“আহলে হাদীস” তথা “লা-মাযহাবীরা” বৃটিশদেরই দোসর |


“আহলে হাদীস” তথা “লা-মাযহাবীরা” বৃটিশদেরই দোসর
সম্রাজ্যবাদী বৃটিশ সরকার ভারতবর্ষে মুসলমানদেরকে দ্বিধা বিভক্ত করে তাদের আধিপত্য মজবুত ও বিস্তার করার মানসে যে সমস্ত হীন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল, এরই ফলইশ্রুতিতে বহি:প্রকাশ ঘটেছিল কাদিয়ানী, বেরলভী ও তথাকথিত আহলে হাদীস নামক ভয়াবহ ফিতনা সমূহের। সুতরাং বর্তমানের “আহলে হাদীস” তথা “লা-মাযহাবীরা” বৃটিশদেরই উত্তরাধিকারী ও দোসর।

এ মর্মে আহলে হাদীস দলেরই অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ও পরিচালক নবাব ছিদ্দীক হাসান খানসহ কয়েকজনের উক্তি এর স্বাক্ষ্য বহন করে। যেমন নবাব ছিদ্দীক হাসান খানের রচিত গ্রন্থ “তরজমানে ওয়াহহবিয়্যায়” তিনি বলেন:

“আমাদের নতুন মাযহাবে আযাদী অর্থাৎ মাযহাব না মানা বৃটিশ সরকারী আইনেররই চাহিদা মুতাবিক।” (তরজমানে ওয়াহহবিয়্যায়, ২/৩)

আহলে হাদীস দলের একাংশের নাম “গুরাবা আহলে হাদীস” এ অংশের নেতা মুহাম্মাদ মুবারকের উক্তি হল: “গুরাবা আহলে হাদীসের ভিত্তি হযরত মুহাদ্দিসীনদের সঙ্গে মতানৈক্য করার জন্যই রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয় বরং সাইয়্যেদ আহমদ শহীদ রহ. এর বিরুদ্ধাচরণ করে ইংরেজদেরকে খুশী করাই ছিল এর বিশেষ উদ্দেশ্য।” (উলামায়ে আহনাফ আওর তাহরীকে মুজাহিদীন, পৃ. ৪৮)

“আল-হায়াত বা‘দাল মামাত” নামক গ্রন্থে রয়েছে “আহলে হাদীস দল বৃটিশ গভার্মেন্টের কল্যাণপ্রত্যাশী, চুক্তি রক্ষাকারী ও অনুগত হওয়ার অত্যন্ত উজ্জ্বল ও বলিষ্ঠ প্রমাণ হল: তারা বৃটিশ গভার্মেন্টের অধীনে থাকাকে কোনো ইসলামী রাষ্ট্রের অধীনে থাকার চেয়েও উত্তম মনে করে।” (আল-হায়াত বা‘দাল মামাত, পৃ. ৯৩)

আহলে হাদীসদের আলেম মৌলভী মুহাম্মাদ হুসাইন ইংরেজদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার বিপক্ষে “আল-ইক্বতিছাদ ফী মাসাইলিল জিহাদ” নামক গ্রন্থ রচনা করে। যাতে সে জিহাদ রহিত বলে ঘোষণা করে। এর ফলশ্রুতিতে সে ইংরেজদের ভাড়াটে গোলাম হয়ে যায়। আর লাভ করে টাকা পয়সার বিরাট অংক। (হিন্দুস্থান কি পহলী ইসলামী তাহরীক, পৃ. ২১২; আহলে হাদীস আওর ইংরেজ, পৃ. ৮৭)

মৌলভী মুহাম্মাদ হুসাইনের বিশিষ্ট শিষ্য মৌলভী আলতাফ হুসাইন লিখে:

“হিন্দুস্থানে ইংরেজী গভার্মেন্ট আমরা মুসলমানদের জন্য খোদার রহমত।” (আল-হায়াত বা‘দাল মামাত, পৃ. ৯৩)

সম্মানিত পাঠক! ইংরেজ আমলে ইসলাম ও মুসলমানদের দুরবস্থার করুণ কাহিনী বলার অপেক্ষা রাখেনা। যে দিন সম্রাজ্যবাদী বৃটিশ সরকার এদেশের হাজার হাজার আলিম-উলামা-মহামনীষীদের ফাঁসীর কাষ্ঠে ঝুলিয়েছিল, আর দ্বীপান্তরের কঠিন বন্দিশালায় নিক্ষেপ করেছিল লক্ষ লক্ষ তৌহিদী জনতাকে। আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হচ্ছিল ইজ্জত হারা মা-বোনদের গগণ বিদারী আর্তনাদে। জ্বালিয়ে দিয়েছিল হাজার হাজার মসজিদ-মাদরাসা, আর ভষ্মীভূত করেছিল লক্ষ-কোটি কুরআন-কিতাব। তখনই শাহ আব্দুল আজীজ মুহাদ্দিসে দেহলভী রহ. কর্তৃক দীপ্তকন্ঠে ঘোষিত হল জিহাদের ফাতওয়া। এ ফাতওয়ার বলে উলামায়ে কিরাম ও সমগ্র তৌহিদী জনতা ঝাঁপিয়ে পড়েন আযাদী আন্দোলনের জিহাদে। শহীদ হন হাজার হাজার বীর মুজাহিদ। আর ঠিক এমনি করুণ মুহূর্তে “আহলে হাদীস” নামধারী দলটি সেই ইংরেজ সরকারকে খোদার রহমত বলে আখ্যায়িত করে। আর তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা হারাম বলে ফাতওয়া দিয়ে হালুয়া রুটির সুব্যবস্থা করে। তারা কি চায়? তাদের উদ্দেশ্য কি? কোথায় তাদের গন্তব্য?

একটি প্রবাদ বাক্য আছে ‘কোনো বাড়িতে চোরে চুরি করতে হলে ঐ বাড়ির লোকের ইন্ধন লাগে।’ ইহূদী-খ্রষ্টান তথা ইউরোপ-আমেরিকা বাংলাদেশকে ইহূদী খ্রষ্টানদের সম্রাজ্য বানাতে চায়। তাই তারা এখানে আহলে হাদীসদের মাধ্যমে ক্ষেত্র তৈরী করতেছে। যখনই ইউরোপ-আমেরিকা বাংলাদেশের উপর আক্রমণ করবে তখন তাদের সমর্থেনর জন্য তো কিছু লোক লাগবে, তাই তারা আহলে হাদীসদের মাধ্যমে সমর্থন যোগাড় করতেছে। যেমন আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া, মিশরসহ যেখানেই আমেরিকা আক্রমন করেছে সেখানে একটি সম্প্রদায় তাদের সমর্থন করেছে। বাংলাদেশেও যখন তারা আক্রমণ চালাবে তখন যাতে কিছু সংখ্যক লোক তাদের সমর্থন করে সেজন্য আহলে হাদীসদের মাধ্যমে তারা তাদের সমর্থন যোগাড় করতেছে।

অতএব আহলে হাদীসদের ব্যাপারে খুবই সতর্ক থাকতে হবে। যেন তারা কূট কৌশলে সরলমনা ঈমানদারদেরকে বিভ্রান্ত করতে না পারে। (সূত্র: বসুন্ধরা থেকে প্রকাশিত- তথা কথিত আহলে হাদীসের আসলরূপ)

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s