কারাআন ও হিদেসর আলোকে পীর ও মাজার

কারাআন ও হিদেসর আলোকে পীর ও মাজার
সম্পেক জানােবন। কৃতজ্ঞ থাকেবা।
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
ﺑﺴﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﺍﻟﺮﺣﻴﻢ
পীর-মুরীদ কাকে বলে?
পীর শব্দটি ফার্সি। আরবীতে বলা হয় মুরশীদ।
মুরশীদ শব্দের অর্থ হল পথপ্রদর্শক। যিনি আল্লাহর
আদেশ নিষেধ আল্লাহ তাআলা যেভাবে চান
সেভাবে পালন করার প্রশিক্ষণ দেন তার নাম
মুরশীদ বা পথপ্রদর্শক। যাকে ফার্সীতে বলে পীর।
“মুরীদ” শব্দটিও আরবী। যার অর্থ হল
ইচ্ছাপোষণকারী। যে ব্যক্তি আল্লাহর আদেশ
নিষেধ আল্লাহ তাআলা যেভাবে চান
সেভাবে পালন করার ইচ্ছা পোষণ করে কোন বুযুর্গ
ব্যক্তির হাত ধরে শপথ করে, সে ব্যক্তির নাম হল
“মুরীদ”।
এ ব্যাখ্যা থেকে একথা স্পষ্ট হল যে, পীর হবেন
শরীয়তের আদেশ নিষেধ পালন করার
প্রশিক্ষণদাতা। আর যিনি সে প্রশিক্ষণ নিতে চায়
সে শিক্ষার্থীর নাম হল “মুরীদ”।

সুতরাং যে ব্যক্তি নিজেই শরীয়তের বিধান
মানে না, নামায পড়ে না, পর্দা করে না, সতর
ঢেকে রাখে না বা শরীয়তের আবশ্যকীয় কোন
বিধান পালন করে না, সে ব্যক্তি কিছুতেই পীর
তথা মুর্শীদ হতে পারে না। কারণ তার নিজের
মাঝেই যখন শরীয়ত নেই,
সে কিভাবে অন্যকে শরীয়তের উপর আমল
করা প্রশিক্ষণ দিবে? নিজেইতো প্রশিক্ষিত নয়।
আর পীর মুরীদির এ পদ্ধতি রাসূল
সাঃ থেকে চলে আসছে। রাসূল সাঃ সাহাবাদের
আল্লাহমুখী হওয়ার প্রশিক্ষণ দিতেন।
সাহাবারা রাসূল সাঃ এর কাছ থেকে প্রশিক্ষণ
নিতেন। বলা যায় রাসূল সাঃ হলেন সবচে’ প্রথম ও
বড় পীর, ও সাহাবায়ে কিরাম হলেন প্রথম মুরীদ।
কুরআন হাদীসে পীর মুরিদীর প্রমাণ
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন-
ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁَﻣَﻨُﻮﺍ ﺍﺗَّﻘُﻮﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﻛُﻮﻧُﻮﺍ ﻣَﻊَ ﺍﻟﺼَّﺎﺩِﻗِﻴﻦَ ) 119 )
অনুবাদ-হে মুমিনরা! আল্লাহকে ভয় কর, আর
সৎকর্মপরায়নশীলদের সাথে থাক। {সূরা তাওবা-১১৯)
এ আয়াতে কারীমায় সুষ্পষ্টভাবে বুযুর্গদের
সাহচর্যে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ﺍﻫْﺪِﻧَﺎ ﺍﻟﺼِّﺮَﺍﻁَ ﺍﻟْﻤُﺴْﺘَﻘِﻴﻢَ )6 ( ﺻِﺮَﺍﻁَ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺃَﻧْﻌَﻤْﺖَ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ
অনুবাদ-আমাদের সরল সঠিক পথ [সীরাতে মুস্তাকিম]
দেখাও। তোমার নিয়ামতপ্রাপ্ত বান্দাদের পথ।
{সূরা ফাতিহা-৬,৭}
সূরায়ে ফাতিয়ায় মহান রাব্বুল আলামীন তাঁর
নিয়ামাতপ্রাপ্ত বান্দারা যে পথে চলেছেন
সেটাকে সাব্যস্ত করেছেন সীরাতে মুস্তাকিম।
আর তার নিয়ামত প্রাপ্ত বান্দা হলেন-
ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺃَﻧْﻌَﻢَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻴِّﻴﻦَ ﻭَﺍﻟﺼِّﺪِّﻳﻘِﻴﻦَ ﻭَﺍﻟﺸُّﻬَﺪَﺍﺀِ
ﻭَﺍﻟﺼَّﺎﻟِﺤِﻴﻦَ
অনুবাদ-যাদের উপর আল্লাহ তাআলা নিয়ামত
দিয়েছেন, তারা হল নবীগণ, সিদ্দীকগণ, শহীদগণ, ও
নেককার বান্দাগণ। {সূরা নিসা-৬৯}
এ দু’ আয়াত একথাই প্রমাণ করছে যে, নিয়ামতপ্রাপ্ত
বান্দা হলেন নবীগণ, সিদ্দীকগণ, শহীদগণ, আর
নেককারগণ, আর তাদের পথই সরল সঠিক
তথা সীরাতে মুস্তাকিম। অর্থাৎ তাদের অনুসরণ
করলেই সীরাতে মুস্তাকিমের উপর চলা হয়ে যাবে।
যেহেতু আমরা নবী দেখিনি, দেখিনি সিদ্দীকগণও,
দেখিনি শহীদদের। তাই আমাদের সাধারণ
মানুষদের কুরআন সুন্নাহ থেকে বের
করে সীরাতে মুস্তাকিমের উপর চলার চেয়ে একজন
পূর্ণ শরীয়তপন্থী হক্কানী বুযুর্গের অনুসরণ করার
দ্বারা সীরাতে মুস্তাকিমের উপর
চলাটা হবে সবচে’ সহজ। আর একজন শরীয়ত
সম্পর্কে প্রাজ্ঞ আল্লাহ ওয়ালা ব্যক্তির সাহচর্য
গ্রহণ করার নামই হল পীর মুরিদী।
রাসূলে কারীম সাঃ একাধিক স্থানে নেককার
ব্যক্তিদের সাহচর্য গ্রহণ করার প্রতি গুরুত্বারোপ
করেছেন। যেমন-
ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻣﻮﺳﻰ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ
ﻗﺎﻝ ) ﻣﺜﻞ ﺍﻟﺠﻠﻴﺲ ﺍﻟﺼﺎﻟﺢ ﻭﺍﻟﺴﻮﺀ ﻛﺤﺎﻣﻞ ﺍﻟﻤﺴﻚ ﻭﻧﺎﻓﺦ ﺍﻟﻜﻴﺮ
ﻓﺤﺎﻣﻞ ﺍﻟﻤﺴﻚ ﺇﻣﺎ ﺃﻥ ﻳﺤﺬﻳﻚ ﻭﺇﻣﺎ ﺃﻥ ﺗﺒﺘﺎﻉ ﻣﻨﻪ ﻭﺇﻣﺎ ﺃﻥ ﺗﺠﺪ
ﻣﻨﻪ ﺭﻳﺤﺎ ﻃﻴﺒﺔ ﻭﻧﺎﻓﺦ ﺍﻟﻜﻴﺮ ﺇﻣﺎ ﺃﻥ ﻳﺤﺮﻕ ﺛﻴﺎﺑﻚ ﻭﺇﻣﺎ ﺃﻥ ﺗﺠﺪ
ﺭﻳﺤﺎ ﺧﺒﻴﺜﺔ )
অনুবাদ-হযরত আবু মুসা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল
সাঃ ইরশাদ করেছেন-সৎসঙ্গ আর অসৎ সঙ্গের
উদাহরণ হচ্ছে মেশক বহনকারী আর আগুনের
পাত্রে ফুঁকদানকারীর মত। মেশক বহনকারী হয়
তোমাকে কিছু দান করবে কিংবা তুমি নিজে কিছু
খরীদ করবে। আর যে ব্যক্তি আগুনের পাত্রে ফুঁক
দেয় সে হয়তো তোমার কাপড় জ্বালিয়ে দিবে,
অথবা ধোঁয়ার গন্ধ ছাড়া তুমি আর কিছুই পাবে না।
{সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫২১৪, সহীহ মুসলিম, হাদীস
নং-৬৮৬০, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৩১৯০,
সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৪৮৩১, সহীহ
ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৫৬১, মুসনাদে আবী ইয়ালা,
হাদীস নং-৪২৯৫, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৯৬৬০,
মুসনাদুল হুমায়দী, হাদীস নং-৭৭০, মুসনাদুশ শামীন,
হাদীস নং-২৬২২, মুসনাদুশ শিহাব, হাদীস নং-১৩৭৭,
মুসনাদে তায়ালিসী, হাদীস নং-৫১৫}
এছাড়াও অনেক হাদীস নেককার ও বুযুর্গ ব্যক্তিদের
সাহচর্য গ্রহণের প্রতি তাগিদ বহন করে। আর সবচে’
বড় কথা হল-বর্তমান সময়ে অধিকাংশ মানুষই দ্বীন
বিমুখ। যারাও দ্বীনমুখী, তাদের অধিকাংশই কুরআন
হাদীসের আরবী ইবারতই
সঠিকভাবে পড়তে জানে না, এর অর্থ
জানবেতো দূরে থাক। আর যারাও
বাংলা বা অনুবাদ পড়ে বুঝে, তাদের অধিকাংশই
আয়াত বা হাদীসের পূর্বাপর হুকুম, বা এ বিধানের
প্রেক্ষাপট, বিধানটি কোন সময়ের জন্য, কাদের
জন্য ইত্যাদী বিষয়ে সম্যক অবহিত হতে পারে না।
তাই বর্তমান সময়ে একজন সাধারণ মানুষের
পক্ষে কুরআন সুন্নাহ থেকে নিজে বের করে আল্লাহ
তাআলার উদ্দিষ্ট
সীরাতে মুস্তাকিমে চলা বান্দার জন্য কষ্টসাধ্য।
তাই আল্লাহ তাআলা সহজ পথ বাতলে দিলেন একজন
বুযুর্গের পথ অনুসরণ করবে,
তো সীরাতে মুস্তাকিমেরই অনুসরণ হয়ে যাবে।
কিন্তু কথা হচ্ছে যার অনুসরণ করা হবে সে অবশ্যই
সীরাতে মুস্তাকিমের পথিক হতে হবে। অর্থাৎ
লোকটি {মুরশীদ বা পীর} এর
মাঝে থাকতে হবে শরীয়তের পূর্ণ অনুসরণ। বাহ্যিক
গোনাহ থেকে হতে হবে মুক্ত। কুরআন সুন্নাহ
সম্পর্কে হতে হবে প্রাজ্ঞ। রাসূল সাঃ এর
সুন্নাতের উপর হতে হবে অবিচল। এমন গুনের
অধিকারী কোন ব্যক্তি যদি পাওয়া যায়,
তাহলে তার কাছে গিয়ে তার কথা মত
দ্বীনে শরীয়ত মানার নামই হল পীর মুরিদী। এরই
নির্দেশ আল্লাহ তাআলা কুরআনে দিয়েছেন-
ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁَﻣَﻨُﻮﺍ ﺍﺗَّﻘُﻮﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﻛُﻮﻧُﻮﺍ ﻣَﻊَ ﺍﻟﺼَّﺎﺩِﻗِﻴﻦَ ) 119 )
অনুবাদ-হে মুমিনরা! আল্লাহকে ভয় কর, আর
সৎকর্মপরায়নশীলদের সাথে থাক। {সূরা তাওবা-১১৯)
বিঃদ্রঃ আখেরাতে নাজাত পাওয়ার জন্য মুরীদ
হওয়া জরুরী নয়। তবে একজন হক্কানী পীরের
কাছে মুরীদ হলে শরীয়তের বিধান পালন ও নিষিদ্ধ
বিষয় ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষ্ঠা আসে মুরুব্বীর
কাছে জবাবদিহিতা থাকার দরুন। সেই
সাথে আল্লাহর ভয়, ইবাদতে আগ্রহ সৃষ্টি হয়।
পক্ষান্তরে বেদআতি, ভন্ড, মাজারপূজারী,
বেপর্দা পীরের কাছে মুরিদ হলে ঈমানহারা হওয়ার
সমূহ সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে আটরশী,
দেওয়ানবাগী, কুতুববাগী, মাইজভান্ডারী,
রাজারবাগী, ফুলতলী, মানিকগঞ্জী,
কেল্লাবাবা ইত্যাদী পীর সাহেবের
দরবারে গেলে ঈমানহারা হওয়ার সমূহ
সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সাবধান পীর নির্ধারণের
ক্ষেত্রে।
প্রসঙ্গ মাযার
“মাযার” শব্দটি আরবী। বাংলা অর্থ হল যিয়ারতের
স্থান। যে স্থানকে যিয়ারত করা হয়, তার নামই
মাযার। মুসলমানের কবর যিয়ারত করা জায়েজ।
রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-
ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﺑﺮﻳﺪﺓ ﻋﻦ ﺃﺑﻴﻪ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ – ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ
ﻭﺳﻠﻢ – » ﻧﻬﻴﺘﻜﻢ ﻋﻦ ﺯﻳﺎﺭﺓ ﺍﻟﻘﺒﻮﺭ ﻓﺰﻭﺭﻭﻫﺎ ﻓﺈﻥ ﻓﻰ ﺯﻳﺎﺭﺗﻬﺎ ﺗﺬﻛﺮﺓ
অনুবাদ-হযরত ইবনে বুরাইদা রাঃ তার
পিতা থেকে বর্ণনা করেন। রাসূল সাঃ ইরশাদ
করেছেন-আমি তোমাদের কবর যিয়ারত
করতে নিষেধ করেছিলা, এখন যিয়ারত কর। [কোন
সমস্যা নেই।]। কেননা কবর যিয়ারত মৃত্যুকে স্মরণ
করে দেয়। {সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৩৭০০, সহীহ
মুসলিম, হাদীস নং-২৩০৫, সুনানে ইবনে মাজাহ,
হাদীস নং-১৫৭১, সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-৬৯}
কবর যিয়ারত করা ছাড়া কবর তথা মাযার
ঘিরে আরো যত কাজ করা হয়, তা সবই বিদআত। এসব
করা জায়েজ নেই। যেমন-
১- মাযার ঘিরে উরস করা।
২ -মাযারে বাতি প্রজ্বলন করা
৩ -মাযারে মান্নত মানা।
৪ -মাযারে গিয়ে দুআ করা। মৃত ব্যক্তির
কাছে নিজের প্রয়োজন পূর্ণ করে দেওয়ার আবেদন
করা।
৫ -মাযারে শিন্নি পাকানো ইত্যাদী সকল কাজই
বিদআত ও শরীয়ত গর্হিত কাজ। এসব করা খুবই
গোনাহের কাজ। এসবের কোন
ভিত্তি ইসলামে নেই। সম্পূর্ণ হারাম এ সকল কাজ।
মাযার ঘিরে উরস করা হারাম
স্বীয় কবরকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠান করাকে নিষিদ্ধ
করে আল্লাহর নবী ইরশাদ করেন-
ﻋﻦ ﺃﺑﻰ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ – ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ – » ﻻ
ﺗﺠﻌﻠﻮﺍ ﺑﻴﻮﺗﻜﻢ ﻗﺒﻮﺭﺍ ﻭﻻ ﺗﺠﻌﻠﻮﺍ ﻗﺒﺮﻯ ﻋﻴﺪﺍ ﻭﺻﻠﻮﺍ ﻋﻠﻰ ﻓﺈﻥ
ﺻﻼﺗﻜﻢ ﺗﺒﻠﻐﻨﻰ ﺣﻴﺚ ﻛﻨﺘﻢ ) ﺳﻨﻦ ﺍﺑﻰ ﺩﺍﻭﺩ – ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻤﻨﺎﺳﻚ، ﺑﺎﺏ
ﺯﻳﺎﺭﺓ ﺍﻟﻘﺒﻮﺭ، ﺭﻗﻢ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ 2044- )
“তোমরা স্বীয় ঘরকে কবর বানিয়োনা। (অর্থাৎ
কবরের ন্যায় ইবাদত-নামায, তেলাওয়াত ও যিকির
ইত্যাদি বিহীন করনা।) এবং আমার কবরে উৎসব
করোনা।(অর্থাৎ বার্ষিক, মাসিক বা সাপ্তাহিক
কোন আসরের আয়োজন করনা। তবে হ্যাঁ আমার উপর
দুরূদ পাঠ কর। নিশ্চয় তোমরা যেখানেই থাক
না কেন তোমাদের দরূদ আমার নিকট পৌঁছে থাকে।
(আল্লাহ তায়ালার ফেরেশতারা পৌঁছিয়ে দেন।)
” (সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নং-২০৪৪/৪০)
এখানে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে- রাসূলে সাঃ নিজ
রওযা মুবারকে উৎসব (উরস) পালন করতে বারণ
করেছেন। তাহলে অন্য কে আর এমন আছে যার
কবরে তা বৈধ হবে?
হাদিসের বিখ্যাত ব্যাখ্যাকার
আল্লামা মুনাভী রহঃ এই হাদিসের
ব্যাক্ষা করতে গিয়ে বলেন-
ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻤﻨﺎﻭﻱ ﻭﻳﺆﺧﺬ ﻣﻨﻪ ﺃﻥ ﺍﺟﺘﻤﺎﻉ ﺍﻟﻌﺎﻣﺔ ﻓﻲ ﺑﻌﺾ ﺃﺿﺮﺣﺔ
ﺍﻷﻭﻟﻴﺎﺀ ﻓﻲ ﻳﻮﻡ ﺃﻭ ﺷﻬﺮ ﻣﺨﺼﻮﺹ ﻣﻦ ﺍﻟﺴﻨﺔ ﻭﻳﻘﻮﻟﻮﻥ ﻫﺬﺍ ﻳﻮﻡ
ﻣﻮﻟﺪ ﺍﻟﺸﻴﺦ ﻭﻳﺄﻛﻠﻮﻥ ﻭﻳﺸﺮﺑﻮﻥ ﻭﺭﺑﻤﺎ ﻳﺮﻗﺼﻮﻥ ﻓﻴﻪ ﻣﻨﻬﻲ ﻋﻨﻪ
ﺷﺮﻋﺎ ﻭﻋﻠﻰ ﻭﻟﻲ ﺍﻟﺸﺮﻉ ﺭﺩﻋﻬﻢ ﻋﻠﻰ ﺫﻟﻚ ﻭﺇﻧﻜﺎﺭﻩ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﻭﺇﺑﻄﺎﻟﻪ
) ﻋﻮﻥ ﺍﻟﻤﻌﺒﻮﺩ – ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻤﻨﺎﺳﻚ ﺑﺎﺏ ﺯﻳﺎﺭﺓ ﺍﻟﻘﺒﻮﺭ – 6/23 )
“এ হাদিস থেকে বুঝা যায় যে, সাধারণ মানুষ
যারা বছরের কোন নির্দিষ্ট
মাসে বা দিনে (উরসের নামে) ওলীদের
মাযারে একত্রিত হয় এবং বলে-আজ পীর সাহেবের
জন্ম বার্ষিকী (মৃত্যু বার্ষিকী),
সেখানে তারা পানাহারেরও আয়োজন করে, আবার
নাচ গানেরও ব্যবস্থা করে থাকে, এ সবগুলিই শরীয়ত
পরিপন্থী ও গর্হিত কাজ। এ সব কাজ প্রশাসনের
প্রতিরোধ করা জরুরী। (আউনুল মা’বুদ-৬/২৩)
মাযার ঘিরে বাতি প্রজ্বলন হারাম
ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﻗﺎﻝ : ﻟﻌﻦ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ
ﺯﺍﺋﺮﺍﺕ ﺍﻟﻘﺒﻮﺭ ﻭﺍﻟﻤﺘﺨﺬﻳﻦ ﻋﻠﻴﻬﺎ ﺍﻟﻤﺴﺎﺟﺪ ﻭﺍﻟﺴﺮﺝ ) ﺳﻨﻦ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻯ –
ﺃﺑﻮﺍﺏ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻋﻦ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ، ﺑﺎﺏ ﻣﺎ
ﺟﺎﺀ ﻓﻲ ﻛﺮﺍﻫﻴﺔ ﺃﻥ ﻳﺘﺨﺬ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻘﺒﺮ ﻣﺴﺠﺪﺍ – 2/136 )
“হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত যে,
আল্লাহর নবী সাঃ অভিশম্পাত করেছেন (বেপর্দা)
কবর যিয়ারতকারীনী মহিলাদের উপর, এবং সেসব
লোকদের উপর যারা কবরকে মসজিদ বানায়
(কবরকে সেজদা করে)
এবং সেখানে বাতি প্রজ্জ্বলিত করে।
(জামি তিরমীযী-২/১৩৬)
উক্ত হাদিসে সুষ্পষ্ট কবরে বাতি প্রজ্জ্বলনকারীর
উপর আল্লাহ তায়ালার অভিশম্পাত করেছেন
আল্লাহর নবী সাঃ।
মাযারে মান্নত করা হারাম
আল্লাহ ছাড়া কারো নামে মান্নত
বা কুরবানী করা যায়না। কারণ মান্নত ও
কুরবানী হচ্ছে ইবাদত। আর ইবাদত আল্লাহ
ছাড়া কারা জন্য করা জায়েজ নয়। মহান রাব্বুল
আলামীন পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন-
ﻗُﻞْ ﺇِﻥَّ ﺻَﻼَﺗِﻲ ﻭَﻧُﺴُﻜِﻲ ﻭَﻣَﺤْﻴَﺎﻱَ ﻭَﻣَﻤَﺎﺗِﻲ ﻟِﻠّﻪِ ﺭَﺏِّ ﺍﻟْﻌَﺎﻟَﻤِﻴﻦَ ) 162 (
ﻻَ ﺷَﺮِﻳﻚَ ﻟَﻪُ ﻭَﺑِﺬَﻟِﻚَ ﺃُﻣِﺮْﺕُ ﻭَﺃَﻧَﺎْ ﺃَﻭَّﻝُ ﺍﻟْﻤُﺴْﻠِﻤِﻴﻦَ )163 ( ) ﺳﻮﺭﺓ
ﺍﻷﻧﻌﺎﻡ 163-162- )
“আপনি বলুনঃ আমার নামায, আমার
কুরবানী এবং আমার জীবন ও আমার মরণ বিশ্ব
প্রতিপালক আল্লাহর জন্যই। তাঁর কোন অংশিদার
নেই। আমি তা-ই করতে আদিষ্ট হয়েছি এবং প্রথম
আনুগত্যশীল। (সূরা আনআম-১৬২-১৬৩)
সূরা কাউসারে মহান রাব্বুর আলামীন বলেন- ﻓَﺼَﻞِّ
ﻟِﺮَﺑِّﻚَ ﻭَﺍﻧْﺤَﺮْ )2 )( অতএব আপনার পালনকর্তার
উদ্দেশ্যে নামায পড়ুন এবং কুরবানী করুন।
(সূরা কাউসার-২)
আল্লাহ তাআলা আমাদের দ্বীন পালনের
নামে বদ্বীনী কাজ করা থেকে হিফাযত করুন।
আমীন। ছুম্মা আমীন।
উত্তর লিখনে লুৎফুর রহমান ফরায়েজী
ﻭﺍﻟﻠﻪ ﺍﻋﻠﻢ ﺑﺎﻟﺼﻮﺍﺏ

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s