হানাফি মাযহাবি দের গোপন কথা ফাঁস এবং ….

হানাফি মাযহাবি দের গোপন কথা ফাঁস এবং
———————————————————-
কি ব্যাপার হেডলাইন আশ্চর্য হয়ে গেলেন নাকি, তথাকথিত আহলে হাদীস ভাইদের এইরকম একটি লেখা দেখে আমি নিজেও আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলাম চলুন দেখা যাক সেখানে কি লেখা ছিল
হানাফি মাযহাবে নাকি বলা হয়েছে

” ১) বাদশা যদি যিনা করে তাহলে, তার কোনো শাস্তি নেই, ( হিদায়া,আশরাফী হিন্দ ছাপা ,১ম খন্ড )

লেখাটি পড়ে আমার চোখ কপালে ওঠে গেল, দীর্ঘদিন যাবৎ হেদায়া কিতাবটি পড়লাম অথচ এরকম কোন মাসয়ালা আজ পর্যন্ত চুখে পড়লনা, তখন সেই আহলের ভাইকে বললাম ভাই প্লিজ আরবী ইবারতটি উল্লেখ করুন,
তখন তিনি আমাকে গালিগালাজ শুরু করে দিলেন, ফাসিক, মিথ্যুক বলতে লাগলেন, জানতাম এরকম ইবারত সে কোনদিন ও দেখাতে পারবেনা, কারণ বাংলা বাক্য বানানো গেলেও আরবী বাক্য বানানোর মত হেডাম তাদের নাই,
তাই তাকে চ্যালেঞ্জ করলাম
অযতা গালিগালাজ না করে মূল ইবারতটি উল্লেখ করো, যদি করতে পারো তাহলে আমি আজই মাজহাব ছেড়ে দেব!

চ্যালেঞ্জ গ্রহন করবে তো দুর কি বাত উল্টো গালিগালাজ অব্যাহত রাখল,

বুঝলাম বেচারা ধরা খেয়েছে, আর ধরাতো খাবেই কারণ ধোকাবাজি করাই যাদের নেশা এবং পেশা তারা কারো না কারো কাছে অবশ্যই ধরা খাবেই খাবে

যাইহোক চলুন দেখা যাক হেদায়া কিতাবে কি বলা আছে আর এইসব নাদানরা কি বুঝেছে তার কিঞ্চিত আলোকপাত করা যাক।

সকাল বেলা হেদায়া কিতাবটি খুলে দেখলাম সেখানে লেখা আছে ”

ومن اكرهه السلطان حتّى زنى فلا حد عليه وكان ابو حنيفة يقول اولا يحد وهو قول زفر………….
ثم رجع عنه فقال لا حد عليه

{الهداية☞ المجلد الثاني☜ كتاب الحدود

আরবী ভাষা সম্পর্কে যারা সাম্যক অবগত আছেন তারা ইবরাত দেখেই বুঝতে পারবেন আসলে কি বলা আছে আর আহলে জাহিলরা বুঝেছে কি!
তারপরও আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম
” আর যদি কোন বাদশা কাউকে জ্বিনা করানোর জন্য বাধ্য করে এমতাবস্থায় ঐ ব্যক্তি যদি কারো সাথে জ্বিনা করে ফেলে যেমন বাদশা আদেশ করল” তুমি এই মেয়ের সাথে জিনা করো, আর যদি না করো তাহলে তোমার গর্দান কর্তন করে ফেলব!

এমতাবস্থায় সে যদি বাধ্য হয়ে জ্বিনা করে ফেলে তখন কি তার ওপর জ্বিনার শাস্তি প্রয়োগ করা যাবে?
এই হল মাসয়ালা
————————
তার উত্তরে ইমাম আবু হানিফা (রহ:) এর দুটি মত উল্লেখ করা হয়।
প্রথম মত : যাকে জ্বিনা করাতে বাধ্য করা হয়েছে তার ওপর জ্বিনার শাস্তি প্রয়োগ করা হবে কেননা বাদশা তাকে মজবুর করলেও তার পক্ষ থেকে জ্বিনা করার উপকরণ পাওয়া গেছে। তাই তাকে শাস্তি দেওয়া হবে।

দ্বিতীয় মত : প্রথম মত থেকে ইমাম আবু হানিফা (রহ) রুজু করে বলেছেন ” এমতাবস্থায় মজবুর ব্যাক্তিকে জ্বিনার শাস্তি দেওয়া যাবেনা কারণ সে অপারগ, তাকে দিয়ে জ্বিনা করাতে বাধ্য করা হয়েছে, বাদশার হুকুম যদি না মানে তাহলে বাদশা তাকে মেরে ফেলতে পারে, তাই সে জানের ভয়ে অন্য মেয়ের সাথে জ্বিনা করতে বাধ্য হয়েছে , শাস্তি দিতে হলে বাদশাকেই দিতে হবে কেননা সে যদি তাকে বাধ্য না করত তাহলে সে জ্বিনা করতনা …

বুঝে থাকলে বলুনতো কিতাবে লেখা আছে কি আর তারা বুঝল কি ……..?

আফসোস, এইসব ধোকাবাজরা যখন সহীহ হাদীস এবং সহীহ আক্বীদার নাম দিয়ে সরলমনা মুসলিমদের সাথে প্রতারণা করে তখন খুবই দুঃখ লাগে,

একদিকে মিথ্যা অপব্যাখ্যা করেই যাচ্ছে অন্যদিকে হাক্কানি আলেম ওলামাদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে যাতে সাধারণ মানুষ আলেম ওলামাদের দ্বারা তাদের কথাকে যাচাই করতে না পারে, কেউ যদি বলে অমুক আলেম তো বলছেন আপনারা এটার অপ ব্যাখ্যা করেছেন তখন তারা হুট করে বলে ফেলে আরে ভাই ও কি বুঝবে ও তো মাজহাবী গোড়া আলেম, মাজহাব ছাড়া কিছুই বুঝেনা তখন সরলমনা মুসলিম তাদের ফাঁদে পড়ে যায় ….

আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই সব জাহিল নাদান অপব্যাখ্যা কারীর হাত থেকে রক্ষা করুন, এবং হাক্কানী আলেম ওলামাদের প্রতি মুহাব্বাত বাড়েয়ে দিন
আমিন

মিম মিফতাহ
০৯/০৯/১৪
ফেসবুকে যোগাযোগ করুন
____ @[100000539112480:]

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s