***জাকির নায়েক বলেছেন,রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর রওযা শরিফের ভিতরে মৃত। [লেকচার সমগ্র, ভলিউম-৫, পৃষ্ঠা-৯৫] |

মুসলমানদের আকিদা হচ্ছে-রাসূলুল্লাহ (সা.) আলমে বরযখে নিজ কবর মুবারকে সশরীরে জীবিত আছেন।
তাইতো কোনো মুসলমান দূর থেকে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর প্রতি দরূদ ও সালাম পাঠ… করলে সেই ব্যক্তির প থেকে তা ফেরেশতার মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর নিকট পৌঁছানো হয় এবং তিনি তাগ্রহণ করেন। এছাড়া কেউ রওযা মুবারকের নিকট এসে সালাত ও সালাম পাঠকরলে তা রাসূলুল্লাহ (সা.) সরাসরি গ্রহণ করেন। এ হায়াতুন নবী (সা.) -এর আকিদা ইসলামের দলিল দিয়ে প্রমাণিত।
[তথ্যসূত্র: সহিহ মুসলিম, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা-১৭৮/ সুনানু বাইহাকি, হাদিস: ১৫৮৩/ সুনানু দারিমি, হাদিস: ২৭ নবীগণ কবরে জীবিত হওয়ার দলীল …

১-
وَلاَ تَقُولُواْ لِمَنْ يُقْتَلُ فِي سَبيلِ اللَّهِ أَمْوَاتٌ بَلْ أَحْيَاء وَلَكِن لاَّ تَشْعُرُونَ (سورة البقرة-154)
আল্লাহর পথে যারা শহীদ হয় তাদের তোমরা মৃত বল না। বরং তারা জীবিত। তবে তা তোমরা উপলব্ধি করতে পারো না। {সূরা বাকারা-১৫৪}
উক্ত আয়াতের স্পষ্ট ভাষ্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে, শহীদগণ কবরে জীবিত।
আর ইংগিতের সাথে একথাও বুঝাচ্ছে যে, নবীগণও কবরে জীবিত। কেননা নবীগণের মর্যাদা শহীদদের তুলনায় অনেক উর্দ্ধে। সুতরাং শহীদগণ যদি কবরে জীবিত থাকেন, তাহলে নবীগণ কেন হবেন মৃত? তারা অবশ্যই জীবিত।
২-
عَن أَنَس ؛ أَن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : الأنبياء أحياء في قبورهم يصلون (مسند البزار-مسند أبي حمزة أنس بن مالك رضي الله عنه، رقم الحديث-6888)
হযরত আনাস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-নবীরা কবরে জীবিত। আর তারা সেখানে নামায পড়েন। {মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৬৮৮৮, মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-৩৪২৫, সহীহ কুনুযুস সুন্নাতির নববিয়্যাহ, হাদীস নং-২২}

তবে সেটা বারযাখী জীবন, যা মানুষের জ্ঞানের বাইরে। ঐ ছালাত দুনিয়াবী ছালাতের সাথে তুলনীয় নয়।

৩-
عن أبي الدرداء قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم ( أكثروا الصلاة علي يوم الجمعة . فإنه مشهود تشهده الملائكة . وإن أحدا لن يصلي علي إلا عرضت علي صلاته حتى يفرغ منها ) قال قلت وبعد الموت ؟ قال ( وبعد الموت . إن الله حرم على الأرض أن تأكل أجساد الأنبياء (سنن ابن ماجه، كتاب الجنائز، باب ذكر وفاته صلى الله عليه و سلم، رقم الحديث-1637)
হযরত আবু দারদা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-তোমরা জুমআর দিন বেশি বেশি করে দুরুদ পড়। নিশ্চয় ফেরেস্তারা এর উপর স্বাক্ষ্যি থাকে। আর যখন কেউ আমার উপর দুরুদ পড়ে তখনই তা আমার নিকট পেশ করা হয়। আবু দারদা রাঃ বলেন-আমি জিজ্ঞাসা করলাম-মৃত্যুর পরেও কি তা পেশ করা হবে? উত্তরে তিনি বললেন-হ্যাঁ!, কেননা আল্লাহ তায়ালা জমিনের জন্য নবীদের দেহ ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন।
{ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৬৩৭, ১৬৩৬, সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী, হাদীস নং-৪৬৯, আল মুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৪৭৮০, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-১৫৭২, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৩৪৮৫, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৫৭৫৯}
এ হাদীস সুষ্পষ্ট প্রমাণ করে যে, নবীগণ কবরে জীবিত।

হযরত আম্বিয়া কেরাম আলাইহিমুস সালাম এর কবরের জীবন হুবহু জিবীত থাকা সত্য ও হক্ব। ইমাম বাইহাকী রহমাতুল্লাহি আলাইহি এ বিষয় বস্তুর উপর একটি সহীহ হাদিস বর্ণনা করেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার (রহ) ফতহুল বারী ৬:৩৫২ এবং হাফেজ সাখাবী আলাকওলুল বদী’-১১৬-এ উক্ত হাদিস্কে বিশুদ্ধ সনদ বিশিষ্ট বলেছেন । এছাড়া আল্লামা সাখাবী(রহ) লিখেন যে-
আমরা ঈমান রাখি সত্ত্যায়ন করি যে, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরে জিবীত এবং তাঁকে রিযিক দেয়া হয় এবং তাঁর শরীর মোবারক কে মাটি খায়না অর্থাৎ নষ্ট করে না। আর এর উপর উম্মতের ইজমা এবং ইত্তেফাক। (আলকওলুল বদী’- ১২৫)

মুল্লা আলী ক্বারী (রহ) তাঁর কিতাব الدرة ِالمضٔية في ِالزيارة المصطفوية তে লিখেন-” নবিজীর কবর জিয়ারাতের ফায়েদা সমূহের মাঝে সবচেয়ে বড় ফায়েদা এই যে, যখন যিয়ারাতকারী হুজুরের কবরের নিকট দুরুদ ও সালাম পাঠ করে তখন তিনি তা যথাযথভাবে তা শুনেন ও তার জবাব দেন কোন প্রকার মাধ্যম(ফেরতেশতা ) ছাড়া, তার বিপরীতে যখন কোন ব্যাক্তি দূর হতে দুরূদ ও সালাম পাঁঠ করে ,তখন ফেরেশতার মাধ্যমে তা হুজুরের নিকট পৌঁছানো হয়। ( এ আকিদার কারণ ) এজন্য যে, মজবুত সনদে এসেছে (হুজুর বলেন) যে আমার কবরের নিকট দুরূদ পড়ে আমি তা সরাসরি শুনি, আর যে দূর হতে দুরূদ পড়ে ,তা আমার নিকট পৌঁছে দেয়া হয়।”

উপরের মুল্লা আলী ক্বারী (রহ) যে হাদিস বর্ণনা করেছেন যেখানে من صلّي عند قبرئ আছে তা আবুশ শায়খ -এর সনদে সহীহ। এই হাদিসে মুহাম্মাদ বিন মারওয়ান সুদ্দী নেই। এই প্রসঙ্গেই হাফেজ ইবনে হাজার আস্কালানী (রহ) বলেন যে,بسند جيِّد পোক্তা সনদে বর্ণিত (ফতহুল বারী ৬: ৩৫২) এবং উক্ত সনদকে আল্লামা সাখাবী (রহ) وسنده جيِّد -এর সনদ মজবুত লিখেছেন। (আল কওলুল বদী-১১৬) এবং আহলে হাদিস আলেম নওয়াব সিদ্দীক খান লিখেন اسناد جيِّد -বর্ণনা সূত্র উত্তম (আদদলীলুত ত্বালেব-৮৪৪)

এবং অধিক সম্ভাব্য যে, এর উপরই শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ) এই মাসয়ালার বুনিয়াদ রেখে লিখেন যে,
فاخبرانّه ىسمع اصلوة واسّلام من القرىب وانّه ىبلغ ذالك من بعد (منا سك لججع ص ٨٤)
অর্থাৎ,হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি নিকটবর্তী থেকে নিজেই দুরূদ ও সালাম শুনতে পান। আর দূর থেকে হুজুরের নিকট দুরূদ ও সালাম পৌঁছানো হয়।

ইবনুল কায়্যিম(রহ) লিখেন যে- “যদিও হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রূহ মোবারক হযরত আম্বীয়ায়ে কেরাম আলাইহিমুস সালাম-এর রূহের সাথে রফীকে আলায় এ রয়েছেন,কিন্তু এতদ্বসত্বেও তাঁর রূহ মোবারক তাঁর শরীর মোবারকের সাথে সম্পর্ক রয়েছে,যে কারণে তিনি সালাম দাতার উত্তর দিয়ে থাকেন
( যাদুল মা’আদ খঃ ২, পৃঃ ৪৯)

রুহুল আয়ানীর লেখক তার কিতাবের ২২ঃ৩৬ এবং আল্লামা সবকী (রহ) শিফাউস সিকাম-১৪৩ এ বর্ণনা করেন যে, এই কবরের জীবন সমস্ত আহকামের ক্ষেত্রে দুনিয়াবী জীবনের মত নয় এবং সব দুনায়াবী আহকাম তার উপর বিন্যস্ত হয় না যে, এরকম বলা- যেমন দুনায়াবী খাওয়া ও পান করার প্রয়োজন ছিল,কবরেও এরকম হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। বরং তিনি বলেন যে, ঐ জীবন ইলম তথা জানা ও শ্রবন করা ইত্যাদি অর্জনের ক্ষেত্রে দুনিয়াবী জীবনের মত এবং এ সম্পর্কেই আল্লাম সুবকী (রহ) ও অন্যান্যগণ বলেন-
فلا شكّ انّ ذلك ثابت(شفاء السقام ص:١٤٣)

যারা কবরের হযরত আম্বিয়া কেরাম আলাইহিমুস সালাম-এর জিবীত থাকার মত পোষণ করেন,তাদের উদ্দেশ্যও দুনিয়াবী জীবন থেকে শুধু এতটুকু জীবন যে, কবরের পাশে সালাত ও সালামম শুনতে পান এবং শরীর মোবারকের সাথে রূহ মোবারকের গভীর(শক্ত) সম্পর্ক বিদ্যমান,তাদের উদ্দেশ্য দুনিয়ার এই ধ্বংশশীল ও নিকৃষ্ট জীবন এবং পাবন্দী ও কষ্টের কখনই নয়। কোরানুল কারিমের কিছু কিছু আয়াত দ্বারা একথা অকাট্যভাবে প্রমাণিত যে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এ দুনিয়া থেকে ওফাত হয়েছে,কিন্তু এরপর উন্নত ও উত্তম জীবন কবরে আল্লাহ তা’আলা তাঁকে দিয়েছেন (যেমনটি নাকি তিনি স্তরভেদে শহীদ,সাধারণ মুমীন এবং কাফের ও গুনাহগারদেরকে স্থান দিয়ে থাকেন) তা সত্য ও প্রমাণিত। কোন সহীহ আকলী অথবা নকলী (যৌক্তিক কিংবা বর্ণিত) দলীল দ্বারা তার অস্বীকৃতি সাব্যস্ত নেই। এটাই আকাবেরে দেওবন্দ এর আক্বীদা। ( আল্মুহান্নিদ আলাল মুসান্নিফ-১৩)
৭৪/ মুসনাদে আহমদ, ৩য় খন্ড, পৃষ্ঠা-১৫৬]
Admin Id Link: https://www.facebook.com/ehsanul.hokSee More
Photo: ‎রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর রওযা শরিফের ভিতরে মৃত। [লেকচার সমগ্র, ভলিউম-৫, পৃষ্ঠা-৯৫] মুসলমানদের আকিদা হচ্ছে-রাসূলুল্লাহ (সা.) আলমে বরযখে নিজ কবর মুবারকে সশরীরে জীবিত আছেন। তাইতো কোনো মুসলমান দূর থেকে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর প্রতি দরূদ ও সালাম পাঠ করলে সেই ব্যক্তির প থেকে তা ফেরেশতার মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর নিকট পৌঁছানো হয় এবং তিনি তাগ্রহণ করেন। এছাড়া কেউ রওযা মুবারকের নিকট এসে সালাত ও সালাম পাঠকরলে তা রাসূলুল্লাহ (সা.) সরাসরি গ্রহণ করেন। এ হায়াতুন নবী (সা.) -এর আকিদা ইসলামের দলিল দিয়ে প্রমাণিত। [তথ্যসূত্র: সহিহ মুসলিম, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা-১৭৮/ সুনানু বাইহাকি, হাদিস: ১৫৮৩/ সুনানু দারিমি, হাদিস: ২৭ নবীগণ কবরে জীবিত হওয়ার দলীল … ১- وَلاَ تَقُولُواْ لِمَنْ يُقْتَلُ فِي سَبيلِ اللَّهِ أَمْوَاتٌ بَلْ أَحْيَاء وَلَكِن لاَّ تَشْعُرُونَ (سورة البقرة-154) আল্লাহর পথে যারা শহীদ হয় তাদের তোমরা মৃত বল না। বরং তারা জীবিত। তবে তা তোমরা উপলব্ধি করতে পারো না। {সূরা বাকারা-১৫৪} উক্ত আয়াতের স্পষ্ট ভাষ্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে, শহীদগণ কবরে জীবিত। আর ইংগিতের সাথে একথাও বুঝাচ্ছে যে, নবীগণও কবরে জীবিত। কেননা নবীগণের মর্যাদা শহীদদের তুলনায় অনেক উর্দ্ধে। সুতরাং শহীদগণ যদি কবরে জীবিত থাকেন, তাহলে নবীগণ কেন হবেন মৃত? তারা অবশ্যই জীবিত। ২- عَن أَنَس ؛ أَن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : الأنبياء أحياء في قبورهم يصلون (مسند البزار-مسند أبي حمزة أنس بن مالك رضي الله عنه، رقم الحديث-6888) হযরত আনাস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-নবীরা কবরে জীবিত। আর তারা সেখানে নামায পড়েন। {মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৬৮৮৮, মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-৩৪২৫, সহীহ কুনুযুস সুন্নাতির নববিয়্যাহ, হাদীস নং-২২} তবে সেটা বারযাখী জীবন, যা মানুষের জ্ঞানের বাইরে। ঐ ছালাত দুনিয়াবী ছালাতের সাথে তুলনীয় নয়। ৩- عن أبي الدرداء قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم ( أكثروا الصلاة علي يوم الجمعة . فإنه مشهود تشهده الملائكة . وإن أحدا لن يصلي علي إلا عرضت علي صلاته حتى يفرغ منها ) قال قلت وبعد الموت ؟ قال ( وبعد الموت . إن الله حرم على الأرض أن تأكل أجساد الأنبياء (سنن ابن ماجه، كتاب الجنائز، باب ذكر وفاته صلى الله عليه و سلم، رقم الحديث-1637) হযরত আবু দারদা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-তোমরা জুমআর দিন বেশি বেশি করে দুরুদ পড়। নিশ্চয় ফেরেস্তারা এর উপর স্বাক্ষ্যি থাকে। আর যখন কেউ আমার উপর দুরুদ পড়ে তখনই তা আমার নিকট পেশ করা হয়। আবু দারদা রাঃ বলেন-আমি জিজ্ঞাসা করলাম-মৃত্যুর পরেও কি তা পেশ করা হবে? উত্তরে তিনি বললেন-হ্যাঁ!, কেননা আল্লাহ তায়ালা জমিনের জন্য নবীদের দেহ ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন। {ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৬৩৭, ১৬৩৬, সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী, হাদীস নং-৪৬৯, আল মুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৪৭৮০, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-১৫৭২, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৩৪৮৫, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৫৭৫৯} এ হাদীস সুষ্পষ্ট প্রমাণ করে যে, নবীগণ কবরে জীবিত। হযরত আম্বিয়া কেরাম আলাইহিমুস সালাম এর কবরের জীবন হুবহু জিবীত থাকা সত্য ও হক্ব। ইমাম বাইহাকী রহমাতুল্লাহি আলাইহি এ বিষয় বস্তুর উপর একটি সহীহ হাদিস বর্ণনা করেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার (রহ) ফতহুল বারী ৬:৩৫২ এবং হাফেজ সাখাবী আলাকওলুল বদী’-১১৬-এ উক্ত হাদিস্কে বিশুদ্ধ সনদ বিশিষ্ট বলেছেন । এছাড়া আল্লামা সাখাবী(রহ) লিখেন যে- আমরা ঈমান রাখি সত্ত্যায়ন করি যে, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরে জিবীত এবং তাঁকে রিযিক দেয়া হয় এবং তাঁর শরীর মোবারক কে মাটি খায়না অর্থাৎ নষ্ট করে না। আর এর উপর উম্মতের ইজমা এবং ইত্তেফাক। (আলকওলুল বদী’- ১২৫) মুল্লা আলী ক্বারী (রহ) তাঁর কিতাব الدرة ِالمضٔية في ِالزيارة المصطفوية তে লিখেন-” নবিজীর কবর জিয়ারাতের ফায়েদা সমূহের মাঝে সবচেয়ে বড় ফায়েদা এই যে, যখন যিয়ারাতকারী হুজুরের কবরের নিকট দুরুদ ও সালাম পাঠ করে তখন তিনি তা যথাযথভাবে তা শুনেন ও তার জবাব দেন কোন প্রকার মাধ্যম(ফেরতেশতা ) ছাড়া, তার বিপরীতে যখন কোন ব্যাক্তি দূর হতে দুরূদ ও সালাম পাঁঠ করে ,তখন ফেরেশতার মাধ্যমে তা হুজুরের নিকট পৌঁছানো হয়। ( এ আকিদার কারণ ) এজন্য যে, মজবুত সনদে এসেছে (হুজুর বলেন) যে আমার কবরের নিকট দুরূদ পড়ে আমি তা সরাসরি শুনি, আর যে দূর হতে দুরূদ পড়ে ,তা আমার নিকট পৌঁছে দেয়া হয়।” উপরের মুল্লা আলী ক্বারী (রহ) যে হাদিস বর্ণনা করেছেন যেখানে من صلّي عند قبرئ আছে তা আবুশ শায়খ -এর সনদে সহীহ। এই হাদিসে মুহাম্মাদ বিন মারওয়ান সুদ্দী নেই। এই প্রসঙ্গেই হাফেজ ইবনে হাজার আস্কালানী (রহ) বলেন যে,بسند جيِّد পোক্তা সনদে বর্ণিত (ফতহুল বারী ৬: ৩৫২) এবং উক্ত সনদকে আল্লামা সাখাবী (রহ) وسنده جيِّد -এর সনদ মজবুত লিখেছেন। (আল কওলুল বদী-১১৬) এবং আহলে হাদিস আলেম নওয়াব সিদ্দীক খান লিখেন اسناد جيِّد -বর্ণনা সূত্র উত্তম (আদদলীলুত ত্বালেব-৮৪৪) এবং অধিক সম্ভাব্য যে, এর উপরই শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ) এই মাসয়ালার বুনিয়াদ রেখে লিখেন যে, فاخبرانّه ىسمع اصلوة واسّلام من القرىب وانّه ىبلغ ذالك من بعد (منا سك لججع ص ٨٤) অর্থাৎ,হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি নিকটবর্তী থেকে নিজেই দুরূদ ও সালাম শুনতে পান। আর দূর থেকে হুজুরের নিকট দুরূদ ও সালাম পৌঁছানো হয়। ইবনুল কায়্যিম(রহ) লিখেন যে- “যদিও হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রূহ মোবারক হযরত আম্বীয়ায়ে কেরাম আলাইহিমুস সালাম-এর রূহের সাথে রফীকে আলায় এ রয়েছেন,কিন্তু এতদ্বসত্বেও তাঁর রূহ মোবারক তাঁর শরীর মোবারকের সাথে সম্পর্ক রয়েছে,যে কারণে তিনি সালাম দাতার উত্তর দিয়ে থাকেন ( যাদুল মা’আদ খঃ ২, পৃঃ ৪৯) রুহুল আয়ানীর লেখক তার কিতাবের ২২ঃ৩৬ এবং আল্লামা সবকী (রহ) শিফাউস সিকাম-১৪৩ এ বর্ণনা করেন যে, এই কবরের জীবন সমস্ত আহকামের ক্ষেত্রে দুনিয়াবী জীবনের মত নয় এবং সব দুনায়াবী আহকাম তার উপর বিন্যস্ত হয় না যে, এরকম বলা- যেমন দুনায়াবী খাওয়া ও পান করার প্রয়োজন ছিল,কবরেও এরকম হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। বরং তিনি বলেন যে, ঐ জীবন ইলম তথা জানা ও শ্রবন করা ইত্যাদি অর্জনের ক্ষেত্রে দুনিয়াবী জীবনের মত এবং এ সম্পর্কেই আল্লাম সুবকী (রহ) ও অন্যান্যগণ বলেন- فلا شكّ انّ ذلك ثابت(شفاء السقام ص:١٤٣) যারা কবরের হযরত আম্বিয়া কেরাম আলাইহিমুস সালাম-এর জিবীত থাকার মত পোষণ করেন,তাদের উদ্দেশ্যও দুনিয়াবী জীবন থেকে শুধু এতটুকু জীবন যে, কবরের পাশে সালাত ও সালামম শুনতে পান এবং শরীর মোবারকের সাথে রূহ মোবারকের গভীর(শক্ত) সম্পর্ক বিদ্যমান,তাদের উদ্দেশ্য দুনিয়ার এই ধ্বংশশীল ও নিকৃষ্ট জীবন এবং পাবন্দী ও কষ্টের কখনই নয়। কোরানুল কারিমের কিছু কিছু আয়াত দ্বারা একথা অকাট্যভাবে প্রমাণিত যে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এ দুনিয়া থেকে ওফাত হয়েছে,কিন্তু এরপর উন্নত ও উত্তম জীবন কবরে আল্লাহ তা’আলা তাঁকে দিয়েছেন (যেমনটি নাকি তিনি স্তরভেদে শহীদ,সাধারণ মুমীন এবং কাফের ও গুনাহগারদেরকে স্থান দিয়ে থাকেন) তা সত্য ও প্রমাণিত। কোন সহীহ আকলী অথবা নকলী (যৌক্তিক কিংবা বর্ণিত) দলীল দ্বারা তার অস্বীকৃতি সাব্যস্ত নেই। এটাই আকাবেরে দেওবন্দ এর আক্বীদা। ( আল্মুহান্নিদ আলাল মুসান্নিফ-১৩) ৭৪/ মুসনাদে আহমদ, ৩য় খন্ড, পৃষ্ঠা-১৫৬]

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s