন হাদীস দ্বারা প্রমানিত করবে।

কথিত আহলে হাদীস ভাইয়েরা! কুরআন ও সহীহ হাদীসের ভিত্তিতে জবাব দিন!

১-

নামাযের নিয়ত করার সময় মনে মনে “সময়” “নামায” “সুন্নাত-ফরজ” ইত্যাদির মাঝে কোন কোন বিষয়ের ইচ্ছা করতে হবে? কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে জানতে চাই।

২-

আল্লাহ তাআলার বাণী وذكر اسم ربه فصلى এর সম্পর্ক নামাযের সাথে এবং وربك فكبر আয়াতাংশের সম্পর্ক কি নামাযের সাথে? নাকি না? কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে জানতে চাই।

৩-

এ দুই আয়াত অনুযায়ী কেউ যদি আল্লাহু আকবারের বদলে আল্লাহু আজাল্লু বা আল্লাহু আজামু বলে বলে তাহলে সে কি আয়াতের বিপরীত করল না করেনি? কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে জানতে চাই।

৪-

আল্লাহু আকবার শব্দটি কি ফরজ না ওয়াজিব নাকি সুন্নাত? কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে জানতে চাই।

৫-

তাকবীরে তাহরীমা একাকী নামায আদায়কারী ব্যক্তি এবং মুক্তাদী সর্বদা আস্তে আওয়াজে বলে। এটা কুরআনের কোন আয়াত বা কোন সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত?

৬-

তাকবীরে তাহরীমা ইমাম সাহেব সর্বদা জোরে বলে থাকে। কুরআন ও সহীহ হাদীসের কোথায় একথা বিদ্যমান?

৭-

তাকবীরে তাহরীমার সময় হাত উঠানো হাদীস দ্বারা প্রমানিত। কিন্তু এটাকে সুন্নাতে মুআক্কাদা একথা কোন সহীহ হাদীসে উল্লেখ আছে?

৮-

হাতকে কিবলামুখী রাখা সম্পর্কিত হাদীসটি উমায়ের বিন ইমরানের কারণে দুর্বল। {মাযমাউজ যাওয়ায়েদ-২/১০২} অথচ এর উপর আপনাদের আমল কোন সহীহ হাদীসের ভিত্তিতে?

৯-

নামাযে আঙ্গুলি খোলা ও প্রশস্ত রাখার তিরমিযীর হাদীসটি বাতিল। {কিতাবুল ইলাল লিইবনে আবী হাতেম-১/১৬২} অথচ এর উপর আপনারা কোন সহীহ হাদীসের ভিত্তিতে আমল করে থাকেন?

১০

পুরুষ কাঁধ পর্যন্ত আর মহিলারা সিনা পর্যন্ত হাত উঠাবে {তাবরানী} এর উপর আপনাদের আমল নেই কেন? শুধু কিয়াস ভিত্তিক আমল করেন কেন?

১১

ওয়াইল বিন হুজুর রাঃ এর হাদীস হল,রাসূল সাঃ ডান হাতকে বাম হাতের উপর বাঁধতেন। মুসলিম, নাসায়ী, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমাদ, আবু দাউদ তায়ালিসী, ইবনে হিব্বানে এ বর্ণনা এসেছে। এ সাত কিতাবে সিনার উপর হাত বাঁধার কথা নেই। শুধু ইবনে খুজাইমাতে সিনায় হাত বাঁধার কথা আছে। যার বর্ণনাকারী মুআম্মাল বিন ইসমাঈল জয়ীফ। এ মুনকারও মারদূদ বর্ণনার উপর আপনাদের আমল কেন?

১২

ফাতওয়া সানায়িয়্যাহ ১ নং খন্ডের ৫৩৪ পৃষ্ঠায় এবং ফাতাওয়া ওলামায়ে হাদীস এর ৩ নং খন্ডের ৯৫ নং পৃষ্ঠায় কুরআনে কারীমের আয়াত فصل لربك وانحر দিয়ে সিনার উপর হাত বাঁধার দলিল দেয়া হয়েছে। অথচ সহীহ হাদীস ও উম্মতের ইজমা হল যে, وانحر দ্বারা উদ্দেশ্য হল কুরবানী। সহীহ হাদীস ও ইজমায়ে উম্মতের বিপরীত কুরআনের ভুল ব্যাখ্যা করা গোনাহ নাকি সওয়াবের কাজ?

১৩

যদি বলা হয় যে, তারা দু’টি অর্থই গ্রহণ করে থাকেন। কুরবানী ও উদ্দেশ্য নেন, আবার সিনার উপর হাত বাঁধাও উদ্দেশ্য নেন। তাহলে কুরবানীতো আপনারা নামাযের পর করে থাকেন, শুধু তাই নয়, বরং ঘরে গিয়ে করে থাকেন। তাহলে সিনার উপর হাত কেন নামাযের ভিতর বাঁধেন। এটাও নামাযের পর ঘরে গিয়ে করেন!

১৪

ফাতাওয়া সানায়িয়্যাহ এর ১ নং খন্ডের ৪৪৩ পৃষ্ঠা এবং ফাতাওয়া উলামায়ে হাদীস এর ৩ নং খন্ডের ৯১ নং পৃষ্ঠায় লিখা আছে যে, সিনার উপর হাত বাঁধার বর্ণনা বুখারী, মুসলিম ইত্যাদিতে আছে। অথচ বুখারী মুসলিমে এমন কোন হাদীসই নেই। তাহলে এ মিথ্যাচার কেন?

১৫

মাওলানা নূর হুসাইন গুজরাটি লিখেছেন যে, হযরত ওয়াইল বিন হুজুর রাঃ এর রফয়ে ইয়াদাইন এর হাদীসে মুসলিম, ইবনে মাজাহ, দারা কুতনী, দারেমী, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ, এবং মেশকাতে সিনার উপর হাত বাঁধার শব্দ আছে। [ইসবাতুর রফয়ে ইয়াদাইন-১৯]

অথচ এসব কিতাবের কোন কিতাবেই এ শব্দ নেই। তাহলে অসত্য কথা কেন বলা হল?

১৬

মৌলবী মুহাম্মদ ইউসুফ জিপুরী গায়রে মুকাল্লিদ সাহেব তার “হাকীকাতুল ফিক্বহ” নামক কিতাবে লিখেন যে, “সিনার উপর হাত বাঁধার হাদীস মুহাদ্দিসীন ইমামদের ঐক্যমত্বে সহীহ। হেদায়ার ১ নং খন্ডের ৩৫ নং পৃষ্ঠা ও শরহে বেকায়ার ৯৩ পৃষ্ঠা দেখুন। এ বক্তব্যটি কত মিথ্যা।

১৭

নাভির নিচে হাত বাঁধার হাদীস আইয়িম্মায়ে মুহাদ্দিসীনদের নিকট দুর্বল। দলিল হিসেবে উপস্থাপন করা হয় যে, হেদায়ার ১ম খন্ড পৃষ্ঠা নয় ৩৫০।

এটিও একটি মিথ্যাচার। হেদায়াতে এমন বক্তব্য নেই। থাকলে আরবী ইবারত দিন।

প্রিয় পাঠক/পাঠিকারা! লক্ষ্য করুন। কিভাবে কুরআন ও হাদীসের উপর আমলকারীরা ফিক্বহের উপর মিথ্যারোপ করে থাকে।

১৮

ফাতাওয়া সানায়িয়্যাহ এর ১নং খন্ডের ৪৪৪ পৃষ্ঠায় সহীহ ইবনে খুজাইমার দুর্বল হাদীস এনে সহীহ মুসলিমের একটি সনদ জোরে দেয়া হয়েছে। কত বড় জালিয়াতি ভাবা যায়?

১৯

সকল নবীগণ নাভির নিচে হাত বেঁধেছেন মর্মে মুসনাদে জায়েদ ও মুহাল্লা বিন হাযম এ হযরত আলী রাঃ, হযরত আয়শা রাঃ, হযরত আনাস রাঃ থেকে উল্লেখ আছে। রাসূল সাঃ এর নাভির নাভির নিচে হাত বাঁধার বর্ণনা করাচি থেকে প্রকাশিত মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবার ১নং খন্ডের ৩৯০ নং পৃষ্ঠায় এসেছে। আর এটি সুন্নাত একথা এসেছে মুসনাদে আহমাদে। কিন্তু হানাফীদের প্রতি বিদ্বেষে গায়রে মুকাল্লিদরা এসব হাদীসের উপর আমল করে না।

২০

ওলামায়ে কেরাম একমত যে, নারীরা সিনার উপর হাত বাঁধবে। {আসসিয়ায়াহ-২/১৫৬} এ ইজমাকে তারা কেন অস্বিকার করে?

সানার উপর আলোচনা

২১

ইমাম হয়ে উঁচু আওয়াজে সানা পড়ার বিষয়টি রাসূল কারীম সাঃ থেকে নাসায়ী এর উর্দু অনুবাদ এ ১ম খন্ডের ৩৫৬ নং পৃষ্ঠায় এবং হযরত ওমর রাঃ থেকে ইমাম হয়ে সানা জোরে পড়ার কথা সহীহ মুসলিমের হাদীস নং ৯১৮তে বর্ণিত। গায়রে মুকল্লিদগন কিসের ভিত্তিতে এর উপর আমল ছেড়ে দিচ্ছে?

২২

নাসায়ী শরীফের উর্দু অনুবাদের ১ম খন্ডের ৩০০ পৃষ্ঠায় মুক্তাদীর সানা জোরে পড়ার কথা বর্ণিত হয়েছে।

গায়রে মুকাল্লিদগন এ হাদীস ছেড়ে কোন হাদীসের উপর আমল করে?

২৩

একাকী নামায আদায়কারী ব্যক্তি সানা আস্তে আস্তে পড়ার আমল গায়রে মুকাল্লিদদের। তাদের এ আমলের পক্ষে কী দলিল আছে?

২৪

রাসূল সাঃ এর পর খুলাফায়ে রাশেদীন এর মাঝে কেউ سبحانك اللهم الخ তথা সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়াবিহামদিকা___। এ সানা ছাড়া অন্য কোন সানা পড়েন নি। চাই সেটি ফরজ নামায হোক বা সুন্নাত নামায হোক। ঐক্যমত্বের আমল দ্বারা বুঝা যায় যে, এটি একটি প্রতিষ্ঠিত সুন্নাত। কিন্তু গায়রে মুকাল্লিদ ভাইয়েরা মানেন না কোন সহীহ হাদীসের ভিত্তিতে?

২৫

যদি নামাযে সানা ইচ্ছেকৃত না পড়ে, তাহলে নামায হবে কি না? সহীহ হাদীস দিয়ে জানান।

২৬

যদি ভুলে সানার স্থলে আত্তাহিয়্যাতু পড়ে ফেলে, তাহলে সাহু সেজদা আবশ্যক হবে কি না? সহীহ সরীহ হাদীস দিয়ে প্রমাণ দিন।

২৭

وجل ثنائك ব্যতিত জানাযার নামাযের সানায় যা পড়া হয়, তা গায়রে মুকাল্লিদ ভাইগন সহীহ সরীহ হাদীস দিয়ে প্রমানিত করুন।

২৮

রাসূল সাঃ কেরাত পড়ার আগে اعوذ بالله من الشيطان الرجيم পড়তেন। {মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক-২/৮৬} রাসূল সাঃ এর পর হযরত ওমর রাঃ ও এটাই পড়তেন। {মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা-১/২৩৭} এটাই প্রতিষ্ঠিত সুন্নাত।

গায়রে মুকাল্লিদগণ এটাকে সুন্নাত থেকে বাদ দেন কোন সহীহ সরীহ হাদীসের ভিত্তিতে?

২৯

আউজুবিল্লাহ একাকী নামায আদায়কারী, ইমাম ও মুক্তাদীর জন্য আস্তে পড়ার বিধান রাসূল সাঃ এর কোন হাদীস দ্বারা প্রমাণিত? যদি প্রমাণিত না হয়, তাহলে তারা এর উপর আমল করেন কুরআনের কোন আয়াত বা কোন সহীহ হাদীসের ভিত্তিতে?

৩০

আউজুবিল্লাহ পড়া সুন্নাত না ফরজ? যদি এটি কেউ না পড়ে, তাহলে তার নামায হবে কি না? সহীহ হাদীস দিয়ে প্রমাণ করুন।

বিসমিল্লাহ প্রসঙ্গে

৩১

ইমাম সাহেবের বিসমিল্লাহ আস্তে পড়ার কথা সহীহ মুসলিমের ১ম খন্ডের ১৭২ নং ও মুসনাদে আহমাদের ৩য় খন্ডের ১১৪নং পৃষ্ঠায় এসেছে। ইমাম সাহেবের জোরে বিসমিল্লাহ পড়া বেদআত, একথা এসেছে সুনানে তিরমিজীর ১ম খন্ডের ৬২পৃষ্ঠায় এসেছে।

গায়রে মুকাল্লিদগণ এ সুন্নাতের খেলাফ আমল করেন কোন হাদীসের ভিত্তিতে?

৩২

একা একা নামায আদায়কালে বিসমিল্লাহ আস্তে পড়ার কথা কোন হাদীস দ্বারা প্রমাণিত?

৩৩

নামাযে বিসমিল্লাহ পড়ার বিধান কি? ফরজ না সুন্নাত? না পড়লে কি নামায হবে না হবে না? এসব কথা কোন সহীহ সরীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত?

ফাতিহা পড়া প্রসঙ্গে

৩৪

একাকী নামায আদায়কারী ব্যক্তি প্রতিটি নামাযেই সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা আস্তে আস্তে পড়ে থাকে, এর দলিল কোন সহীহ সরীহ হাদীস?

৩৫

পানির যেমন প্রতিটি ফোটাই পানি, তেমনি কুরআনের প্রতিটি অংশই কুরআন। তাহলে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে যে, فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ তথা কাজেই কুরআনের যতটুকু তোমাদের জন্যে সহজ, ততটুকু আবৃত্তি কর। {সূরা মুজ্জাম্মিল-২০}

এ আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হল যে, কুরআন পড়া ফরজ। কোন নির্দিষ্ট অংশ পড়া আবশ্যক নয়। গায়রে মুকাল্লিদগণ এ আয়াত না মেনে সূরা ফাতিহা পড়া আবশ্যক বলে, তা না পড়লে নামায হবে না বলে কেন?

৩৬

সূরা ফাতিহা পড়া ফরজ একথা কোন সরীহ আয়াত দ্বারা প্রমাণিত?

৩৭

রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন যে, যে নামাযে ফাতিহা না পড়া হয়, সে নামায অপূর্ণাঙ্গ। {সহীহ মুসলিম-১/১৬৯}

কিন্তু গায়রে মুকাল্লিদ ভাইয়েরা সূরা ফাতিহা না পড়লে নামায হবে না বলে রাসূল সাঃ এর বিরোধীতা করে কেন?

৩৮

أبو هريرة قال قال لى رسول الله -صلى الله عليه وسلم- ্র اخرج فناد فى المدينة أنه لا صلاة إلا بقرآن ولو بفاتحة الكتاب فما زاد

হযরত আবু হুরায়রা রাঃ বলেন, রাসূল সাঃ আমাকে বললেনঃ তুমি বের হয়ে মদীনায় ঘোষণা দাও যে, কুরআন তিলাওয়াত ছাড়া নামায হয় না। অন্তত সূরা ফাতিহা এবং এছাড়া অতিরিক্ত কিছু হোক মিলাতেই হবে। {সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৮১৯}

এ হাদীস প্রমাণ করে যে, ফাতিহা পড়া ফরজ নয়। মুতলাকভাবে কুরআন পড়া ফরজ। কিন্তু গায়রে মুকাল্লিদগন এ হাদীস মানে না কেন?

৩৯

রাসূল সাঃ নামাযে সূরা ফাতিহা পড়ার যেমন গুরুত্বারোপ করেছেন, ঠিক তেমনি ফাতিহার সাথে আরো কিছু অংশ মিলানোরও গুরুত্বারোপ করেছেন। যেমন- সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৮২০, সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-২১৯১, সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-১৬, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-১৭৯১, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৯৫২৯, মুসনাদে ইসহাক বিন রাহুয়াহ, হাদীস নং-১২৬, মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৩৬৪৩।

এ কারণেই হানাফীগণ নামাযে সূরা ফাতিহা পড়াকে যেমন ওয়াজিব বলে, তেমনি এর সাথে অতিরিক্ত আরো কিরাত পড়াকেও ওয়াজিব বলেন।

কিন্তু গায়রে মুকাল্লিদ ভাইয়েরা সূরা ফাতিহার সাথে অতিরিক্ত আয়াত পড়া ওয়াজিব হওয়াকে অস্বিকার করে সরাসরি হাদীসের সাথে বিদ্রোহ করছে কেন?

৪০

ইমাম আহমাদ রহঃ বলেন, আমি আহলে ইসলামের অন্তুর্ভূক্ত কাউকে একথা বলতে শুনিনি যে, যারা বলেন যে, “ইমাম যখন জোরে কিরাত পড়ে, আর মুক্তাদী তার পিছনে কিরাত না পড়ে, তার নামায ভেঙ্গে যায়”।

তিনি আরো বলেনঃ “রাসূল সাঃ এবং তার সাহাবাগণ, এবং তাবেয়ীগণ, আহলে হেজাজের ইমাম মালিক রহঃ, ইরাকের ইমাম সাওরী রহঃ, শামের অধিবাসী ইমাম আওযায়ী রহঃ, মিসরের অধিবাসী ইমাম লাইস রহঃ, তাদের কেউ একথা বলেন নি যে, যখন কোন ব্যক্তি নামায পড়ে, আর তার ইমাম কিরাত পড়ে, আর মুক্তাদী কিরাত না পড়ে, তাহলে তার নামায বাতিল। {মুগনী লিইবনে কুদামা-১/৬০২}

কিন্তু আফসোসের বিষয় হলঃ পুরো উম্মতের খিলাফ গায়রে মুকাল্লিদরা হানাফীদের নামাযকে বাতিল বলে অপপ্রচার করতে লাগল। এ ব্যাপারে চ্যালেঞ্জবাজী শুরু করে দিয়েছে। শত শত ইস্তেহার প্রকাশ করছে।

এর জবাবে পাকিস্তানের মুহাদ্দিসে আজম শাইখুল হাদীস সরফরাজ খান সফদর রহঃ যখন আহসানুল কালাম লিখলেন, তখন গায়রে মুকাল্লিদরা হাতিয়ার ফেলে আত্মসমর্পণ করলেন।

গায়রে মুকাল্লিদ আলেম হাফেজ মুহাম্মদ কান্ধলবী, মাওলানা ইরশাদুল হক আসরী সাহেব পরিস্কার ভাষায় লিখলেন যে, “ইমাম বুখারী রহঃ থেকে নিয়ে বর্তমান জমানা পর্যন্ত কোন মুহাক্কিক আহলে হাদীস আলেমদের লিখায় এ দাবি করা হয়নি যে, সূরা ফাতিহা না পড়লে নামায বাতিল তথা তার নামায হয়নি”। {তাওযীহুল কালাম-১/৯৯}

“ইমাম বুখারী রহঃ থেকে নিয়ে সমস্ত মুহাক্কিক আহলে হাদীস আলেমদের মাঝে আজ পর্যন্ত একথা কেউ বলেনি যে, ফাতিহা না পড়লে নামায হবে না”। {তাওযীহুল কালাম-১/৫১৭}

তাওযীহুল কালামের ৪৩ নাম্বার পৃষ্ঠায় যারা নামায হয় না বলে মত দেন, তাদের গায়রে যিম্মাদার বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

কিন্তু তাদের কাছে যিম্মাদার এমন অনেক আহলে হাদীস আলেমগণ আল্লাহর চেয়ে জনগণকে বেশি ভয় পেয়ে এখনো একথার প্রচার করছে যে, ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা না পড়লে নামায হবে না

৪১

গায়রে মুকাল্লিদদের গায়রে যিম্মাদার সাধারণ ভক্ত ও আলেমদের মতে ইমামের পিছনে কুরআনে কারীমের ১১৪ সূরার মাঝে ১১৩ সূরা পড়া হারাম। শুধুমাত্র এক সূরা তথা সূরা ফাতিহা পড়া ফরজ। যে ব্যক্তি এটি না পড়বে, তার নামায হবে না।

আমাদের চ্যালেঞ্জ হল, পূর্ণ কুরআনে কারীমের একটি আয়াতও নেই, যাতে তাদের এ দাবি বিদ্যমান। কুরআনে কারীম তাদের এ দাবির স্বপক্ষে নয়।

তাদের যিম্মাদার ও গায়রে যিম্মাদারদের দাবিকৃত এ দাবির কারণে তারা কুরআনে কারীমের এক আয়াত নয় বরং ৫টি আয়াতকে আমলহীন সাব্যস্ত করছে। যেমন

فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ ۚ [٧٣:٢٠]

কাজেই কুরআনের যতটুকু তোমাদের জন্যে সহজ, ততটুকু আবৃত্তি কর। {সূরা মুজ্জাম্মিল-২০}

সূরা মুজ্জাম্মিলের এ আয়াত তাহাজ্জুদের ব্যাপারে নাজিল হয়েছে। {সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-১৩০৬, সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-৪৪১৪}

রাসূল সাঃ যখন কাউকে একাকি নামায পড়ার পদ্ধতি শিখাতেন, তখন তিনি বলতেন- اقرأ ما تيسر معك من القران তথা তোমার কাছে যা সহজ তাই তিলাওয়াত কর। {সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৭২৪, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-১৮৯০, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৯১১}

রাসূল সাঃ এর এসব হাদীস গায়রে মুকাল্লিদ ভাইয়েরা মানেন না কেন?

৪২

তারা কোন আয়াতের শানে নুজুল কোন হাদীস দিয়ে এটা প্রমাণ করতে পারবে না যে, এ আয়াত নাজিল হওয়ার আগে মুক্তাদীরা সূরা ফাতিহা পড়তো না বরং অন্য সূরা পড়তো। এ আয়াত নাজিল হয়ে মুক্তাদীর উপর শুধু সূরা ফাতিহা ফরজ করে দেয়,আর বাকি সূরাকে হারাম করে দেয়।

৪৩

তাদের আরেকটি দলিল হল-

وَلَقَدْ آتَيْنَاكَ سَبْعًا مِّنَ الْمَثَانِي وَالْقُرْآنَ الْعَظِيمَ [١٥:٨٧]

আমি আপনাকে সাতটি বারবার পঠিতব্য আয়াত এবং মহান কুরআন দিয়েছি। {সূরা হিজর- ৮৭}

এ আয়াতের না অনুবাদে তাদের উপরোক্ত ৪১ নং এর মত দাবি আছে। না উল্লেখিত ৪২ নাম্বারের অনুরূপ এ আয়াতের শানে নুজুল কোন হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।

৪৪

وَأَن لَّيْسَ لِلْإِنسَانِ إِلَّا مَا سَعَىٰ [٥٣:٣٩]

এবং মানুষ তাই পায়, যা সে করে। {সূরা আননজম-৩৯}

এ আয়াত দিয়ে কেবল ব্যর্থ চেষ্টাই করা যাবে, কিন্তু না এ আয়াতের অনুবাদের সাথে ন্যুনতম কোন সম্পর্ক আছে ইমাম ও মুক্তাদীর কিরাতের সাথে। আর উল্লেখিত ৪১নং দাবি ও এবং ৪২ নং এর অনুরূপ কোন শানে নুজুল ও নেই এ আয়াতের।

৪৫

কুরআনে কারীমের ১১৩ সূরা আপনারা ইমামের পিছনে পড়েন না। ইমামের সুতরা এবং খতীবের খুতবাও সবার পক্ষ থেকে হয়। সেখানে আপনাদের এ আয়াত মনে হয় না কেন?

৪৬

চতুর্থ দলিল হল-

وَاذْكُر رَّبَّكَ فِي نَفْسِكَ تَضَرُّعًا وَخِيفَةً وَدُونَ الْجَهْرِ مِنَ الْقَوْلِ بِالْغُدُوِّ وَالْآصَالِ وَلَا تَكُن مِّنَ الْغَافِلِينَ [٧:٢٠٥]

আর স্মরণ করতে থাক স্বীয় পালনকর্তাকে আপন মনে ক্রন্দরত ও ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় এবং এমন স্বরে যা চিৎকার করে বলা অপেক্ষা কম; সকালে ও সন্ধ্যায়। আর বে-খবর থেকো না। {সূরা আরাফ-২০৫}

এ আয়াতের অনুবাদ না ৪১ নং দাবির সাথে সামাঞ্জস্যশীল না ৪২ নং এর অনুরূপ শানে নুজুলের মাসআলা বিদ্যমান। তাহলে এটি দলিল হয় কি করে?

৪৭

ইমামের পিছনে শুধু সূরা ফাতিহা পড়ে থাকে, কুরআনে কারীমের বাকি ১১৩ সূরা না পড়ার কী কারণ?

উল্লেখিত ৪টি আয়াত ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়ার দলিল হিসেবে মৌলবী ইরশাদুল হক আসরী এবং তার উস্তাদ হাফেজ মুহাম্মদ কান্ধলবী সাহেব উপস্থাপন করেছেন।

৪৮

পঞ্চম আয়াত তাদের জামাতের আমীর মৌলবী মুহাম্মদ ইসমাঈল সালাফী সাহেব পেশ করেছেন। সেটি হল-

وَمَنْ أَعْرَضَ عَن ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَىٰ [٢٠:١٢٤]

এবং যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবিকা সংকীর্ণ হবে এবং আমি তাকে কেয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করব। {সূরা ত্বহা-১২৪}

এ আয়াতেরও কোন সম্পর্ক নেই আলোচিত মাসআলার সাথে। না আছে ৪১ নং দাবির সাথে কোন সম্পর্ক, না ৪২ নং এর অনুরূপ শানে নুজুল।

সেই সাথে ১১৩ সূরা থেকেও সালাফী সাহেব মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা হিফাযত করুন।

৪৯

ছষ্ঠ আয়াত মৌলবী মুহাম্মদ সাদেক সারকুধী সাহেব উপস্থাপন করেছেন। সেটি হল-

أَلَّا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَىٰ [٥٣:٣٨]

কিতাবে এই আছে যে, কোন ব্যক্তি কারও গোনাহ নিজে বহন করবে না। {সূরা আননজম-৩৮}

এ আয়াতের সাথেও আলোচিত মাসআলার কোন সম্পর্ক নেই। না আছে ৪১ নং দাবির সাথে, না আছে ৪২ নং এর মত শানে নুজুলের সাথে। এ আয়াত একথারও জবাব হয়নি যে, কেন ইমাম ১১৩ সূরা, খুতবা এবং সুতরার বুঝার ভার বহন করে?

সুপ্রিয় পাঠক/পাঠিকা!

লক্ষ্য করুন। কুরআনে কারীম এর আয়াত নিয়ে কেমন তামাশা করা হয়েছে। যে মাসআলা কুরআনে কারীমে নেই, সেটিকে কুরআনে কারীমে আছে বলে উল্লেখ করা কত বড় গোনাহ ও নাফরমানীর কাজ। এ কথিত আহলে হাদীস ফিরক্বার যিম্মাদার ওলামাদেরই এর দায়ভার নিতে হবে।

৫০

কুরআনে কারীমের আয়াত-

وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنصِتُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ [٧:٢٠٤]

আর যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তাকে কান লাগিয়ে রাখ এবং নিশ্চুপ থাক, যাতে তোমাদের উপর রহমত হয়। {সূরা আলআরাফ-২০৪}

ইমাম আহমাদ রহঃ বলেন যে, লোকদের ঐক্যমত্ব একথার উপর যে, এ আয়াত নামাযের ব্যাপারে নাজিল হয়েছে। {মুগনী লিইবনে কুদামা-১/৬০৫, ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া-২/৪১২}

কিন্তু এ আয়াতও তাদের দাবিকে প্রমাণিত করে না। ৪১ নং দাবিকেও নয়, ৪২ নং এর মত শানে নুজুল হিসেবেও নয়।

৫১

রাসূল সাঃ যখন নামাযের পদ্ধতি শিখালেন, তখন বললেন- وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَانصِتُوا তথা যখন কুরআন পড়া হয়, তখন চুপ থাক। {সহীহ মুসলিম-১/১৭৪, মুসনাদে আহমাদ-১/৪১৫}

এ বর্ণনা হযরত আবু হুরায়রা রাঃ, হযরত আনাস রাঃ, হযরত ওমর রাঃ, হযরত উসমান রাঃ, হযরত আলী রাঃ, হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ, হযরত জায়েদ বিন আসলাম এবং হযরত জুহরী রহঃ থেকেও বর্ণিত।

সেই সাথে এই শানে নুজুলও হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাঃ, হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ,হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ, হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাগফাল রাঃ সহ অনেক তাবেয়ী থেকে বর্ণিত।

আলহামদুলিল্লাহ! কুরআনে কারীমের ছায়া আমাদের উপর। গায়রে মুকাল্লিদরা কেবল জিদের বশে আমাদের বিরোধীতা করছে। আর কিছু নয়।

৫২

যেমনিভাবে কুরআনে কারীরে আয়াত দিয়ে গায়রে মুকাল্লিদদের এ মাসআলা প্রমাণিত নয়, তেমনি খাইরুল কুরূনে লিখা হাদীসের কিতাব, “মুয়াত্তা মালিক” ইমাম মুহাম্মদ রহঃ এর ”কিতাবুল আসার” ইমাম আবু ইউসুফ রহঃ এর “কিতাবুল আসার” কিতাবুল হুজ্জাত আলা আহলিল মদীনাহ, মুসনাদে ইমাকে আযমসহ কোন হাদীসের কিতাবের একটি হাদীসও তাদের ৪১ নং দাবির স্বপক্ষে পেশ করতে পারবে না।

৫৩

এমনিভাবে খাইরুল কুরুনের পর লিখা হাদীসের কিতাবের মাঝে বুখারী মুসলিমের কোথাও তাদের উপরোক্ত দাবির স্বপক্ষে কোন সহীহ ও সুষ্পষ্ট দলিল নেই।

৫৪

সুনান হাদীস গ্রন্থসমূহের থেকে ওবাদা বিন সামেত রাঃ এর ফজর নামাযের ঘটনা সম্বলিত হাদীস দলিল হিসেবে পেশ করে থাকে। কিন্তু হাদীসটি সহীহ নয়। এতে মুহাম্মদ বিন ইসহাক রয়েছেন। তিনি জয়ীফ ও মুদাল্লিস সেই সাথে মাকহুলের সাথীদের সাথে বিরোধীতার কারণে তিনি শাজ ও মুনকার। মাকহুলের তাদলীস, ইরসাল, এবং নাফে বিন মাহমুদের জাহালাতসহ সব দোষই তাতে বিদ্যমান।

৫৫

হানাফীদের মতে যে ব্যক্তি রুকু পেল সে উক্ত রাকাত পেল মাসআলার বিরোধী কুরআন ও ইজমায়ে উম্মতের বিরোধীতা। সেই সাথে প্রসিদ্ধ হাদীস قراء الامام له قراء এর ও বিপরীত।

মোটকথা যতক্ষণ পর্যন্ত গায়রে মুকাল্লিদ ভাইয়েরা এটাকে সহীহ মুত্তাফাক আলাই এবং واذا قرئ الرآن الخ এর পর প্রমাণিত না করে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের কিছুই প্রমাণিত হয় না। আর এ দুটি কথা তারা কিয়ামত পর্যন্ত প্রমানিত করতে পারবে না।

৫৬

এ দুর্বল ও মুনকার হাদীসেও জোরে কিরাত পড়া নামাযের কথা উল্লেখ আছে। কিন্তু বাকি এগার রাকাত যাতে ইমাম সাহেব আস্তে আস্তে কিরাত পড়েন, তাতে মুক্তাদীরা ইমামের পিছনে সুরা ফাতিহা না পড়লে তার নামায বাতিল ও বেকার একথা তারা কোন দুর্বল হাদীস দিয়েও স্পষ্ট প্রমাণ করতে পারবে না।

কাফেরদের আয়াত

৫৭

গায়রে মুকাল্লিদদের যখন প্রশ্ন করা হয় যে, আপনারা واذا قرئ القرآن الخ আয়াতটি মানেন না কেন? তখন তারা তৎক্ষণাৎ জবাব দেয় যে, এ আয়াত কাফেরদের জন্য নাজিল হয়েছে। আমাদের জন্য নয়।

যখন বলা হয় যে, এটি কাফেরদের জন্য নাযিল হয়েছে কোন একটি হাদীস দিয়ে প্রমাণ করুন। তখন গালি দেয়া শুরু করে দেয়।

মুনাযাআত হাদীসের আলোচনা

৫৮

গায়রে মুকাল্লিদদের প্রসিদ্ধ আলেম নাসীরুদ্দীন আলবানী রহঃ ফজর নামাযের ঘটনা সম্বলিত উবাদা রাহঃ এর হাদীসকে তার প্রণীত কিতাব “সিফাতু সালাতিন নাবিয়্যি” এর মাঝে রহিত হয়ে গেছে সাব্যস্ত করেছেন। হাদীসে মুনাযাআতকে এর রহিতকারী সাব্যস্ত করেছেন।

হাদীসে মুনাযাআত হযরত আবু হুরায়রা রাঃ, হযরত আব্দুল্লাহ বিন বুহাইনা রাঃ, হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাঃ, হযরত ইমরান বিন হুসাইন রাঃ, হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ, হযরত আনাস বিন মালিক রাঃ এবং হযরত ওমর রাঃ থেকে বর্ণিত।

অথচ গায়রে মুকাল্লিদরা কেবল জিদের বশে নিজের নফস পূজা করে এ হাদীসকে অস্বিকার করে। এছাড়া আর কোন কারণ নেই।

৫৯

হাদীসে মুনাযাআত দ্বারা একথাও প্রমাণিত যে, ইমামের পিছনে কিরাত পড়াকারীর উপর রাসূল সাঃ অসন্তুষ্ট হয়েছেন। তাদের ধমক দিয়েছেন। কিন্তু গায়রে মুকাল্লিদদের রাসূল সাঃ এর অসন্তুষ্টির ব্যাপারে কোন পরওয়া নেই।

কেরাত খালফাল ইমাম তথা ইমামের পিছনে কেরাত পড়া প্রসঙ্গে

৬০

হাদীসে মুনাযাআত দ্বারা একথাও প্রমাণিত যে, জোরে কেরাত পড়া নামাযে সমস্ত সাহাবা ও তাবেয়ীগণ ইমামের পিছনে কেরাত ছেড়ে দিয়েছিলেন। গায়রে মুকাল্লিদরা এ ইজমাকেও মানে না।

৬১

যেমনিভাবে একটি আজান সমস্ত মহল্লার জন্য যথেষ্ঠ। এক ইকামত পূর্ণ জামাতের জন্য যথেষ্ঠ। ইমামের সুতরা সকল মুক্তাদীর জন্য যথেষ্ঠ। খতীবের খুতবা জুমআয় উপস্থিত সকলের জন্য যথেষ্ঠ। এমনিভাবে হাদীসে এসেছে যে, ইমামের কেরাত মুক্তাদীর জন্য যথেষ্ঠ।

এ হাদীসটি হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাঃ, হযরত আবু দারদা রাঃ, হযরত আনাস রাঃ, হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ, হযরত আলী রাঃ, হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাঃ, হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাঃ, হযরত নাওয়াস বিন সামআন রাঃ এবং হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। কিন্তু গায়রে মুকাল্লিদরা শুধুমাত্র গোঁড়ামির কারণে উক্ত হাদীসকে মানে না।

৬২

যখন বলা হয় যে, আপনারা এতগুলো হাদীসের বিপরীতে একটি সহীহ হাদীস পেশ করুন, যাতে রাসূল সাঃ বলেছেন যে, ইমামের কিরাত মুক্তাদীর কিরাত কখনোই নয়। এরকম কোন হাদীস জিন্দেগীতে উপস্থাপন করতে পারবে?

৬৩

আজকালের গায়রে মুকাল্লিদগণ কুরআন ও সিহাহ সিত্তার সহীহ হাদীস এবং ইজমায়ে উম্মতের বিপরীত “কিতাবুল কিরাতে” বাইহাকীর ৫৬ নং পৃষ্ঠায় একটি হাদীস উপস্থাপন করে থাকে। সেটা হল- لا صلاة لمن لم يقرأ بفاتحة الكتاب خلف الإمام [তথা ঐ ব্যক্তির নামায হয় না যে ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা না পড়ে]।

কিন্তু এ হাদীসটি কিছুতেই সহীহ নয়। কারণ হাদীসটির সনদের ভিত্তি হল যুহরী। আর তিনি عن শব্দে বর্ণনা করছেন। আর গায়রে মুকাল্লিদরা মুদাল্লিস এর আনআনাহ কে জঈফ বলে থাকে।

তাছাড়া এ যুহরী এ “কিতাবুল কিরাতে” বর্ণনা করেন যে, সাহাবাগণ واذا قرئ القرآن الخ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে ইমামের পিছনে কিরাত পড়তেন। এ আয়াত নাজিল হওয়ার পর তা বন্ধ হয়ে যায়। স্বয়ং যুহরী নিজেই উক্ত হাদীসকে রহিত হওয়ার বিষয়টি বলে দিয়েছেন।

যুহরী থেকে ১৪জন ছাত্র لا صلاة لمن الخ হাদীসটি বর্ণনাকারী। কিন্তু ইউনুস ছাড়া কেউ বর্ণনায় خلف الامام তথা ইমামের পিছনে শব্দটি বলেননি। আর ইউনুসেরও ছাত্র ৩ জন। তাদের মাঝে দুইজন এ শব্দ বর্ণনা করেননি। শুধুমাত্র উসমান বিন আমর নামের একজন তা বর্ণনা করেছেন।

আর উসমান বিন আমরের ছাত্র ২জন। এক ছাত্র হাসান বিন মুকাররম এ শব্দ বর্ণনা করেন না। দ্বিতীয় ছাত্র মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আসসাফফার কেবল তিনি সারা উম্মতের খেলাফ এ خلف الإمام শব্দটি বর্ণনা করেন।

মৌলবী ইরশাদুল হক আসরী নিজের ১৩শতের অধিক পৃষ্ঠার কিতাবে গালি দিয়েতো ভরেছেন, কিন্তু মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আসসাফফার এর নির্ভরযোগ্যতার ব্যাপারে রিজালশাস্ত্র এর একটি গ্রহণযোগ্য কিতাব থেকে প্রমাণ করতে পারেন নি। কিয়ামত পর্যন্ত আর পারবেনও না ইনশাআল্লাহ।

আফসোস! এরকম অপ্রমাণিত বর্ণনাকে বাহানা বানিয়ে কুরআনকে অস্বিকার করে যাওয়া হচ্ছে। সহীহ হাদীসকে বাদ দেয়া হচ্ছে। ইজমায়ে উম্মত থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। আর সমস্ত হানাফীদের বেনামাযী বকে যাচ্ছে। আল্লাহ হিফাযত করুন।

৬৪

তারপর এ কিতাবুল কিরাত বায়হাকীর ১৩৬ পৃষ্ঠায় হযরত জাবের রাঃ, ১৭১ পৃষ্ঠায় হযরত আবু হুরায়রা রাঃ, ১৭৩ পৃষ্ঠায় হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে হাদীস বর্ণিত। হাদীসটি হল- ফাতিহা ছাড়া নামায অসম্পূর্ণ। কিন্তু ইমামের পিছনে পড়বে না।

এ হাদীসকে তারা অস্বিকার করে কেন?

৬৫

মৌলবী ইরশাদুল হক আসরী সাহেব এবার একটি নতুন হাদীস তালাশ করলেন। যাতে করে কুরআনের বিরোধীতার হাতিয়ার পাওয়া যায়। তারপর কুরআনে কারীমকে মসজিদের বাহির করে গায়রে মুকাল্লিদরা হাদীস জিন্দাবাদ স্লোগান দিতে পারে।

তারা একথাও জানে না যে, কুরআনে কারীম, মশহুর হাদীস এবং ইজমায়ে উম্মতের মুকাবিলার জন্য কমপক্ষে মুতাওয়াতির হাদীস আনা চাই। কিন্তু খবরে ওয়াহিদ যা আবার সহীহ নয় এমন এক হাদীস উপস্থাপন করে, যাতে তাদের পূর্ণ দাবিও নেই, না তাতে একথা আছে যে, ইমামের পিছনে ১১৩ সূরা পড়া হারাম, আর না একথা আছে যে, ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়া ফরজ। একথাও নেই যে, যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা না পড়ে তার নামায বাতিল এবং বেকার। তাহলে এ হাদীস আনার মানে কি?

৬৬

মোটকথা, না দাবিটির পক্ষে স্পষ্ট বক্তব্য আছে। না হাদীসটি সহীহ। মাকহুলের তাদলীস। সাঈদ বিন আব্দুল আজীজের ইখতিলাত। উতবা থেকে বুখারী, মুসলিম, তিরমিজী, নাসায়ী ও আবু দাউদের বর্ণনা না নেয়া। এছাড়া হুয়াইত বিন আহমদ এর নির্ভরযোগ্যতা আসমায়ে রিজালের মুসতানাদ কিতাব থেকে প্রমাণ করতে আসরী এবং তারা পূর্ণ জামাত অপারগ। আসরী সাহেব গালির আরো দুই হাজার পৃষ্ঠা লিখতে পারেন, কিন্তু এর নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণ করতে পারবেন না।

পাঠকবৃন্দ! লক্ষ্য করুন! কুরআন হাদীসের অনুসরণের স্লোগান দিয়ে কিভাবে কুরআন হাদীস ও ইজমায়ে উম্মত এর সাথে বিদ্রোহ করছে।

৬৭

রাসূল সাঃ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যখন সর্বশেষ জামাতের সাথে নামায পড়েছেন। সে নামাযে প্রমাণ করুন রাসূল সাঃ হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাঃ এর পিছনে পড়া প্রথম রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়েছেন। তারপর দ্বিতীয় রাকাতে আবু বকর সিদ্দিক রাঃ ইমাম রাসূল সাঃ এর পিছনে মুক্তাদী হয়ে সূরা ফাতিহা পড়েছেন প্রমাণ করুন। এটা কস্মিনকালেও প্রমাণ করতে পারবে না।

৬৮

রাসূল সাঃ এর মেরাজের পূর্বে সূরা ফাতিহা নাজিল হয়েছিল। নামাযও পড়তেছিলেন। রাসূল সাঃ মেরাজের রাতে নবীগণের ইমামতী করেছেন। এবার একটি হাদীস দিয়ে কি প্রমাণ করতে পারবেন যে, রাসূল সাঃ প্রথমে সূরা ফাতিহা পড়েছেন,তারপর পরের রাকাতে তারাও সূরা ফাতিহা পড়েছেন?

৬৯

যখন গায়রে মুকাল্লিদদের এটা নিশ্চিত হয়ে গেছে যে, তারা واذا قرئ القرآن الخ এর পর একটাও সহীহ সরীহ হাদীস পেশ করতে অপারগ। তখন তারা ওয়াসওয়াসা ঢালতে শুরু করে দিয়েছে যে। واذا قرئ القرآن الخ আয়াতকে রদ করার জন্য বলেঃ সূরা ফাতিহা কুরআনের অন্তর্ভূক্ত নয়।

আমরা তাদের বলি তোমরা সমগ্র পৃথিবীর মাঝে একটি কুরআন দেখাতে পারবে যাতে সূরা ফাতিহা নেই? আমরা বুখারী শরীফ থেকে প্রমাণ করতে পারবো যে, সূরা ফাতিহা কুরআনের অন্তর্ভূক্ত। তারা এমন একটি হাদীসও দেখাতে পারবে না, যাতে রাসূল সাঃ বলেছেন যে, সূরা ফাতিহা কুরআন নয়। তাদের পক্ষে হাদীস থাকুক আর নাই থাকুক জিদতো আছে।

৭০

সহীহ হাদীসগুলোকে রদ করার জন্য বলে থাকে যে, রাসূল সাঃ কেরাত পড়তে নিষেধ করেছেন, ফাতিহা কেরাত নয়।

আশ্চর্য! তাহলে একটি হাদীস দেখান, যাতে বলা হয়েছে যে, সূরা ফাতিহা কেরাত নয়,বরং বাকি সূরা ফাতিহা কেরাত। কিয়ামত পর্যন্ত চেষ্টা করে এমন হাদীস বা আয়াত দেখাতে পারবে? দেখাতে পারুক আর না পারুক। জিদতো দেখাতেই পারবে। তাইনা?

৭১

কুরআন ও হাদীসে মুক্তাদীদের চুপ থাকার হুকুম এসেছে। তাই তাদের দলিল হল যে, ঠোট নাড়িয়ে, জিহবা দিয়ে আস্তে আস্তে পড়লে তা চুপ থাকার আদেশ অমান্য করা হয় না। অথচ বুখারী শরীফে হযরত ইবনে আব্বাস থেকে প্রমানিত যে, জিহবা নাড়ানো, আর ঠোট হেলানোও চুপ থাকার বিরোধীতা হয়। দেখুন-বুখারী, হাদীস নং-৭০৮৬। তারপরও নিজের জিদ ছাড়তে নয় কথিত আহলে হাদীস ভাইয়েরা।

৭২

হাফেজ ইবনে আব্দিল বার রহঃ বলেনঃ রুকুতে যে মুক্তাদী এসে শরীক হয়, সে মুক্তাদী উক্ত রাকাত পেয়েছে একথার উপর পূর্ণ উম্মতের ইজমা তথা ঐক্যমত্ব। মাওলানা ইরশাদুল হক আসরী সাহেবও মানেন যে, মুহাদ্দিসীন ও ফুক্বাহাদের অধিকাংশের বক্তব্য হল যে, রুকুতে পাওয়া রাকাত হয়ে যায়। {তাওযীহুল কালাম-১/১৪২}

কিন্তু গায়রে মুকাল্লিদ ভাইয়েরা পুরো উম্মতের বিপরীত জিদের বশে বলে বেড়ায় যে, রুকুতে পাওয়া রাকাত হয় না। অথচ একটি সহীহ হাদীসও দেখাতে পারে না, যাতে একথা বলা হয়েছে যে, রাসূল সাঃ রুকুতে পাওয়া রাকাত দ্বিতীয়বার পড়তে বলেছেন।

ফাতাওয়া সেতারিয়ায় মৌলবী আব্দুস সাত্তার, জামাআতে গুরাবায়ে আহলে হাদীস এর ইমাম হাদীস ও ইজমায়ে উম্মত দ্বারা একথা প্রমাণ করেছেন যে, রুকুতে পাওয়া রাকাত হয়ে যায়।

তারপরও জিদের বশে গায়রে মুকাল্লিদ ভাইয়েরা এ সকল হাদীস ও ইজমাকে অস্বিকার করে থাকে।

আমীন বলা বিষয়ে পর্যালোচনা

৭৩

গায়রে মুকাল্লিদ ভাইয়েরা যখন একাকি নামায পড়ে, তখন সর্বদা আমীন আস্তে বলে। একটি সহীহ সরীহ হাদীস পেশ করতে বলুন যাতে একাকি নামায আদায়কারীর জন্য আমীন আস্তে বলতে বলা হয়েছে।

৭৪

কথিত আহলে হাদীস ভাইয়েরা ইমামের পিছনে সর্বদা এগার রাকাত নামাযে আমীন আস্তে বলে থাকে। যথা জোহরের চার রাকাত ফরজে, আসরের চার রাকাত ফরজে, মাগরিবের ফরজ নামাযের শেষ রাকাতে এবং ইশার শেষ দুই রাকাতে।

এ এগার রাকাতে আস্তে পড়ার বিধান কোন সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত? এতে জোরে আমীন বলা নিষেধ কোন হাদীসের ভিত্তিতে?

৭৫

যে ৬ রাকাত নামাযে ইমাম জোরে কিরাত পড়ে থাকে, [ফজরের ফরজ দুই রাকাত, মাগরিবের ফরজের প্রথম দুই রাকাত ও ইশার ফরজের প্রথম দুই রাকাত] উক্ত ছয় রাকাত যদি ইমামের পিছনে মুক্তাদী কোনক্রমে না পায়, তাহলে উক্ত ছয় রাকাত যখন একাকী পূর্ণ করে তখনও তারা জোরে আমীন বলে না? কেন? কোন সহীহ হাদীসের ভিত্তিতে এতে জোরে আমীন বলার নিষেধাজ্ঞা এসেছে? আস্তে আমীন বলার আদেশও বা কোন সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত?

৭৬

যে ছয় রাকাতে ইমাম কেরাত জোরে পড়ে থাকে, উক্ত ছয় রাকাত নামাযে যদি কোন মুসল্লি দেরী করে শরীক হওয়ার কারণে এসে দেখে যে, ইমাম সাহেব সূরা ফাতিহা অর্ধেক পড়ে ফেলেছে, আর মুক্তাদী মাত্র সূরা ফাতিহার শুরুর الحمد لله رب العلمين বলেছে, এমন সময় ইমাম সাহেব وَلَا الضَّالِّينَ

বললেও মুক্তাদী সূরা ফাতিহা শেষ না করলেও আমীন জোরে বলে তারপর বাকি সূরা ফাতিহা পূর্ণ করে থাকে। এখন প্রশ্ন হল পূর্ণ সূরা ফাতিহা শেষ না করে শুধু الحمد لله رب العلمين পড়ে এভাবে আমীন বলা কোন হাদীস দ্বারা প্রমাণিত? দয়া করে জানাবে কি?

৭৭

রাসূল সাঃ কোন সহীহ হাদীসে এ হুকুম দিয়েছেন যে, ইমামের পিছনে ছয় রাকাতে জোরে আমীন বলবে, আর এগার রাকাতে আমীন আস্তে বলতে হবে?

৭৮

রাসূল সাঃ মুক্তাদী হয়ে সারা জীবনে কোন নামাযে জোরে আমীন বলেছেন এমন একটি সহীহ হাদীস দয়া করে পেশ করুন।

৭৯

রাসূল সাঃ এর ২৩ বছরের নবুওতী জীবনে রাসূল সাঃ এর পিছনে কোন সাহাবী অন্তত এক রাকাতেও জোরে আমীন বলেছেন এমন কোন সহীহ সরীহ হাদীস আছে?

সাহাবীগণ আমীন জোরে বলার কারণে মসজিদে গুঞ্জন উঠে যেত মর্মে সুনানে ইবনে মাজাহ এর যে হাদীস উপস্থাপন করা হয়, সেটা দুর্বল হাদীস। এ কারণেই সালাতুর রাসূল কিতাবের টিকায় গায়রে মুকাল্লিদ আলেম আব্দুর রউফ সাহেব লিখেন যে, “এর সনদ দুর্বল”। কারণ এতে বিশর বিন রাফে জঈফ। আর আব্দুল্লাহ মাজহুল। {সালাতুর রাসূল-২৩৯} এছাড়া ইবনে হিব্বান রঃ উক্ত হাদীসকে মওজু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আর গায়রে মুকাল্লিদদের ইমাম আলবানী রহঃ ও এটাকে দুর্বল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। দেখুন-সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৮৫৩}

তাহলে এ হাদীস দিয়ে কুরআন ও সহীহ হাদীসওয়ালা ভাইরা দলিল দেন কি করে?

৮০

এ হাদীস দুর্বল ইবনে হিব্বান রহঃ এর মতে মওজু হওয়া সত্বেও এটি কুরআনে কারীমের আয়াতেরও বিপরীত। কেননা কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে যে, নবীজী সাঃ এর আওয়াজের উপর কারো আওয়াজ উচু হওয়া জায়েজ নয়। এমন করলে সকল আমল বরবাদ হয়ে যাবে। {সূরা হুজুরাত-২}

অথচ এ হাদীসে এসেছে যে, রাসূল সাঃ এর কেরাত কেবল প্রথম কাতারে থাকা সাহাবাগণই শুনতো, আর মুক্তাদী সাহাবাগণের আওয়াজ রাসূল সাঃ এর আওয়াজের তুলনায় এতটাই উঁচু ছিল যে, পুরো মসজিদে গুঞ্জরিত হয়ে যেত। তাহলেতো নবীজী সাঃ এর আওয়াজের উপর সাহাবাগণের আওয়াজ উঁচু হওয়ায় কুরআনের ভাষ্য অনুযায়ী সাহাবাগণের নামায বাতিল সাব্যস্ত হয়। [নাউজুবিল্লাহ]

৮১

জঈফ ও কুরআনের খেলাফ হওয়ার সাথে এটি সাহাবাগণ ও তাবেয়ীগণের ইজমার ও বিপরীত। কেননা, এই হাদীসেই হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ এর ফরমান ترك الناس التأمين তথা “লোকেরা আমীন [জোরে] বলাকে ছেড়ে দিয়েছেন”।

আর একথাতো স্পষ্ট যে, সে জমানায় লোক বলতে সাহাবা তাবেয়ীগণকেই বুঝানো হয়েছে।

৮২

জঈফ, খেলাফে কুরআন, ইজমার খিলাফ হওয়ার সাথে সাথে এটি আমলের খেলাফ। কেননা প্রতিধ্বনি উঠার বিষয়তো বিল্ডিংয়ে সৃষ্টি হয়। আর নবীজী সাঃ এর জমানায়তো মসজিদ ছিল কাঁচা ইটের। খেজুরের ডালও পাতা দিয়ে মসজিদ বানানো হতো। এতোতো প্রতিধ্বনি সৃষ্টি হতেই পারে না।

দেখুন গায়রে মুকাল্লিদরা কিভাবে কুরআনের খেলাফ, হাদীসের খেলাফ, ইজমার খেলাফ, যুক্তির খেলাফ দুর্বল বর্ণনা নিয়ে দেশব্যাপী ফিতনা বিস্তার করে যাচ্ছে। আল্লাহ তাআলা এদের হাত থেকে জাতিকে হিফাযত করুন।

৮৩

গায়রে মুকাল্লিদদের ইমাম সাহেব ১১ রাকাতে আস্তে আমীন বলে থাকে। এ কর্ম কোন সহীহ হাদীসের ভিত্তিকে করা হয়?

৮৪

তাদের ইমাম নামাযের ছয় রাকাতে আমীন আস্তে বলে। একথা কোন সহীহ সরীহ হাদীসে স্পষ্টাক্ষরে উল্লেখ আছে?

৮৫

সুবিশাল হাদীস ভান্ডারে খুলাফায়ে রাশেদীনের ব্যাপারে একটি বর্ণনাও এমন নেই যে, যাতে প্রমাণিত যে, খলীফায়ে রাশেদীনরা ইমাম বা মুক্তাদী হয়ে আমীন জোরে জোরে বলেছেন। আছে?

৮৬

একটি হাদীসও নেই যাতে একথা আছে যে, খুলাফায়ে রাশেদীনদের জামানায় কোন একজন মুসল্লিও একদিনের কোন নামাযের কোন রাকাতে আমীন জোরে জোরে বলেছেন।

৮৭

আবু ওয়াইল বিন হুজুর রাঃ এর যে হাদীস আবু দাউদ থেকে পেশ করা হয় উক্ত হাদীস একেতো সহীহ নয়। কারণ এর সনদে থাকা সুফিয়ান মুদাল্লিস। আলী বিন সালেহ শিয়া, মুহাম্মদ বিন কাসীর জয়ীফ। এছাড়া এ হাদীসে সর্বদা আমীন জোরে বলার কোন কথা নেই।

৮৮

আর উম্মুল হুসাইন এর হাদীসের মাঝে নজর বিন শুমাইল মুতাআসসিব, হারুনুল আওয়ার শিয়া, ইসমাইল বিন মুসলিম মক্কী জঈফ, আবু ইসহাক মুখতালাত, ইবনে উম্মুল হুসাইন মাজহুল।

এরকম হাদীস গায়রে মুকাল্লিদ ভাইদের কাছে গ্রহণীয়?

৮৯

কুরআনে পাকের সূরায়ে ইউনুসে হযরত ঈসা আঃ এর দুআর পর আল্লাহ তাআলার ফরমান হল- قد اجيبت دعوتكما তথা তোমাদের উভয়ের দুআ কবুল করে নেয়া হয়েছে।

সমস্ত মুফাসসিরীনে কেরাম এ ব্যাপারে একমত যে, মুসা আঃ এর সাথে হারুন আঃ ছিলেন। তিনি দুআ করছিলেন শুধু আমীন আমীন বলে। আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে হারুন আঃ এর উক্ত আমীন বলাকে দুআ বলে সম্বোধন করেছেন। আর সহীহ বুখারীর প্রথম খন্ডের ১০৭ নং পৃষ্ঠায় এসেছে যে, وقال عطاء آمين الدعاء তথা আতা বলেছেন যে, আমীন হল দুআ। কিন্তু গায়রে মুকাল্লিদ ভাইয়েরা আমীন যে দুআ তা অস্বিকার করে আল্লাহর বাণী, মুফাসসিরীনদের ইজমা অমান্য করে।

৯০

দুআর নিয়ম কুরআনে এসেছে যে, ادعوا ربكم تضرعا وخفية তথা তোমরা তোমাদের রবের কাছে দুআ কর বিনয়ের সাথে ও আস্তে আওয়াজে। {সূরা আরাফ- ৭}

إِذْ نَادَى رَبَّهُ نِدَاءً خَفِيًّا [যাকারিয়া আঃ] স্বীয় রবের কাছে দুআ চান আস্তে আস্তে। {সূরা মরিয়ম-৩}

হাদীসে দুআর মূলনীতি হল যে, আস্তে আওয়াজে দুআ করা উঁচু আওয়াজে ৭০বার দুআ করার সমান। [اخرجه ابو الشيخ عن انس مرفوعا بسند صحيح ] {ফাতহুল কাদীর}

সুতরাং একথা প্রমাণিত যে, আমীন হল দুআ। আর দুআর মাঝে আসল হল আস্তে আস্তে বলা। এ কারণে ইমাম হোক বা একাকী নামায আদায়কারী হোক কিংবা মুক্তাদী হোক আমীন আস্তে বলাই উচিত।

৯১

গায়রে মুকাল্লিদ ভাইদের কাছে আমাদের চাওয়া হল, তারা কুরআন ও সহীহ হাদীস দিয়ে একথা প্রমাণ করে দিন যে, আমীন দুআ নয়। আর একথাও প্রমাণ দিন যে, দুআর মাঝে আস্তে নয় জোরে বলা উত্তম।

৯২

হযরত ওয়াইল বিন হুজুর রাঃ এর বর্ণনা হল- রাসূল সাঃ ولا الضالين বলার পর আমীন আস্তে বলেছেন। [দ্রষ্টব্য- মুসনাদে আহমদ-৪/৩১৬, হাদীস নং-১৮৮৪৩, সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-২৪৮, মুস্তাদরাকে হাকেম-২/২৩২}

قال الحاكم على شرطها واقره الذهبى

৯৩

হযরত ওমর রাঃ, হযরত আলী রাঃ, হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ ও আস্তে আস্তে আমীন বলতেন। {তাহাবী, তাবারানী}

৯৪

যুক্তিও এটা বলে যে, আমীন কুরআনে নেই। এজন্য যে, কুরআন উঁচু আওয়াজে পড়া হবে, আর আমীন আস্তে আওয়াজে পড়া হবে, যেন কারো এ ব্যাপারে সন্দেহ না হয় যে, আমীন কুরআনের অন্তর্ভূক্ত।

৯৫

পাকিস্তান ও ভারতে ইসলাম আগমণের ১৩ শতাব্দী অতিক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু ১২শত বছর ধরে এখানের সকল কুরআন হাদীস, খুলাফায়ে রাশেদীন ও সাহাবাদের আমলের অনুরূপ আমীন আস্তে বলে আসছে। এ ১২শত বছরের মধ্যে এখানে না কেউ আমীন আস্তে বলার বিরুদ্ধে পুস্তক লিখেছে। না কেউ এ ব্যাপারে বাহাসের চ্যালেঞ্জ করেছে।

১২শত বছর পর মুহাদ্দিস, আলেম বা সুফী কেউ নয়, বরং ফাখের ইলহাবাদী সর্বপ্রথম এ উপমহাদেশে আমীন জোরে বলা সংস্কৃতি শুরু করে।

প্রসিদ্ধ গায়রে মুকাল্লিদ ঐতিহাসিক ইমাম খান নওশহারয়ী সাহেব লিখেন যে, “মাওলানা শাহ মুহাম্মদ ফাখের ইলহাবাদী সর্বপ্রথশ দিল্লি জামে মসজিদে আমীন জোরে বলে তাকলীদের গোঁড়ামী দূরিভূত করেন। {নকুশে আবুল ওয়াফা-৩৪}

লক্ষ্য করুন! কুরআন হাদীস এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের মতকে কিভাবে তাকলীদের গোঁড়ামী বলে কুরআন ও সুন্নতের সাথে বিদ্রোহ করে নিজেদের ভদ্রতার মুখোশ উন্মেচিত করছে।

কে এই মাওলানা ফাখের ?

তার ব্যাপারে মাওলানা সানাউল্লাহ উমরতাসরী সাহেব লিখেনঃ

না জানে দ্বীনে হক, মাযহাবও কি তাও জানে না,

জুব্বা পরে পাগড়ি বেঁধে পরিচয় দেয় মাওলানা। [ফাতাওয়া সানাইয়্যাহ-১/১০৩}

দ্বিতীয়বার জোরে আমীন ইংরেজ সরকারের চাকরিজীবি হাফেজ ইউসুফ দিয়েছেন। {নুকুশে আবুল ওয়াফা-৪২}

এ লোক পরবর্তীতে কাদিয়ানী হয়ে যায়। ইশাআতুস সুন্নাহ এর ২১ নং খন্ডের ১১৪ নং পৃষ্ঠায় এসেছে যে, আমরতাসর এ সর্ব প্রথম হাদীসের উপর আমল শুরুকারী ডেপুটি কালেক্টর হাফেজ মুহাম্মদ ইউসুফ সাহেব মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর সহকারী হয়ে যায়।

এমনিভাবে ইংরেজ আমলে এ মাসআলাকে মুসলমানদের মাঝে প্রচার করা শুরু হয়।

গায়রে মুকাল্লিদদের কাছে প্রশ্নঃ আপনারা ইংরেজ আমলের আগে উপমহাদেশের একটি মসজিদ দেখান যেখানে ইংরেজরা আসার আগে আমীন জোরে বলা হত।

৯৬

কুরআনে পাকের নীতি, সহীহ হাদীস, খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নত এবং সাহাবাগণের আমলের বিপরীত জোরে আমীন বলার যে দুর্বল হাদীস গায়রে মুকাল্লিদগণ উপস্থাপন করে থাকেন, সে ব্যাপারে খোদ ওয়াইল বিন হুজুর রাঃ ব্যাখ্যা করে বলেনঃ ما أراه إلا ليعلمنا তথা শুধুমাত্র নামায শিখানোর জন্য উঁচু আওয়াজে বলা হয়েছে। {কিতাবুল আসমায়ি ওয়াল কুনা-১/১৯৬}

আমাদের মাদরাসাগুলোতেও যখন বাচ্চাদের নামায শিখানো হয়, তখন সামনের বাচ্চাও উঁচু আওয়াজে আমীন বলে, তখন পিছনের বাচ্চাগুলোও একসাথে উঁচু আওয়াজে আমীন বলে।

আমীন জোরে বলার দুর্বল হাদীসের উপরও আমাদের আমল বিদ্যমান আছে। আমাদের কোন আয়াত বা হাদীসের বিরোধীতার ভয় নেই।

৯৭

গায়রে মুকাল্লিদ মিস্ত্রি নূর হুসাইন সাহেব লিখেন যে, হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ সর্বদা আমীন জোরে বলতেন। আর অন্যদের বলতেন যে, আমীন জোরে জোরে বল। {বুখারী-১/১০৮, রেসালায়ে আমীন বিলজেহের-১৮}

এ কথাটি বুখারীর উপর একটি সরাসরি মিথ্যাচার। বুখারীতে জোরে বলার শব্দই নেই।

৯৮

হাকীম সাদেক শিয়ালকুটি একটি হাদীস লিখেছেন যে, রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ ইহুদীরা যত আমীন [জোরে] বলার কারণে যতটুকু ক্ষিপ্ত হয়, এত ক্ষীপ্ত অন্য কোন আওয়াজে হয় না। {ইবনে মাজাহ} যদি কেউ উঁচু আওয়াজে আমীন বলে, তাহলে রাসূল সাঃ এর এ পাক সুন্নতের কারণে ক্ষীপ্ত হইয়ো না। অপছন্দও করো না। কেননা, আমীন জোরে বলার দ্বারা ইহুদীরা ক্ষীপ্ত হয় এবং অপছন্দ করে। আর আমাদের ইহুদীদের বিরোধীতা করা উচিত। {সালাতুর রাসূল-২৪২}

দেখুন! কিভাবে সারা উম্মতকে ইহুদী বানিয়ে দিল। অথচ প্রথমত হাদীসটিই সহীহ নয়। খোদ আব্দুর রউফ গায়রে মুকাল্লিদ এর টিকায় লিখেছেন যে, এ হাদীসের সনদ জঈফ। কেননা, তালহা বিন ওমর জঈফ এ ব্যাপারে সবাই একমত। {২৪১}

তারপর এ জঈফ হাদীসেও উঁচু [جهر] শব্দ একদম নেই। উঁচু শব্দ মিলানো রাসূল সাঃ এর উপর পরিস্কার মিথ্যাচার।

৯৯

গায়রে মুকাল্লিদ পুরুষ মহিলারা যখন একাকী নামায পড়ে, আর জোহর, আসর এর নামাযে যখন ইমাম এবং মুক্তাদী উঁচু আওয়াজে আমীন না বলে, তখন কি তারা ইহুদী হয়ে যায়?

১০০

যেহেতু উঁচু আওয়াজে আমীন বলার হাদীস সহীহ নয়, তাই তারা সাধারণ্যের সামনে একটি আশ্চর্য প্রকার ফর্দ প্রকাশ করে থাকে ওরা।

গায়রে মুকাল্লিদদের আজীব চালাকী

হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ এর জোরে আমীন বলা সংক্রান্ত একটি হাদীস লিখে এ ব্যাপারে হাপেজ আব্দুল্লাহ রূপরী সাহেব লিখেন যে, এ হাদীস সুনানে দারা কুতনীতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন এর সনদ সহীহ। আর হাকেম ও বর্ণনা করেছেন। আর বলেছেন যে, বুখারী মুসলিম এর শর্ত এর উপর আছে এ হাদীস। আর বায়হাকীও বর্ণনা করেছেন। তিনি এটাকে হাসান বলেছেন। {আহলে হাদীস কা মাসায়েল ইমতিয়াজী-৭৯}

অথচ তিন কিতাবের কোথাও এ হাদীস নেই। মুহাদ্দিসগণের সহীহ বলাতো দূরে থাক।

১০১

মৌলবী ইউসুফ জিপুরী “হাকীকাতুল ফিক্বহ” এর ১৯৪ নং পৃষ্ঠায় লিখেছেনঃ হেদায়া ১/৩৬৫ এবং শরহে বেকায়া-৯৭ এ জোরে আমীন বলার হাদীসসমূহ বিদ্যমান।

অথচ এটি একেবারেই মিথ্যাচার। সত্য হলে হেদায়া ও শরহে বেকায়ার আরবী ইবারত প্রকাশ করুন।

১০২

মৌলবী ইউসুফ “হাকীকাতুল ফিক্বহ” এর ১৯৪ নং পৃষ্ঠায় লিখেনঃ ইবনে হুমাম আস্তে আমীন বলার হাদীসকে জঈফ বলেছেন। [হেদায়া-১/৩৬৩]

কি আশ্চর্য মিথ্যাচার! হেদায়া ছষ্ঠ শতাব্দীর কিতাব। আর ইবনুল হুমাম নবম শতাব্দীর ব্যক্তিত্ব। তিনি তিনশত বছরের আগের কিতাবে কিভাবে লেখেছেন?

১০৩

হাকীম মুহাম্মদ সাদেক সাহেব লিখেনঃ মসজিদে নববীতে রাসূল সাঃ এর জমানা থেকে আজ পর্যন্ত জোরে আমীন বলার ধ্বনি রয়ে গেছে। {সলাতুর রাসূল-২৪০}

এটা একেবারে মিথ্যাচার। খেলাফতে রাশেদা, খেলাফতে উমাইয়্যাহ, খেলাফতে আব্বাসী, খাওয়ারজামী, সুবলুকী, তুর্কীদের আমলের সেখানে শতাব্দীর পর শতাব্দী আমীন আস্তে বলা হতো।

সেজদায়ে সাহু

১০৪

যদি ইমাম ভুলে ফজর মাগরিব বা ইশার রাকাতে আস্তে কেরাত পড়ে, তাহলে সেজদায়ে সাহু আবশ্যক হবে কি না?

১০৫

যদি ইমাম ভুলে জোরে কেরাত পড়া নামাযে আস্তে কেরাত পড়ে, তাহলে সেজদায়ে সাহু আবশ্যক হবে কি না?

১০৬

যদি সূরায়ে ফাতিহা পড়ে সূরা পড়া ভূলে যায়, রুকু করে ফেলে, তাহলে সেজাদায়ে সাহু দিতে হবে?

১০৭

এক ব্যক্তি প্রথমে সূরা ইখলাস পুরোটা পড়ে ফেলল, তারপর সূরা ফাতিহা পড়ল, তার উপর সেজদায়ে সাহু আবশ্যক নাকি না?

১০৮

জোরে আর আস্তের পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা কি?

এসব কিছুর জবাব কুরআন বা সহীহ সরীহ, গায়রে মুআরেজ তথা বৈপরীত্বহীন হাদীস দিয়ে দিন। যদি না পারেন তাহলে প্রোপাগান্ডা বন্ধ করুন।

ماضى استمرارى তথা চলমান অতীতকাল

১০৯

রাসূল সাঃ জোহরের নামাযে واليل اذا يغشى الخ পড়তেন। {সহীহ মুসলিম-১/২৫৪}

হাদীসের শব্দ হল كان يقرأ তথা তিনি পড়তেছিলেন। যেটা নাহুর পরিভাষায় ماضى استمرارى তথা চলমান অতীতকালীন শব্দ।

১১০

রাসূল সাঃ ফজর নামাযে ق والقرآن المجيد সূরাটি পড়তেন। এ হাদীসেও كان يقرآ চলমান অতীতকালীন শব্দ এসেছে। রাসূল সাঃ ফজরের সুন্নতে সূরায়ে কাফেরূন এবং সূরায়ে ইখলাস পড়তেন। এ হাদীসেও كان يقرآ চলমান অতীতকালীন শব্দ এসেছে। এসব নামাযে এ সূরাগুলো কি নির্দিষ্ট না অন্য সূরা ও পড়া যাবে?

ماضى استمرارى তথা চলমান অতীতকালটি কি সর্বদার জন্য এসেছে? নাকি না? কুরআন ও সহীহ হাদীস কী বলে?

১১১

আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ রাসূল সাঃ কে অসংখ্যবার মাগরিবের সুন্নতে সূরায়ে কাফেরূন ও সূরায়ে ইখলাস পড়তে শুনেছেন। {তিরমিজী}

কি এসব রাকাতে জোরে কেরাত পড়া সুন্নত? আপনারা যে মাগরিবের নামাযে আস্তে আস্তে কেরাত পড়েন এর পক্ষে একটি সহীহ সরীহ হাদীস দেখান।

১১২

রাসূল সাঃ দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করেছেন। {সহীহ বুখারী-১/৩৫}

হায়েজা স্ত্রীর গায়ে হেলান দিয়ে কুরআন পড়েছেন। {সহীহ বুখারী-১/৪৪} এ হাদীসে ماضى استمرارى তথা চলমান অতীতকালীন শব্দ এসেছে।

রাসূল সাঃ হায়েজা স্ত্রীর সাথে মুবাশারাত তথা শারিরিকভাবে একান্ত স্পর্শ করতেন। {সহীহ বুখারী-১/৪৪} এখানেও ماضى استمرارى তথা চলমান অতীতকালীন শব্দ এসেছে।

রাসূল সাঃ রোজা রাখা অবস্থায় স্ত্রীকে চুম্বন ও আলিঙ্গন করতেন। হাদীসের শব্দ হল كان يقبل তথা তিনি চুম্বন করতেন। {বুখারী-১/২৫৮} এখানেও ماضى استمرارى তথা চলমান অতীতকালীন শব্দ ব্যবহৃত।

রাসূল সাঃ নামাযের পূর্বে স্ত্রীকে চুম্বন করতেন। {বুখারী-১/৪২} এখানেও ماضى استمرارى তথা চলমান অতীতকালীন শব্দ ব্যবহৃত।

এই সকল কর্ম রাসূল সাঃ থেকে ماضى استمرارى তথা চলমান অতীতকালীন শব্দ দিয়ে প্রমাণিত। এসব থেকে নিষেধ করা বা রহিত হওয়া সম্বলিত কোন হাদীস থাকলে পেশ করুন। নতুবা এসবের উপর সুন্নতে মুআক্কাদার মত আমল করুন। আর এসবকে পরিত্যাগকারীকে সুন্নত পরিত্যাগকারী বলে চ্যালেঞ্জবাজী করতে শুরু করে দিন।

১১৩

ماضى استمرارى তথা চলমান অতীতকালীন শব্দকে মূলত একবারের কর্মের ক্ষেত্রে। শরহে নববী-১/২৫৪} মাজমাউল বিহার-৩/২৩৫, মাসকুল খিসাম-১/৫৬৭}

এর দ্বারা নস হিসেবে স্থায়িত্ব প্রমাণিত হয় না। হ্যাঁ, মুজতাহিদ তার ইজতিহাদী যোগ্যতা দিয়ে “ক্বরিনা” তথা আলামত দেখে কোথাও স্থায়িত্ব উদ্দেশ্য নিয়ে থাকেন। আবার কোথাও স্থায়িত্ব উদ্দেশ্য নেন না।

হানাফীদের কাছে সকল “ক্বরিনা” তথা আলামতের চেয়ে বড় “ক্বরিনা” হল খুলাফায়ে রাশেদীনের আমল। অথবা খাইরুল কুরুন তথা রাসূল সাঃ এর বলা শ্রেষ্ঠ যুগের ব্যক্তিদের আমল।

যদি রাসূল সাঃ এর আমল ماضى استمرارى দিয়েও প্রমাণিত হয়, তারপর যদি এর আমল জারী হয়, তাহলে এ আমলের “ক্বরিনা” স্থায়িত্বকে বুঝায়। আর যদি উক্ত কাজের উপর আমল জারী না হয়, তাহলে এটি ছেড়ে দেয়ার উপর স্থায়িত্বের “ক্বরিনা” হিসেবে ধর্তব্য হবে। যেমন ১১২ এ বর্ণিত বলা মাসায়েলগুলি।

কিন্তু প্রাজ্ঞ ব্যক্তির ব্যাখ্যা বিশ্লেষণকে হারাম বলা ব্যক্তিদের কী দশা হবে? শব্দের অর্থ তাদের যা বলছে তা ছেড়ে দেয়া তাদের জন্য নিজেদের বক্তব্য অনুযায়ী জায়েজ হয় না। কিন্তু নিজেদের ফাতওয়ায় নিজেরাই নাজায়েজ কাজগুলো করে বেড়ান।

১১৪

রুকুর তাকবীর একাকী নামায আদায়কারী ব্যক্তি এবং মুক্তাদী আস্তে আস্তে বলে। আর ইমাম জোরে বলে। এ ব্যাপারে সহীহ সরীহ দেখান। এমনটি কোন সহীহ সরীহ হাদীসের ভিত্তিতে করা হয়?

১১৫

প্রথম তাকবীরের সাথে হাত উঠানোর হুকুম তাবরানীতে আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত। নিষেধ কোথাও নেই। ফেলী হাদীস তাওয়াতুর স্তরে বর্ণিত। যার বিপরীত কোন জঈফ হাদীসও নেই। আর উম্মতের নিরবচ্ছিন্ন আমল বিদ্যমান রয়েছে।

এ তিনটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে সারা উম্মত তাকবীরে তাহরিমার সময় হাত উঠানোকে সুন্নত বলে থাকেন।

১১৬

চার রাকাত নামাযে ২২টি তাকবীর হয়। {বুখারী-১/১১০}

ওমায়ের বিন হাবীবের বর্ণনা, ইবনে আব্বাস রাঃ এর হাদীস {ইবনে মাজাহ-৬২} জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাঃ এর হাদীস {মুসনাদে আহমাদ} ইবনে ওমর রাঃ এর হাদীস {মাশকিুল আসার লিততাহাবী} আবু হুরায়রা রাঃ এর হাদীস {কিতাবুল ইলাল, দারা কুতনী}

এ পাঁচটি হাদীসে ماضى استمرارى রয়েছে। কিন্তু শিয়ারা এর উপর আমল করে আর গায়রে মুকাল্লিদরা এসব হাদীসের সাথে বিদ্রোহ করে।

রফয়ে ইয়াদাইন ও হাদীসের সাথে বিদ্রোহ

১১৭

সেজদার সময় রফয়ে ইয়াদাইন করা তথা হাত উঠানো রাসূল সাঃ থেকে-

১- হযরত মালেক বিন হুয়াইরিস রাঃ {সুনানে নাসায়ী}

২- হযরত ওয়াইল বিন হুজুর রাঃ {আবু দাউদ, দারা কুতনী, মুয়াত্তা মুহাম্মদ}

৩- হযরত আনাস রাঃ {মুসনাদে আবী ইয়ালা}

৪- হযরত আবু হুরায়রা রাঃ {সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৮৬০}

৫- আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ {তাবারানী}

৬- আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাঃ {আবু দাউদ}

এ ছয়টি এবং আগের ৫টি মোট এগারটি হাদীস সেজদার সময় রফয়ে ইয়াদাইন প্রমাণিত। এ হাদীস রহিত হওয়ার কোন দলিল গায়রে মুকাল্লিদদের কাছে নেই।

সেজদার সময় রফয়ে ইয়াদাইন ছেড়ে দেয়ার হাদীস শুধুমাত্র ইবেন ওমর রাঃ থেকে বর্ণিত। যে হাদীস নিজেই বিপরীতমুখী।

গায়রে মুকাল্লিদ ভাইয়েরা একটি বিরোধপূর্ণ হাদীসের উপর ভিত্তি করে এগারটি হাদীসের সাথে বিদ্রোহ করেছেন।

গায়রে মুকাল্লিদদের পরিস্কার মিথ্যাচার!

১১৮

তারা বলে থাকে যে, সমস্ত সাহাবাগণ সারা জীবন রফয়ে ইয়াদাইন করতেন, কথাটি পরিস্কার মিথ্যা কথা।

১১৯

কখনো বলে থাকে যে, প্রতিটি রফয়ে ইয়াদাইনের উপর দশটি নেকি পাওয়া যায়। রাসূল সাঃ নাকি ওয়াদা দিয়েছেন।

এটাও পরিস্কার মিথ্যাচার।

১২০

দারুল উলুম কুফার আবাদকারীদের অন্যতম হযরত আলী রাঃ এর রফয়ে ইয়াদান সম্বলিত হাদীসতো বর্ণনা করে, কিন্তু একথা বর্ণনা করে না যে, খোদ আলী রাঃ রফয়ে ইয়াদাইন করতেন না। {তাহাবী,মুয়াত্তা মুহাম্মদ, মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-২৪৫৭, বায়হাকী}

একথাও বলে না যে, হযরত আলী রাঃ এর ছাত্রগণ [যার সংখ্যা হাজারের উপর] দের মাঝে কেউ রফয়ে ইয়াদাইন করতেন না। {মুসান্নাফে আবী শাইবা, হাদীস নং-২৪৬১}

একথাও বলে না যে, কুফাবাসী পূর্বাপর কখনোই রফয়ে ইয়াদাইন করতো না। {আততালীকুল মুজাদ্দিদ-৩/৯১}

আর ইমাম মারওয়াজী রহঃ বলেনঃ لا نعلم مصرا من امصار تركوا بإجماعهم رفع اليدين عند الخفض والرفع إلا اهل الكوفة (التعليق المجدد-৯১) অথাৎ আহলে কুফার মাঝে সর্বদা তরকে রফয়ে ইয়াদাইন এর উপর ঐক্যমত্ব ছিল। একটি উপমাও রফয়ে ইয়াদাইন এর উপর পাওয়া যায় না। না কুফায় বসবাসকারী সাহাবা থেকে না কোন তাবেয়ী বা তাবে তাবেয়ী থেকে। তবে অন্য শহরগুলোতে তরকে রফয়ে ইয়াদাইন এর উপর ইজমা ছিল না। কেউ কেউ কখনো সখনো তা করেও বসতেন।

গায়রে মুকাল্লিদদের খেয়ানত ও মুনাফিকী

সুনানে আবু দাউদের হাওয়ালা দিয়ে হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ এর একটি হাদীস রফয়ে ইয়াদাইন এর প্রমাণবাহী একটি হাদীস নকল করেছে। অথচ এ ব্যাপারে সহীহ হাদীস বুখারীর ১/১১০, সহীহ মুসলিমের ১/১৬৮, জামে তিরমিজীর ১/৬৪ এ হাদীস বিদ্যমান। যে হাদীসে রফয়ে ইয়াদাইন এর কোন উল্লেখই নেই।

আবু দাউদে রফয়ে ইয়াদাইন এর কথা উল্লেখকারী বর্ণনাকারী “ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব” হল জঈফ। {মিযানুল ইতিদাল}

এ কারণে হুফ্ফাজদের বিপরীত এ হাদীস মুনকার। এরকম মুনকার উল্লেখ করেছে।

কিন্তু এ হাদীসে সারা জীবন রফয়ে ইয়াদাইন করেছেন একথা উল্লেখ নেই। হ্যাঁ, এর পর আবু দাউদেই হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ, হযরত বারা বিন আযেব রাঃ, হযরত জাবের বিন সামুরা রাঃ এর তরকে রফয়ে ইয়াদাইন তথা হাত না উঠানো সংক্রান্ত হাদীস আছে। এগুলো আর নকল করেনি।

খেয়ানত করা আহলে হাদীসের নিদর্শন নয়, বরং মুনাফেকের আলামত।

তারপর সুনানে নাসায়ীর হযরত ওয়াইল রাঃ এর জঈফ হাদীস রফয়ে ইয়াদাইন এর পক্ষে নকল করে। যাতে রফয়ে ইয়াদাইন সর্বদার জন্য প্রযোজ্য একথা উল্লেখ নেই। সাথে সাথে এরপরের আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ এর রফয়ে ইয়াদাইন না করার হাদীসটি ছেড়ে দিয়ে দিয়েছে। উল্লেখ করেনি।

এটা এমন ধোঁকা, যেমন কোন খৃষ্টান বাইতুল মুকাদ্দাসওয়ালা হাদীস নকল করে, অথচ বাইতুল্লাহর নাম উল্লেখই করে না।

এছাড়া আরেক মিথ্যা এই বলে যে, এক লাখ চৌচল্লিশ হাজার সাহাবাগণ নাকি রফয়ে ইয়াদাইন করতেন।

একথাটি একটি বানোয়াট ও মিথ্যাচার। একথার কোন ভিত্তি নেই। একথাটি ওয়াইল বিন হুজুর রাঃ এর মদীনায় দ্বিতীয়বার আগমণ এর দিকে নিসবত করা। অথচ আবু দাউদে দ্বিতীয়বার আগমণের সময় শুধু তাকবীরে তাহরীমার সময় হাত উঠানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

গায়রে মুকাল্লিদদের কতিপয় আলেম অপূর্ণাঙ্গ হাওয়ালা নকল করে পরিশেষে মোল্লা আলী কারী হানাফী রহঃ এর নারায়ে হকের শিরোনাম লিখে “মুওজুআতে কাবীর” এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলে যে, রফয়ে না করা সম্বলিত সকল হাদীস বাতিল।

এর দ্বারা ভাবটা এমন যেন যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে গেছে!

কিন্তু এ কর্মটি এমন ধোঁকা, যা কোন কাফেরের কিতাবেও পাওয়া দুস্কর। মোল্লা আলী কারী রহঃ এ বক্তব্যের জোরদারভাবে বাতিল সাব্যস্ত করেছেন। পুরো চব্বিশ লাইনে তরকে রফয়ে ইয়াদাইনের হাদীস উল্লেখ করেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি রফয়ে ইয়াদাইনকে মানসুখ তথা রহিত প্রমাণ করেছেন।

গায়রে মুকাল্লিদ ভাইদের স্বভাবই হল মিথ্যাকে গ্রহণ করা। সত্যকে সহ্যই করতে পারেন না। এ কারণেই নিজেদের হাদীস অনুসারী দাবি করে তরকে রফয়ে ইয়াদাইনসহ অনেক সহীহ হাদীসকে স্পর্ধার সাথে অস্বিকার করে। হাদীস অস্বিকারকারী দল মুনকিরীনে হাদীস থেকেও আগে বেড়ে হাদীস নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ করে থাকে।

১২১

মৌলবী মুহাম্মদ ইউসুফ জিপুরী “হাকীকাতুল ফিক্বহ” এর ১৯৪ পৃষ্ঠায় লিখেনঃ “রুকুর আগে পরের রফয়ে ইয়াদাইনের সত্যতা- [হেদায়া-১/৩৮৪, শরহে বেকায়া-১০২]

এ উভয় হাওয়ালা পরিস্কার মিথ্যাচার। আল্লাহ তাআলা এমন মিথ্যাচার থেকে জাতিকে হেফাযত করুন।

১২২

আরো লিখেছে যে, “রফয়ে ইয়াদাইনের হাদীস তরকে রফয়ে ইয়াদাইন থেকে শক্তিশালী। [হেদায়া-১/৩৮৯]

পরিস্কার মিথ্যা কথা। এমন কথা হেদায়াতে নেই।

১২৩

রফয়ে ইয়াদাইন না করার হাদীস দুর্বল। [শরহে বেকায়া-১০২]

একেবারে মিথ্যাচার এ বক্তব্য। এমন কথা শরহে বেকায়ায় নেই।

১২৪

রফয়ে ইয়াদাইন না করার হাদীস দুর্বল। [হেদায়া-১/৩৮৬]

একেবারে মিথ্যাচার এ বক্তব্য। এমন কথা হেদায়ায় নেই।

১২৫

সত্য কথা হল, রাসূল সাঃ থেকে রফয়ে ইয়াদাইন সহীহভাবে প্রমাণিত। [হেদায়া-১/৩৮৬]

পরিস্কার মিথ্যা কথা। একথা হেদায়ায় নেই।

১২৬

যে রফয়ে ইয়াদাইন করে তার সাথে বিতর্ক জায়েজ নয়। {হেদায়া-১/৩৮৯]

একথাও মিথ্যাচার। হেদায়া এ কথা নেই।

নোট

উল্লেখিত প্রশ্নের মাঝে প্রশ্ন নং ১২১ এবং ১২৬ এর মাঝে যে হাওয়ালা দেয়া হয়েছে তা হেদায়া ও শরহে বেকায়ার। এ উভয় কিতাব আরবীতে লিখা। এর মূল ইবারতের আরবীটা উল্লেখ করুন। এতে কি এরূপ অনুবাদ করা হয়েছে? যেমন তারা করেছেন? আল্লাহ তাআলা মিথ্যাচার থেকে জাতিকে হিফাযত করুন।

একটু লক্ষ্য করুন! এক মাসআলায় এত মিথ্যাচার ও ধোঁকা আপনার আর কোন ফিরক্বায় পাবেন কি না? সন্দেহ আছে।

আফসোস!

ওরা এসব মিথ্যাচার ও ধোঁকা কুরআন ও হাদীসের নামে করে বেড়াচ্ছে। আমাদের যে সকল ভাইয়েরা তাদের প্রোপাগান্ডায় বিভ্রান্ত হয়েছেন, আর এটা ভাবছেন যে, এ দলটি কুরআন ও হাদীসের খাদেম। তারা দয়া করে এ দলের মিথ্যাচার ও ধোঁকাবাজীর ব্যাপারে আশা করি একটু চিন্তা ভাবনা করবেন, যা কুরআন ও হাদীসের নামে করা হচ্ছে।

১২৭

রুকুর আগে তাকবীর একটি না দু’টি?

যদি গায়রে মুকাল্লিদরা দুই তাকবীর বলে। এ হিসেবে যে, একটি তাকবীরে তাহরীমার সাথে আরেকটি রুকুতে যাওয়ার সময়।

তাহলে এ বক্তব্যটি পরিস্কারভাবে হাদীসের খেলাফ। কেননা, বুখারীর হাদীসে এসেছে যে, চার রাকাত নামাযে বাইশটি তাকবীর। রুকুর আগেই দুই তাকবীর হলে তাকবীরতো হয়ে যাবে ত্রিশের অধিক। তাহলে হাদীস অনুসরণ হল কিভাবে?

১২৮

যদি বলে যে, তাকবীর একটি। তাহলে এটি হবে রুকুতে যাওয়ার তাকবীর তাকবীরে তাহরিমা নয়। কারণ হাদীসে এসেছে يكبر عن كل خفض ورفع

তথা প্রতিটি উঠা-নোয়ায় তাকবীর রয়েছে। এ কারণেই এসব তাকবীরকে তাকবীরে ইন্তিকাল তথা পরিবর্তনকালীন তাকবীর বলা হয়। তাহলে তাকবীরে তাহরিমার সময় আর তাকবীর থাকে না, তখন রফয়ে ইয়াদাইন করাটা তাকবীরবিহীন হয়ে যায়। আর তাসবীহ ছাড়া হাত উঠানো কি কোন ইবাদত? এর জবাব কি?

১২৯

রুকুর তাসবীহ একবার বলা জায়েজ না জায়েজ? কেননা, বুখারী মুসলিমে কোন সংখ্যার কথা উল্লেখ নেই।

১৩০

কমপক্ষে তিনবার তাসবীহ বলার হাদীস জঈফ। কারণ এ হাদীসের রাবী আউন এর ইবনে মাসউদ রাঃ থেকে শ্রবণ প্রমানিত নয়। আর ইসহাক বিন ইয়াযিদ মাজহুল রাবী। তাহলে এক্ষেত্রে কতবার তাকবীর বলবে সহীহ হাদীসের আলোকে?

১৩১

দশবার পড়ার বর্ণনা নাসায়ীতে এসেছে। এ হাদীসও জঈফ। কারণ এতে ওহাব বিন মানূস মাসতুর।

১৩২

রাসূল সাঃ শুধুমাত্র سبحان ربى العظيم এর হুকুম দিয়েছেন। {আবু দাউদ, হাদীস নং-৮৮৬, ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৮৯০} এক্ষেত্রে অন্য কোন তাসবীহ পড়া জায়েজ আছে? পড়লে নামায হবে কি?

১৩৩

কেউ যদি রুকুতে কোন তাসবীহই না পড়ে তাহলে তার নামায হবে। {সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং-১০৫৩} এর উপর গায়রে মুকাল্লিদদের আমল নেই কেন?

১৩৪

যদি কেউ রুকুতে সেজদার তাসবীহ পড়ে, তাহলে সেজদায়ে সাহু আবশ্যক হবে? না নামায বাতিল হয়ে যাবে?

১৩৫

নাসায়ী [উর্দু অনুবাদ-১/৩৪৯] ও আবু দাউদ [উর্দু অনুবাদ-১/৩৪০] এ রুকুতে জোরে তাকবীর বলার বর্ণনা এসেছে। এ হাদীসের উপর গায়রে মুকাল্লিদ ভাইদের আমল নেই কেন?

১৩৬

গায়রে মুকাল্লিদ ভাইয়েরা সর্বদা রুকুতে আস্তে আস্তে তাসবীহ বলেন, এর স্বপক্ষে একটি সহীহ সরীহ হাদীস পেশ করুন।

১৩৭

রুকুতে কুরআন পড়া নিষেধ। কেউ যদি ভুলে কুরআনের এক দুই আয়াত পড়ে ফেলে তাহলে তার উপর সেজদায়ে সাহু আবশ্যক না নামায বাতিল হয়ে যাবে?

১৩৮

নাসায়ী শরীফে রুকুতে ছয় ধরণের তাকবীরের কথা উল্লেখ আছে। রাসূল সাঃ সব ক’টি সর্বদা পড়তেন? নাকি একটি পড়তেন? আমাদের জন্য কোনটি পড়ার হুকুম?

১৩৯

হাকীম মুহাম্মদ সাদেক শিয়ালকুটি সাহেব রুকুতে চারটি দুআর কথা বুখারী মুসলিমের হাওয়ালা দিয়ে উল্লেখ করেছেন। অথচ না বুখারীতে আছে, না মুসলিমে আছে। যদি থাকে তাহলে পেশ করুন।

১৪০

রুকু থেকে উঠার সময় ইমাম জোরে আর মুক্তাদী আস্তে তাকবীর বলে থাকে, এ পার্থক্যের কী দলিল আছে? পেশ করুন।

১৪১

কতিপয় গায়রে মুকাল্লিদ ভাইয়েরা রুকু থেকে উঠে আবার হাত বাঁধে। আর কেউ কেউ ছেড়ে দেয়। এ উভয় আমল কোন হাদীস অনুযায়ী করা হয়?

১৪২

রুকু থেকে উঠার সময়ের তাকবীর মুক্তাদীর জোরে বলার বর্ণনা নাসায়ীতে আছে। গায়রে মুকাল্লিদরা এর উপর আমল করে না কেন?

১৪৩

রুকু থেকে উঠার তাকবীর ফরজ, না ওয়াজিব না স্ন্নুত? সরীহ হাদীস দেখান।

১৪৪

সেজদার যাওয়া ও উঠার তাকবীর ইমাম জোরে আর মুক্তাদী আস্তে বলে থাকে, এ পার্থক্যের কথা সহীহ সরীহ হাদীস দিয়ে দেখান।

১৪৫

সেজদার তাসবীহ কতবার পড়তে হবে? সহীহ সরীহ হাদীস দিয়ে প্রমাণ করুন।

১৪৬

সেজদাতে কোন তাসবীহ না পড়লেও তাও জায়েজ আছে। {সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং-১১৩৬}

গায়রে মুকাল্লিদদের আমল নেই কেন?

১৪৭

হাকীম সাদেক শিয়ালকুটি সাহেব “সেজদার দ্বারা স্তর উঁচু হওয়া} এর শিরোনামে একটি হাদীস এনেছেনঃ عليك بكثر السجود الخ অথচ এ বাক্য রাসূল সাঃ এর হাদীস নয়। সাদেক শিয়ালকুটি সাহেব নিজের পক্ষ থেকে জোড়ে দিয়েছেন।

১৪৮

দুই সেজদার মাঝে হাত খোলা রাখবে? না বেঁধে রাখবে? পরিস্কার হাদীস দ্বারা প্রমাণ করুন।

১৪৯

মুসনাদে আহমদের ৪নং খন্ডের ৩১৭ নং পৃষ্ঠায় হাত হাটুর উপর রাখার কথা আছে, সাথে সাথে দুই সেজদার মাঝে তর্জনী দিয়ে ইশারা করার কথা আছে। এর উপর গায়রে মুকাল্লিদদের আমল নেই কেন?

১৫০

দুই সেজদার মাঝে যে আপনারা আস্তে আওয়াজে আল্লাহর নাম নিয়ে থাকেন এটা কোন হাদীসের ভিত্তিকে করে থাকেন?

১৫১

দুই সেজদার মাঝে জিকির বলা কি ফরজ, না ওয়াজিব না সুন্নত? যদি কেউ না পড়ে তাহলে তার নামায হবে কি? না বাতিল হবে?

১৫২

ইমাম বায়হাকী ২/২২২ এবং ফাতাওয়া ওলামায়ে হাদীস ২/১৪৮ এ আহাদীস ও চার ইমামের বক্তব্য দ্বারা প্রমাণ করেছেন যে, মহিলা ও পুরুষের নামাযে পার্থক্য আছে। গায়রে মুকাল্লিদরা এসকল হাদীস ও ইজমার বিপরীত শুধু কিয়াসের উপর নির্ভর করে বলে যে, মহিলা ও পুরুষের নামাযে কোন পার্থক্য নেই। হাদীসের চেয়ে তাদের কাছে কিয়াস এত গুরুত্বপূর্ণ কেন? অথচ কিয়াসকে হারাম বলে ফাতাওয়া দিতেই পারঙ্গম তারা।

১৫৩

রুকু সেজদার তাসবীহ আরবীতে বলা জরুরী? যদি কেউ আরবীতে না বলে অন্য ভাষায় বলে তাহলে তার নামায হবে কি?

১৫৪

এক ব্যক্তি এক সেজদার পর ভুলে দাঁড়িয়ে গেছে, দ্বিতীয় রাকাতে রুকুতে স্মরণ হয়েছে, এখন সে নামায কিভাবে পূর্ণ করবে? স্পষ্ট সহীহ সরীহ হাদীস দিয়ে প্রমাণ দিন।

গায়রে মুকাল্লিদগণ সুন্নত বিরোধী

ফাতাওয়া ওলামায়ে হাদীসের ৪ নং খন্ডের ৩০৬ নং পৃষ্ঠায় লিখা আছে যে, সেজদার সময় রফয়ে ইয়াদাইন করার হাদীস নিঃসন্দেহে সহীহ। এটা রাসূল সাঃ এর শেষ বয়সের আমল। নিঃসন্দেহে এর উপর আমলকারী মৃত সুন্নতকে জিন্দাকারী। তাই একশত শহীদের সওয়াব পাবে।

গায়রে মুকাল্লিদরা এ সুন্নতের বিরোধী। তাই এর উপর আমল করে না।

১৫৫

বিতর নামাযে রুকু থেকে উঠে দুআর মত হাত উঠিয়ে দুআয়ে কুনুত পড়া, আর মুখে হাত বুলিয়ে সেজদা করা কোন সহীহ সরীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত?

জলসায়ে ইস্তারাহাত তথা সেজদা থেকে দাঁড়ানোর আগে কিছুক্ষণ বসা ও গায়রে মুকাল্লিদদের ধোঁকা

১৫৬

কোন সহীহ সরীহ হাদীসে একথা আছে কি যে, জলসায়ে ইস্তিরাহাত সুন্নতে মুআক্কাদা?

১৫৭

জলসায়ে ইস্তিরাহাতে কোন জিকিরও আছে কি? এটা اقم الصلاة لذكرى এর খেলাফ নাকি না?

১৫৮

জলসায়ে ইস্তিরাহাতের পর আল্লাহু আকবার বলে উঠাও কোন হাদীস দ্বারা প্রমাণিত? যখন তাকবীর প্রমাণিত নয়, তাই এটি সুন্নত বা মুস্তাহাব হতে পারছে না। কেননা, ইস্তিরাহাতের পর তাকবীর থাকলে তাকবীরের সংখ্যা দাঁড়ায় কত? অথচ রাসূল সাঃ তাকবীরে সংখ্যা বলেছেন ২২টি। তাহলে এ অতিরিক্ত কোন সহীহ সরীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত?

১৫৯

রাসূল সাঃ সেজদার পর সোজা দাঁড়িয়ে যাওয়ার হুকুম দিয়েছেন। {সহীহ বুখারী-১/৯৮৬}

হযরত আবূ মালেক আশআরী রাঃ যখন তারা পুরো কওমকে রাসূল সাঃ এর নামাযের পদ্ধতি শিখালেন, তখন তিনি প্রথম তাকবীরের পর রফয়ে ইয়াদাইন তথা হাত উঠানো শিখিয়েছেন। কিন্তু জলসায়ে ইস্তিরাহাত শিখাননি। {মুসনাদে আহমাদ-৫/৩৪৩}

ইমাম শা’বী বলেনঃ হযরত ওমর রাঃ, হযরত আলী রাঃ এবং রাসূল সাঃ এর সাহাবাগণ জলসায়ে ইস্তিরাহাত করতেন না।

হযরত নুমান বিন আবী আইয়্যাশ বলেনঃ আমিঅনেক সাহাবার সাথে সাক্ষাৎ করেছি, তাদের কাউকে জলসায়ে ইস্তিরাহাত করতে দেখিনি।

আব্দুল্লাহ বিন জুবাইর রাঃ, আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ, আব্দুর রহমান বিন আবী লাইলা রাঃ, হযরত ইবনে ওমায়ের রাঃ হযরত ইবরাহীম নাখয়ী রহঃ কেউই জলসায়ে ইস্তিরাহাত করতেন না। {মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা-১/৩৯৪}

আইয়ুব সাখতিয়ানী রহঃ বলেনঃ আমি এক বুড়ো ওমর বিন সালামাকে ছাড়া কাউকে জলসায়ে ইস্তিরাহাত করতে দেখিনি। {বুখারী-১/১১৩}

ইমাম ইবনে আব্দিল বার রহঃ বলেনঃ ইমাম মালিক রহঃ, ইমাম মুহাম্মদ রহঃ, ইমাম আওযায়ী রহঃ, ইমাম সুফিয়ান সাওরী রহঃ ও জলসায়ে ইস্তিরাহাত এর প্রবক্তা ছিলেন না। {তামহীদ,কিতাবুল হজ্জ্ব-১/৩১৭}

ইমামে আজম বলেনঃ সুন্নত এটাই যে, জলসায়ে ইস্তিরাহাত না করে সোজা দাঁড়িয়ে যাওয়া। হ্যাঁ বার্ধক্যজনিত কারণে বা এ জাতীয় ওজরের কারণে যদি কেউ সোজা উঠতে না পারে, তাহলে ওজরের কারণে জলসায়ে ইস্তিরাহাত করে উঠবে। {তামহীদ, কিতাবুল হজ্জ্ব-১/৩১৫}

গায়রে মুকাল্লিদ নাসীরুদ্দীন আলবানী যার উল্লেখ ফাতাওয়া ওলামায়ে হাদীস এর ৩ নং খন্ডের ১৭৬ নং পৃষ্ঠায় রয়েছে, তিনি বলেন যে, জলসায়ে ইস্তিরাহাত শরীয়ত সম্মত নয়। শুধু প্রয়োজনের জন্য। {আরদাউল গলীল–২/৮৩}

১৬০

মৌলবী ইউসুফ জিপুরী “হাকীকাতুল ফিক্বহ” এর ১৯৫ পৃষ্ঠায় লিখেছেন যে, জলসায়ে ইস্তিরাহাত না করার হাদীস জঈফ। [শরহে বেকায়া-১০১]

এ বক্তব্য শরহে বেকায়ার উপর প্রকাশ্য মিথ্যাচার। এরকম কোন কথা শরহে বেকায়ায় নেই।

১৬১

শায়েখ নাসীরুদ্দীন আলবানী গায়রে মুকাল্লিদ লিখেনঃ প্রতিটি রাকাত আওজুবিল্লাহ দিয়ে শুরু কর। {সীফাতু সালাতুন্নবী-১৩৭}

এ কথা রাসূল সাঃ এর কোন হাদীস দ্বারা প্রমাণিত?

১৬২

দুই রাকাতের পর বৈঠক করা ফরজ, ওয়াজিব না সুন্নত? যদি কেউ ভুলে দাঁড়িয়ে যায়,তাহলে সেজদায়ে সাহু করবে? না নামায বাতিল?

মাঝখানের বৈঠক ও শেষ বৈঠক নিয়ে একটু ভাবুন!

১৬৩

যে সমস্ত গায়রে মুকাল্লিদরা বেতের নামাযে দুই রাকাতের পর তাশাহুদ পড়ে না তারা কি ফরজ তরক করে, না ওয়াজিব না সুন্নত?

১৬৪

হাকীম সাদেক শিয়ালকুটি বেতের সম্পর্কে لا يقعد ওয়ালা যে হাদীস গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এর রাবীর মাঝে শাইবান হল জঈফ, আবান মুনফারিদ আর কাতাদা হল মুদাল্লিস। আর মুস্তাদরাকে অধিকাংশ নুসখায় এ বর্ণনা বিদ্যমান নয়। এ কারণেই মৌলবী আব্দুর রউফ গায়রে মুকাল্লিদও এ কথা স্বীকার করেছেন যে, এ বর্ণনাটি এ শব্দে বর্ণনা করা দোষমুক্ত নয়। {হাশিয়ায়ে সালাতুর রাসূল-৩৯১}

ইমাম বায়হাকী রহঃ এটাকে ভুল সাব্যস্ত করেছেন। {সুনানে বায়হাকী-৩/২৮}

আলবানী সাহেবও এটাকে “শাজ” বলে মন্তব্য করেছেন। {আরদাউল গলীল}

১৬৫

এক ব্যক্তি মাঝখানে বৈঠকে তাশাহুদের বদলে আলহামদুলিল্লাহ পড়ে নিল, আর তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যাওয়ার পর স্মরণ হল, এখন হাদীস অনুপাতে লোকটি নামায পূর্ণ করবে কিভাবে?

১৬৬

মাঝখানের বৈঠকে তাশাহুদ পড়া ফরজ, ওয়াজিব না সুন্নত? কতটুকু পড়বে? শায়েখ আলবানী বলেনঃ দরূদও পড়বে। আর আব্দুল্লাহ রূপুরী সাহেব বলেনঃ দরূদ পড়বে না।

এ দুজনের মাঝে কার মাসআলাটি হাদীস অনুযায়ী সঠিক? কারটি ঠিক নয়? হাদীস দিয়ে প্রমাণ দেখান।

১৬৭

শেষ বৈঠক ফরজ, ওয়াজিব না স্ন্নুত? যদি কেউ শেষ ছেড়ে দিয়ে পঞ্চম রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যায়, তাহলে সে এখন কী করবে? সহীহ সরীহ হাদীস দিয়ে প্রমাণ করুন।

১৬৮

শেষ বৈঠক করে তাশাহুদ পড়ে পঞ্চম রাকাতের জন্য যদি কেউ দাঁড়ায়, তাহলে সে এখন বাকি নামায কিভাবে পূর্ণ করবে? সহীহ সরীহ হাদীস দিয়ে প্রমাণ করুন।

১৬৯

শেষ বৈঠকে তাশাহুদ পড়া ফরজ,ওয়াজিব না সুন্নত?

১৭০

নাসায়ীতে তাক্বরীরী হাদীসে [উর্দু অনুবাদ-১/৪২৪] তাশাহুদ জোর আওয়াজে পড়া প্রমানিত। আপনাদের এ হাদীসের উপর আমল নেই কেন?

১৭১

যদি কেউ শেষ বৈঠকে ভুলে তাশাহুদের স্থলে ফাতিহা পড়ে সালাম ফিরিয়ে দেয়, তাহলে সে কী করবে?

১৭২

আখেরী বৈঠকে দরূদ শরীফ পড়া ফরজ, ওয়াজিব না সুন্নত?

দরূদে ইবরাহিমীর উপর আলোচনা

১৭৩

সিহাহ সিত্তার কোন হাদীসে একথা স্পষ্ট আছে কি যে, নামাযে দরূদে ইবরাহিমীই খাস? এছাড়া অন্য কিছু পড়া যাবে না? নাসায়ীতে তাক্বরীরী বর্ণনায় [উর্দু অনুবাদ-১/৪২৪] দরূদ জোরে পড়া প্রমাণিত। আপনারা এর উপর আমল করেন না কেন?

১৭৪

আপনাদের ইমাম,মুক্তাদী, একাকী নামায আদায়কারী সবাই দরূদ আস্তে আস্তে পড়ে, এ ব্যাপারে কোন সহীহ সরীহ বর্ণনা আছে কি?

১৭৫

যদি কেউ দরূদ পড়া ছাড়াই সালাম ফিরিয়ে ফেলে, তাহলে কি তার নামায দ্বিতীয়বার পড়তে হবে? নাকি পড়তে হবে না?

১৭৬

কোন ব্যক্তি দরূদে ইবরাহিমীর বদলে অন্য কোন বর্ণিত দরূদ পড়লে তার নামায হবে কি?

১৭৭

দরূদ এরপর দুআ চাওয়া ফরজ, না ওয়াজিব না সুন্নত? সরীহ হুকুম হাদীস দিয়ে প্রমাণ করুন।

১৭৮

দুআটি আরবীতে করা জরুরী? নাকি অন্য ভাষায় বা গায়রে মাসুরা দুআও পড়া জায়েজ? হাদীস দ্বারা জবাব দিন।

১৭৯

নাসায়ীর তাক্বরীরী হাদীসে [উর্দু অনুবাদ-১/৪২৪] দুআ উঁচু আওয়াজে পড়ার কথা প্রমাণিত। এর উপর আপনাদের আমল নেই কেন?

১৮০

যদি কেউ এ দুআ হাত উঠিয়ে পড়ে, তাহলে কোন হাদীসের ভিত্তিতে তাকে নিষেধ করা হবে? আর কোন হাদীস দিয়ে তা প্রমাণিত করা হবে?

সালামের উপর আলোচনা

১৮১

নামাযের শেষে উভয় দিকে সালাম ফিরানো ফরজ, না সুন্নত না ওয়াজিব?

১৮২

ইমাম মুক্তাদী, এবং মুনফারিদ সালাম ফিরানোর সময় মনে মনে কী নিয়ত করবে?

১৮৩

ইমাম উচ্চ আওয়াজে আর মুক্তাদী ও মুনফারিদ আস্তে আওয়াজে সালাম ফিরায়। এ পদ্ধতিটি সহীহ সরীহ হাদীস দিয়ে প্রমাণ করুন।

১৮৪

ফাতাওয়া ওলামায়ে হাদীস এর ৩ নং খন্ডের ২১৪পৃষ্ঠায় আছে যে, নামায ফরজ, সুন্নত এর পর হাত উঠিয়ে দুআ করতে পারে। এর উপর কওলী, ফেলী এবং আসরী দলীল রয়েছে। আর নাজায়েজের উপর কোন দলিল নেই।

আজকালকার গায়রে মুকাল্লিদরা এ কওলী ফেলী দলীলের বিরোধী হয়ে দুআকে পরিস্কার অস্বিকার করে। কেন?

১৮৫

কোন বেগানা মহিলার সাথে চুম্বন ও আলিঙ্গন করে নামায পড়ে নিলে সব কিছু মাফ হয়ে যায়। {বুখারী-১/৭৫}

গায়রে মুকাল্লিদ ভাইয়েরা কি নিজেদের মেয়েদের এর উপর আমল করার অনুমতি দিয়ে থাকেন?

১৮৬

রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ মহিলারা সামনে দিয়ে গেলে নামায ভেঙ্গে যায়। {সহীহ মুসলিম-১/১৯৭, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৭০২}

কিন্তু হযরত আয়শা সিদ্দিকা রাঃ রাসূল সাঃ এর সামনে শুয়ে থাকতেন, আর রাসূল সাঃ সেজদায় যাওয়ার সময় নিজের হাতে পা সরিয়ে দিতেন। {সহীহ মুসলিম-১/১৯৭}

মহিলা সামনে দিয়ে গেলে কি নামায ভেঙ্গে যায়?

১৮৭

হায়েজা মহিলা সামনে দিয়ে গেলে নামায ভেঙ্গে যায়। {সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৭০৩}

হযরত আয়শা রাঃ হায়েজা অবস্থায় রাসূল সাঃ এর নামাযরত অবস্থায় সামনে শুয়ে ছিলেন। {সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৭১০} হযরতের মায়মুনা রাঃ থেকেও এমন বর্ণিত। {বুখারী-১/৭৪, মুসলিম-১/১৯৮}

গায়রে মুকাল্লিদ ভাইয়েরা এক্ষেত্রে কোনটি মানেন এবং কেন?

১৮৮

মহিলা যদি নামাযে ইমামের লজ্জাস্থান দেখতে থাকে, তাহলে তার নামায ভাঙ্গবে না। {বুখারী-২/২৯০}

যদি পুরুষ মহিলার লজ্জাস্থান দেখে ফেলে তাহলে নামায ভাঙ্গবে কি না? সহীহ সরীহ হাদীস দেখান।

১৮৯

রাসূল সাঃ নামাযে বিবিদের পায়ে হাত লাগাতেন। রাসূল সাঃ নামায পড়ার সময় তাঁর পায়ের গিটে হাত লাগাতেন, কিন্তু নামায ভাঙ্গতো না। যদি নামাযী ব্যক্তি মহিলার অন্য কোন অঙ্গে হাত লাগায় তাহলে নামায ভাঙ্গবে কি?

১৯০

রাসূল সাঃ নামাযের পূর্বে সম্মানিতা স্ত্রীকে চুম্বন করেছেন। এতে অজু ভাঙ্গেনি। যদি পুরুষ নামাযরত মহিলাকে চুন্বন করে, তাহলে নামায ভাঙ্গবে কি না? সহীহ সরীহ দিয়ে প্রমাণ দিন।

১৯১

যদি এর উল্টো তথা নামাযরত পুরুষকে মহিলা চুম্বন করে, তাহলে পুরুষের নামায ভাঙ্গবে কি? সহীহ সরীহ হাদীস দিয়ে দলিল দিন।

১৯২

নামাযী দৃষ্টি যদি লজ্জাস্থানে পরে, তাহলে নামায ভাঙ্গবে কি না?

১৯৩

মা নামাযরত ছিল, বাচ্চা কোলে এসে প্রস্রাব করে দিল, মায়ের নামায ভেঙ্গে যাবে কি?

১৯৪

মা নামাযরত থাকা অবস্থায় বাচ্চা যদি দুধ পান করা শুরু করে দেয়, তাহলে কি নামায ভেঙ্গে যাবে? সহীহ সরীহ হাদীসের জবাব চাই।

১৯৫

রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ গাধা সামনে দিয়ে অতিক্রান্ত হলে নামায ভেঙ্গে যায়। {মুসলিম-১/১৯৭}

কিন্তু রাসূল সাঃ নামায পড়াচ্ছিলেন, আর সবার সামনে গাধা বিচরণ করছিল। {মুসলিম-১/১৯৬, আবু দাউদ, নাসায়ী}

এমনকি রাসূল সাঃ গাধার উপর নামাযও পড়েছেন। এরকম বিপরীতমুখী কেন কওল ও ফেল?

১৯৬

রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ কুকুর সামনে দিয়ে অতিক্রান্ত হলে নামায ভেঙ্গে যায়। {মুসলিম-১/১৯৭}

অথচ রাসূল সাঃ নামায পড়তেছিলেন, আর সামনে কুকুর খেলতেছিল। {সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৭১৮}

১৯৭

রাসূল সাঃ নামাযরত অবস্থায় তাঁর উপর উটের নাড়িভূরি ঢেলে দেয়া হয়েছিল। তারপরও রাসূল সাঃ নামায শেষ করে উঠেন। {সহীহ বুখারী, ১/৭৪}

সারা শরীরে নামাযরত অবস্থায় নাপাক লাগলে নামাযের কী হুকুম?

১৯৮

রাসূল সাঃ এর নাতি হযরত উমামা রাঃ পিঠে উঠিয়ে নামায পড়তেন। {বুখারী-১/৭৪, মুসলিম}

এ হাদীসের ব্যাখ্যায় মাওলানা ওয়াহিদুজ্জামান সাহেব লিখেন যে, ইমাম শাফেয়ী রহঃ এর মাযহাব হল, ছেলে বা মেয়ে অথবা কোন পবিত্র প্রাণি নামাযরত ব্যক্তির গায়ে উঠানো জায়েজ আছে। এটি ইমাম মুক্তাদী এবং মুনফারিদ সবার জন্যই তা জায়েজ আছে।

ইমাম মালিক রহঃ বলেনঃ এটা জায়েজ হওয়াকে নফল নামাযের সাথে খাস করেছেন। কিন্তু এটি ঠিক নয়। কারণ খোদ হাদীস দ্বারা প্রমানিত যে, রাসূল সাঃ ইমাম ছিলেন আর উমামাকে উঠিয়ে নিয়েছিলেন।

কতিপয় মালেকীগণ বলেনঃ এ হাদীস মানসুখ তথা রহিত হয়ে গেছে। কেউ কেউ বলেন যে, জরূরতের কারণে এমনটি করেছেন।

কিন্তু সব কথাই বাতিল এবং মারদুদ। কেননা, হাদীস দ্বারা স্পষ্টই জায়েজ প্রমাণিত। এটি শরীয়তের মূলনীতির ও বিরোধী নয়। কেননা, মানুষ পবিত্র। আর বাচ্চার শরীর এবং কাপড়কেও পবিত্র মনে করা উচিত যতক্ষণ না নাপাকীর উপর কোন দলীল না হয়। {হাশিয়ায়ে মুসলিম-২/১১৭-১১৮}

১৯৯

গায়রে মুকাল্লিদ ভাইদের মাযহাব অনুযায়ী কুকুর ও শুকর পাক। {উরফুর জাদী-১০}

তাহলে আপনাদের মাযহাবে কুকুর বা শুকর উঠিয়ে নামায পড়া কোন হাদীসের খেলাফ?

২০০

আপনাদের মাযহাব অনুযায়ীতো নামাযী ব্যক্তি যে বস্তু উঠাবে সেটা পবিত্র হওয়া শর্ত নয়। {বুদুরুল আহিল্লাহ-৩৮} আপনাদের মাযহাবেতো কুকুর ও শুকরের পায়খানায় লেপ্টে গেলেও নামায হয়ে যায়। {উরফুর জাদী-২১}

এসবের দলিল কি?

২০১

মা নামায পড়তেছে সন্তান উড়না টেনে নিয়ে গেল, তাহলে কি নামায ভেঙ্গে যাবে?

২০২

হাদীসের কিতাব মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাতে আছে যে, হযরত মুয়াজ রাঃ হযরত আলী রাঃ উকুন মারতেন। {আবী শাইবা-২/৩৬৭-৩৬৮}

২০৩

হাদীসের কিতাবে এসেছে যে, ইবরাহীম, কাতাদাহ, হাকাম, আদা রহঃ বলেছেন যে, কেউ যদি তাকবীরে তাহরিমা না বলে তাহলে নামায জায়েজ আছে। {আব্দুর রাজ্জাক-২/৭২-৭৩}

২০৪

হাদীসের কিতাবে এসেছে যে, আতা রহঃ বলেছেনঃ আউজুবিল্লাহিমিনাশ শাইতানিররাজীম না পড়লেও নামায জায়েজ হবে। {আব্দুর রাজ্জাক-২/৮৭}

ইমাম হাসান বসরী রহঃ বলেছেনঃ একাকী ব্যক্তিও যদি সূরায়ে ফাতিহা না পড়ে, তাহলে নামায পুনরায় পড়তে হবে না। {মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক-২/৯৫}

২০৫

হযরত ওমর রাঃ মাগরিবের পূর্বে মাগরিবের প্রথম রাকাতে সূরায়ে ফাতিহা না পড়ে সেজদায়ে সাহু করেছেন। {মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক-২/১২৩}

হযরত মুআম্মার, কাতাদা এবং হযরত হাম্মাদ রহঃ বলেনঃ কেউ যদি তাশাহুদ না পড়ে, তাহলে তার নামায হবে। {মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক-২/২০৫}

হযরত আবূ বারযাহ আসলামী খচ্চরকে হাতে ধরে নামায পড়েছিলেন। {মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক-২/২৬২}

২০৬

নামাযী ব্যক্তি যদি লাঠি দিয়ে প্রাণীকে ভাগিয়ে দেয় তাহলে কোন সমস্যা নেই। {মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক-২/২৬২}

২০৭

হযরত সাঈদ বিন জুবাইর রহঃ নফল নামাযে পানি ইত্যাদি পান করতেন। হযরত তাওস ও এটাকে জায়েজ বলতেন। {মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক-২/৩৩৩}

২০৮

জারজ সন্তান নামাযের ইমাম হতে পারে। {মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক-২/৩৯৬-৩৯৭}

২০৯

রাসূল সাঃ এর জমানায় মসজিদে নববী কাঁচা ছিল না পাকা?

২১০

রাসূল সাঃ মসজিদে নববীর নাম মসজিদে কুদস রেখেছিলেন? না মসজিদে মুবারক? না মসজিদে আহলে হাদীস?

২১১

আল্লামা ওহীদুজ্জামান সাহেব লিখেছেনঃ হযরত আলীরাঃ মসজিদের মেহরাব দেখলে তা ভেঙ্গে ফেলতেন। মসজিদে মেহরাব বানানো খেলাফে সুন্নত। এখন অধিকাংশ লোকেরা এটাকে গ্রহণ করে নিয়েছে ইল্লা মা’শাআল্লাহ। আহলে হাদীসদের এক জামাত কিছু মসজিদ সুন্নতের মুতাবেক বানিয়েছে। যাতে না মিম্বর আছে না মেহরাব। {লুগাতুল হাদীস-৪৪, কিতাবুল হায়া}

২১২

হাদীস দ্বারা জানা যায় যে, রাসূল সাঃ এর জমানায় মসজিদের ফ্লোর কাঁচা ছিল। কপালে মাটি লেগে যেত। মসজিদ পাকা করার কথা হাদীসে এসেছে?

২১৩

রাসূল সাঃ কি মসজিদে ফ্লোরমেট ও কার্পেট বিছাতেন?

২১৪

রাসূল সাঃ মসজিদে কয়টি মিনার বানিয়েছিলেন? আর এর উচ্চতা ছিল কতটুকু?

২১৫

রাসূল সাঃ মসজিদের সাথে কতগুলো ইস্তেঞ্জাখানা ও গোসলখানা বানিয়েছিলেন?

২১৬

রাসূল সাঃ মসজিদে অজুর স্থান কেমন বানিয়েছিলেন?

২১৭

রাসূল সাঃ মসজিদে কোন ধরণের পাখা লাগিয়েছিলেন?

২১৮

রাসূল সাঃ বলেছেন যে, প্রতিটি বাজনাতে শয়তান আছে। মসজিদে বাজনাওয়ালা ঘড়ি লাগানোর হাদীসে কী হুকুম বিদ্যমান?

২১৯

রাসূল সাঃ এক মুদ পরিমাণ পানি দিয়ে অজু করতেন। এর চেয়ে বেশি পানি ব্যবহার করা কি অপচয় নাকি না? একটু বুঝে শুনে বলুনতো।

২২০

রাসূল সাঃ এক সা পানি দিয়ে গোসল করতেন। গোসলের সময় এর চেয়ে বেশি পানি ব্যবহার করা কি অপচয়ের অন্তুর্ভূক্ত? নাকি না?

২২১

মুদ এবং সা’ এর পরিমাণ আমাদের প্রচলিত ওজন অনুযায়ী হাদীস দ্বারা কতটুকু প্রমাণিত?

২২২

কুরআন ও হাদীসে সাধারণ স্থান ও মসজিদের মাঝে কী কী পার্থক্য আছে?

২২৩

রাসূল সাঃ এর জমানায় মসজিদ কতটুকু আলোকিত করা হতো? বর্তমানে এর চেয়ে বেশি আলোকিত করা কি জায়েজ?

২২৪

রাসূল সাঃ এর জমানায় হাবশীরা মসজিদে খেলাধোলা করত, আপনাদের মসজিদে এ সুন্নত জিন্দা আছেতো?

২২৫

রাসূল সাঃ জুতাকে দুুই পায়ের মাঝে রাখার হুকুম দিয়েছেন। যে ব্যক্তিরা মসজিদের বাইরে জুতা রাখে, বা মসজিদের সামনে বা মুসল্লিদের সামনে রাখে তারা এ হাদীসের খেলাফ আমল করে না?

২২৬

হাদীসে যেমন এসেছে যে, من رغب عن سنتى فليس منى তথা যে ব্যক্তি আমার সুন্নত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় সে আমার [উম্মতের] অন্তর্ভূক্ত নয় বলে বক্তব্য এসেছে, তেমনি কি من رغب عن حديثى فليس منى তথা যে ব্যক্তি আমার হাদীস থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, সে আমার [উম্মতের] অন্তর্ভূক্ত নয় মর্মে কোন হাদীস এসেছে?

২২৭

যেমন হাদীসের মাঝে من احب سنتى فقد احبنى তথা যে ব্যক্তি আমার সুন্নতকে ভালবাসলো সে আমাকে ভালবাসলো মর্মে হাদীস এসেছে তেমনি কি من احب حديثى فقد احبنى তথা যে ব্যক্তি আমার হাদীসকে ভালবাসলো সে আমাকে ভালবাসলো এমন হাদীস এসেছে?

২২৮

হাদীসে যেমন عليكم بسنتى তথা তোমাদের উপর আমার সুন্নতের অনুসরণ আবশ্যক মর্মে আদেশ এসেছে, তেমন কি عليكم بحديثى তথা তোমাদের উপর আমাদের হাদীস আবশ্যক একথাও এসেছে?

২২৯

যেমন সুন্নতের উপর আমল করার ফযীলত একশত শহীদের সমমানের বলে হাদীসে এসেছে, তেমনি কি হাদীসের উপর আমল শত শহীদের সওয়াব হবে মর্মে এসেছে?

২৩০

যেমন হাদীসে সুন্নত ও হাদীসের আলাদা আলাদা হওয়ার কথা এসেছে, তেমনি কি হাদীসে হাদীস ও সুন্নত এক একথাও এসেছে?

২৩১

সহীহ মুসলিমের ১ম খন্ডের ১০নং পৃষ্ঠায় হাদীসের নাম নিয়ে গোমরাহকারী ফেতনাবাজদের মিথ্যুক ও দাজ্জাল বলা হয়েছে। কোন সহীহ হাদীসে কি সুন্নতের উপর আমলকারীদেরও এমন বলা হয়েছে?

২৩২

শায়েখ আব্দুল কাদীর রহঃ এর লিখা গুনিয়াতুত তালেবীনের এক হাদীসে শয়তানের বাচ্চার নাম “হাদীস” এসেছে। হাদীসের নাম নিয়ে সমাজে বিশৃংখলাকারী সে শয়তানের বাচ্চা কারা?

২৩৩

হাদীসে ইজমার অস্বিকারকারীকে গোমরাহ এবং জাহান্নামী বলা হয়েছে। কোন হাদীসে কি ইজমা মান্যকারীদের গোমরাহ ও জাহান্নামী বলা হয়েছে?

২৩৪

যেমন কুরআন ও হাদীসে ফিক্বহের প্রশংসা এসেছে, তেমনি কোন আয়াত বা হাদীসে কি ফিক্বহের নিন্দাবাদ এসেছে?

২৩৫

হাদীস অস্বিকারকারীরা অনেক প্রশ্ন উত্থাপন করে থাকে। যেমন তারা বলে যে, [মাআজাল্লাহ] হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, রাসূল সাঃ এর কথা ও কাজে বিপরীতমুখীতা আছে। এসব বিপরীতমুখীতাকে নিজের কিয়াস তথা যুক্তি দিয়ে নয় হাদীস দিয়ে জবাব দিন, যাতে হাদীসের প্রতি মানুষে খারাপ ধারণা না হয়।

রাসূল সাঃ এর হুকুম ছিল যে, প্রাকৃতিক প্রয়োজন করার সময় কিবলামুখী হওয়া বা সেদিকে পিঠ দেয়া নিষেধ। অথচ রাসূল সাঃ নিজেই কেবলামুখী হয়ে প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণ করেছেন।

যুক্তি তথা কিয়াস নয় হাদীস দিয়ে এ প্রশ্নের জবাব দিন।

২৩৬

রাসূল সাঃ এর হুকুম ছিল যে, তিনটির কম পাথর দিয়ে ইস্তেঞ্জা করবে না। কিন্তু তিনি নিজেই দুই পাথর দিয়ে ইস্তেঞ্জা করেছেন।

২৩৭

রাসূল সাঃ স্ত্রীর গোসল করা পানির অবশিষ্টাংশ দিয়ে গোসল করতে নিষেধ করেছেন। অথচ তিনি নিজেই বিবির গোসলের অবশিষ্ট পানি দিয়ে গোসল করেছেন।

২৩৮

রাসূল সাঃ বারবার বলেছেন যে, আগুনে পাকানো খাবার খেলে অজু ভেঙ্গে যায়, অথচ তিনি নিজে পাকানো গোস্ত খেয়ে অজু করতেন না।

২৩৯

রাসূল সাঃ এর হুকুমতো এই ছিল যে, গোসল ফরজ হওয়া ব্যক্তি অজু করে শুইবে, কিন্তু তিনি নিজেই অজু ছাড়াই শুয়ে যেতেন।

২৪০

রাসূল সাঃ ফরজ নামায আলোকিত অবস্থায় পড়তে আদেশ দিতেন, অথচ তিনি নিজে অন্ধকারেই ফজরের নামায পড়তেন।

২৪১

রাসূল সাঃ আসরের নামাযের পর নামায পড়তে নিষেধ করেছেন। অথছ তিনি নিজেই নামায পড়তেন।

২৪২

রাসূল সাঃ লোকদের নামাযে এদিক সেদিক তাকাতে নিষেধ করতেন, অথচ তিনি নিজেই চোখের কোণা দিয়ে এদিক সেদিক তাকাতেন।

২৪৩

রাসূল সাঃ জানাযার সাথে সওয়ার হয়ে যেতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু তিনিই ঘোড়ার উপর সওয়ার হয়ে গিয়েছেন।

২৪৪

রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন যে, যে ব্যক্তি রোজা অবস্থায় সিঙ্গা লাগাবে, তার রোজা ভেঙ্গে যাবে, অথচ তিনি নিজেই সিঙ্গা লাগিয়েছেন।

এ সকল মাসআলাগুলো তিরমিজীতে বিদ্যমান। এ সকল প্রশ্নের জবাব সহীহ সরীহ হাদীস দিয়ে দেয়া সহীহ হাদীসের উপর আমল করার দাবিদার গায়রে মুকাল্লিদ তথা কথিত আহলে হাদীসদের জিম্মায় আবশ্যক।

২৪৫

রাসূল সাঃ যেভাবে স্বীয় সাহাবীদের আহলে কুরআন বলে সম্বোধন করেছেন {সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১১৭০, সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-৪৫৩, ২৮২}

ঠিক এভাবে কোন সহীহ হাদীসে সাহাবাগণকে এভাবে আহলে হাদীস বলা হয়েছে?

২৪৬

মৌলবী সানাউল্লাহ সাহেব এবং মৌলবী এনায়েতুল্লাহ আসরী মির্যায়ী তথা কাদিয়ানীদের পিছনে নামায পড়া জায়েজ বলতেন। {ফায়সালায়ে মক্কা-৩৬} নিজেরা পড়তেনও নামায। এটি কোন হাদীসের উপর আমল?

২৪৭

রাসূল সাঃ বনু কুরায়জার রাস্তায় আসর নামায আদায়কারী এবং তরককারী দুই দলের কোন দলের ইজতিহাদকে ভুল বলে আখ্যায়িত করেন নি। কোন দলের উপর প্রশ্নও তোলেন নি তারা কেন এটা করেছে?

গায়রে মুকাল্লিদরা কোন হাদীসের উপর নির্ভর করে মুজতাহিদগণকে শয়তান বলে থাকে?

২৪৮

রাসূল সাঃ এর হাদীস অনুযায়ী মুজতাহিদের প্রতিটি অবস্থায়ই সওয়াব পায়, ভুল করলে একটি আর সঠিক হলে দুইটি। এমতাবস্থায় মুজতাহিদদের গালি দেয়া কোন হাদীসের উপর আমল?

২৪৯

মৌলবী মুহাম্মদ ইউসুফ গায়রে মুকাল্লিদ সাহেব “হাকীকাতুল ফিক্বহ” এ বলেছেন যে, গর্দান মাসাহ করা বেদআত। আর এ সংক্রান্ত হাদীস জাল। হেদায়া-১/১৮, ১৯৩}

অথচ একথাটি সম্পূর্ণ মিথ্যাচার। কেননা, হেদায়াতে একথা বিলকুল নেই।

২৫০

হাকীকাতুল ফিক্বহের ১৯৪ পৃষ্ঠায় লিখেছেন যে, পাগড়ির উপর মাসাহ করা জায়েজ আছে। হেদায়া-১/১০]

অথচ হেদায়ার আসল ইবারতে আছে যে, لا يجوز المسح على العمامة তথা পাগড়ির উপর মাসাহ করা জায়েজ নেই।

তাহলে হেদায়ার নামে এ মিথ্যাচার কেন?

২৫১

হাকীকাতুল ফিক্বহের ২০০ নং পৃষ্ঠায় লিখেছেন যে, একবার মাটিতে হাত মেরে তায়াম্মুম করার বর্ণনা সহীহাইন তথা বুখারী মুসলিমে অনেক বর্ণিত। এবং তা সহীহ। [হেদায়া-১/১৪২, শরহে বেকায়া-৮৭]

আর ২০১ নং পৃষ্ঠায় লিখেছেন যে, তায়াম্মুম এর মাঝে দুই বার হাত মারার হাদীস জঈফ ও মওকূফ। [হেদায়া-১/১৪২, শরহে বেকায়া-৫৬]

হেদায়া ও শরহে বেকায়ার নামে লেখা সব ক’টি কথাই মিথ্যাচার। বরং হেদায়াতে লেখা আছে যে, তায়াম্মুমে দুইবার হাত মাটিতে মারতে হবে। একবার চেহারার জন্য আরেকবার উভয় হাতের জন্য। এটাই রাসূল সাঃ এর ফরমান।

তারপর তিনি হাকীকাতুল ফিক্বহের ৩২ নাম্বার পৃষ্ঠায় লিখেছেন যে, রাসূল সাঃ এর সর্বদার আমল অন্ধকার অবস্থায় ফজর নামায পড়াই ছিল। [হেদায়া-১/২৯২]

অথচ হেদায়ার মূল আরবী ইবারত হল- ويستحب الإسفار بالفجر لقوله عليه السلام اسفروا بالفجر فانه اعظم للاجر অর্থাৎ ফর্সা হওয়া অবস্থায় ফজর নামায পড়া মুস্তাহাব, কেননা, রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ “তোমরা ফজরকে ফর্সা হলে আদায় কর, কেননা এটাই অধিক সওয়াবের কারণ”।

তিনি আরো লিখেছেন যে, “তারজী’ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। [হেদায়া-১/২৯২}

অথচ হেদায়াতে ঠিক এর উল্টোটি লিখা আছে। হেদায়াতে লিখা হল- لا ترجع فيه لنا انه لا ترجيع فى المشاهير অর্থাৎ আজানে তারজী’ নেই। কেননা, মাশহুর হাদীসে তারজী’ প্রমাণিত নয়।

তিনি আরো লিখেছেন যে, ইকামত হল একবার একবার করে। [শরহে বেকায়া]

অথচ শরহে বেকায়ার মূল আরবীতে আছে যে, ইকামত হল আজানের মত। কেননা, ফেরেস্তা আজান ও ইকামত একইভাবে শিখিয়েছেন।

এভাবে একের পর এক মিথ্যা রেফারেন্স দিয়ে ভরে রেখেছেন তিনি হাকীকাতুল ফিক্বহ নামক মিথ্যা সর্বস্ব বইয়ে। দ্বীন প্রচারের নামে এত মিথ্যাচার আরো কেউ করেছে কি না চিন্তার বিষয়।

এরকম অসংখ্যা মিথ্যচারের ভাগাড় হল গায়রে মুকাল্লিদ আলেম মৌলবী মুহাম্মদ ইউসুফ এর লেখা “হাকীকাতুল ফিক্বহ”। আরো কিছু মিথ্যাচারের নমুনা দেখুনঃ

হাকীকাতুল ফিক্বহের মিথ্যাচার

২৫২

সেজদায়ে সাহু উভয় দিকে সালাম ফিরানোর পর করবে। [হেদায়া-১/৫৮৪, শরহে বেকায়া-১৩৯]

২৫৩

এক সালামের পর সেজদায়ে সাহুকারী বেদআতি। [হেদায়া-১/৫৮৫]

এ সকল কিছুই মিথ্যা কথা। আপনি নিজে উক্ত কিতাব উঠিয়ে দেখলে অবাক হয়ে যাবেন। কিভাবে এমন জঘন্য মিথ্যাচার করা হয়েছে ওসব কিতাবের নাম নিয়ে। অথচ এসব বক্তব্যের সম্পূর্ণ উল্টো হেদায়া ও শরহে বেকায়ায় লিখা আছে। এরকম মিথ্যা কথা নিসবত এসব গ্রহণযোগ্য কিতাবের দিকে করে সাধারণ জনগণকে ধোঁকা দেয়ার এক জঘন্য খেলায় মত্ত হয়েছেন তিনি।

আরো লিখেছেন যে, তারাবীহের মাঝে ২০ রাকাতের হাদীস দুর্বল। [হেদায়া-১/৫৬৩, শরহে বেকায়া-১৩৩]

২৫৪

তারাবীহের ৮ রাকাতের হাদীস সহীহ। [শরহে বেকায়া-১৩৩]

২৫৫

বেতেরের সাথে তারাবীহ এগার রাকাত প্রমাণিত। [হেদায়া-১/৫৬৩, শরহে বেকায়া-১৩৩]

২৫৬

তারাবীহ ৮ রাকাত সুন্নত আর ২০ রাকাত মুস্তাহাব। [শরহে বেকায়া-১৩৪]

এ সব ক’টি বক্তব্য স্পষ্ট মিথ্যাচার। এসব কিতাবে শুধু ২০ রাকাত তারাবীহের কথাই উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ কি নির্লজ্জভাবে এসব কিতাবের দিকে নিসবত করে মিথ্যাচার করা হয়েছে।

২৫৭

হাকীকাতুল ফিক্বহে আরো লিখা হয়েছে যে, ফজরের ফরজের পর সুন্নত পড়া যায়। [হেদায়া-১/৫৪২, শরহে বেকায়া-৮৪]

এটাও এসব কিতাবের দিকে নিসবত করা সুষ্পষ্ট মিথ্যাচার। আরবী হেদায়া ও শরহে বেকায়ায় এমন কোন বক্তব্য নেই।

আরো লিখেছেন যে, ফজরের সুন্নত পড়ে ডান কাৎ হয়ে শুইবে। [হেদায়া-১/৫৪১]

একদম মিথ্যা কথা। হেদায়ার আরবী কিতাবে এর নাম-গন্ধও নেই।

আমরা সাধারণ গায়রে মুকাল্লিদ ভাইদের কাছে অনুরোধ করি এরকম মিথ্যাচার কেন করলেন আপনাদের পথিকৃত গায়রে মুকাল্লিদ আলেমরা? উপরে বর্ণিত নামায সম্পর্কিত মাসায়েলগুলোর কুরআন ও সহীহ হাদীস ভিত্তিক জবাব দিতে কোন দিন কি দিতে পারবে গায়রে মুকাল্লিদ তথা কথিত আহলে হাদীস নামধারীরা? যদি না দিতে পারেন, তাহলে আপনাদের কুরআন ও সহীহ হাদীস ভিত্তিক নামাযের মিথ্যা স্লোগান বর্জন করে কুরআন হাদীসের আলোকে মুজতাহিদ ইমামদের বের করা নামায পদ্ধতি অনুসরণ করুন। আর জাতিকে প্রোপাগান্ডা, বিভ্রান্তি ও অপপ্রচারের হাত থেকে রক্ষা করুন।

লেখাটি মুনাযেরে ইসলাম, ওকীলে আহনাফ মাওলানা মুহাম্মত আমীন সফদর রহঃ এর লেখা “গায়রে মুকাল্লিদ কি গায়রে মুস্তানাদ নামায” নামক বইটির অনুবাদ। অনুবাদ করেছেন জামিয়াতুল আস’আদ আল ইসলামিয়া ঢাকার সহকারী মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

image

সময় নিয়ে পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ
@মিম মিফতাহ

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s