বুকের উপর হাত বাধা সংক্রান্ত

বুকের উপর হাত বাধা সংক্রান্ত

সহিহ হাদিসের মিছিল দারীরা দেখে যাও হাদিসে ওয়াইল বিন হুজুর রা: এর হাদিসের হাল হকিকত !

কথিত আহলে হাদিসরা খুব জুরে মিছিল দেয় সহিহ হাদিস সহিহ হাদিস বলে , আবার তারাই অধিকাংশ জয়ীফ হাদিসের উপর আমল করে !
আর এ বেপারে সবচেয়ে বেশী জুর গলায় যে হাদিস নিয়ে তারা গলাবাজী করে তা হচ্ছে বুকের উপর হাত বাধা সংক্রান্ত ওয়াইল বিন হুজুর রা: এর হাদিস নিয়ে !
আসুন আমরা দেখি এই হাদিস তা কতটুকু সহিহ !

عن واءل بـن حجر رضي الله عنه قال صليت مع النبي صلي الله عليه وسلم فوضع يده اليمني علي يده اليسري علي صدره


“ওয়াইল ইবনে হাজর (র) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন আমি রসুল (স) এর সাথে নামায পরেছি। তিনি বুকের উপর ডান হাতের উপর বাম হাত কে রেখেছেন”। (ছহীহ ইবনে খুযাইমা ১ম খণ্ড ২৪৩পৃ)
উক্ত হাদিস সমবন্ধে মুহাদ্দিসিনে কেরাম কালাম করেছেন এবং উক্ত হাদিস্টি কে সনদ হিসাবে খুবই দুর্বল হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। নিচে আমি সে সম্পর্কে আলোচনা করছি।
(বুকের উপর) শব্দটি বাস্তবে হাদিসে নেই।علي صدرهবলেন আল্লামা নিমী
কারণ উক্ত হাদিসটি মোট সাত টি সুত্রে বর্ণিত হয়েছে অর্থাৎ বিভিন্নজন হাদিসটিকে বিভিন্ন সুত্রে বর্ণনা করেছেন।
১ ইমাম আহমদ তার মুসনাদে আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়ালিদের সুত্রে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
২ ইমাম নাসায়ী “জায়েদা” এর সুত্রে বর্ণনা করেছেন।
৩ ইমাম আবু দাউদ বশর ইবনে মুফাদ্দাল এর সুত্রে বর্ণনা করেছেন।
৪ ইবনে মাজা তে আব্দুল্লাহ ইবনে ইদ্রিস এবং বশর ইবনে মুফাদ্দাল এর সুত্রে বর্ণনা এসেছে।
৫ আহমদ আব্দুল ওয়াহিদ,জুহাইর এবং এবং শুবা এর সুত্রে বর্ণনা করেছেন।
৬ “মুসনাদে আবু দাউদ তায়ালসি” তে সালাম ইবনে সালিম এর সুত্রে হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে।
৭ ছহীহ ইবনে হাব্বানে শু’বা এর সুত্রে হাদিস টি বর্ণিত হয়েছে।
উপরের সাতটি সুত্রের কোনটি তে علي صدره বা বুকের উপর হাত রাখা শব্দটি নেই। একমাত্র মোমিল ইবনে ইস্মাইল এর সুত্রে বর্ণনাকৃত হাদিসে “বুকের উপর হাত রাখা” শব্দটি আছে। তাছাড়া উপরোক্ত রাবীগণ মুমিলের চেয়ে অধেক গ্রহণযোগ্য। সুতরাং এতগুলো রাবির বীপরিতে মুমিলের মত একজন দুর্বল রাবির বর্ণনা গ্রহণযোগ্য হবেনা। (ফাতহুল মুলহিম ৩য় খন্ড ৩০৪পৃ, মারেফুস সুনান ২য় খন্ড ৪৩৮পৃ,তানযিমুল আস্তাত ১ম খন্ড ৩০২পৃ, তাকরিরে তিযমিযি ২য় খণ্ড ২২পৃ)
বিখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা ইবনুল কাইয়্যুম বলেন একমাত্র মুমিল ইবনে ইস্মাইল ব্যতিত অন্য কেহ বুকের উপর হাত রাখা শব্দটি বর্ণনা করেনি। একমাত্র তিনিই উক্ত শব্দটি বৃদ্বি করেছেন। সুতরাং সমস্ত রাবীর বিপরিতে মোমিলের মত একজন দুর্বল রাবীর বর্ণনা গ্রহণযোগ্য হতে পারেনা। (এলামুল মুয়াক্কিয়িন ২য় খন্ড ৩১২পৃ,তালিকুল হাসান ১ম খন্ড ৬৫পৃ)
তাছাড়া রাবী যদি বিশ্বস্ত ও হন তারপরেও তিনি যদি অণ্যান্য গ্রহণযোগ্য রাবী অথবা তার চেয়ে শক্তিশালী রাবীর বিরোধিতা করেন তাহলে তার বর্ণনা গ্রহণযোগ্য হবেনা। এখানে তাই হয়েছে।
মুমিল ইবনে ইস্মাইল কে মুহাদ্দিসিনে কেরাম রাবি হিসাবে খুবই দুর্বল বলেছেন। আল্লাম নিমী বলেন মুমিল ইবনে ইস্মাইল কে বহু মুহাদ্দিস দুর্বল বলেছেন। প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফকীহ আল্লামা যাহবী “কাশিফ” নামক কিতাবে বলেন মুমিল একজন সত্যবাদি রাবি কিন্তু তার প্রচুর ভূল আছে। তার সম্পর্কে বলা হয়েছে তার কিতাব সমুহ কে মাটির নিচে দাফন করে ফেলা হয়েছিল। ফলে তিনি মুখস্ত হাদিস বর্ণনা করতেন এবং ভূল করতেন।
হাফেযুল হাদিস আল্লামা ইবনুল হাজল আস্কালানি “তাহযিবুত তাহযিব” নামক কিতাবে বলেন ইমাম বুখারি তার সম্পর্কে বলেছেন মুমিল একজন হাদিস আস্বীকারকারী। আল্লামা ইবনুল সাদ বলেন মুমিল গ্রহণযোগ্য, কিন্তু তার প্রচুর ভূল হয়েছে। আল্লামা ইবনুল কানে বলেন মুমিল গ্রহণযোগ্য কিন্তু বেশি ভূল করে। ইমাম দারে কুত্নি তার সম্পর্কে বলেন গ্রহণযোগ্য কিন্তু বেশি ভূল করে। আল্লামা আবু যারআ এবং আবু হাতিম ও অনুরুপ কথা বলেছেন। তাকরিব নামক কিতাবে তার সম্পর্কে বলা হয়েছে সত্যবাদি কিন্তু তার স্বরণশক্তি খুব খারাপ। আল্লামা ইবনুত তুরকামানি “আলজাওহারুন নাকী” নামক কিতাবে বলেন তার সমস্ত কিতাব দাফন করে ফেলা হয়েছিল। ফলে তিনি মুখস্ত হাদিস বর্ণনা করতেন এবং প্রচুর ভূল করতেন। মুহাম্মদ ইবনে নসর আল মারুযি বলেন কোন হাদিস যদি শুধুমাত্র মুমিল থেকে বর্ণিত হয় তাহলে সে হাদিস সম্পর্কে নিরবতা অব্লম্বন জরুরী। কারণ তার স্বরণশক্তি খুব দুর্বল এবং সে প্রচুর ভূল করে।
(ফাতহুল মুলহিম ৩য় খন্ড ৩০৪পৃ, আল উরফুস সুযি ১ম খন্ড২৯০পৃ, মারিফুস সুনান ২য় খন্ড ৪৩৫পৃ, বাযলুল মাযহুদ ২য় খন্ড ২৬পৃ, আসারুস সুনান ৬৫পৃ, তানযিমুল আস্তাত ১ম খন্ড ৩০২পৃ)
মুমিল ইবনে ইস্মাইল এর উক্ত বর্ণনা ভূল হওয়ার আরেকটি প্রমাণ হল উক্ত রেওয়াআতটি মুমিল সুফিয়ান সাওরি থেকে বর্ণনা করেছেন এবং সুফিয়ান সাওরির মাযহাব ছিল নাভীর নিচে হাত রাখা। সুতরাং উক্ত কথার দ্বারা স্পষ্ট বুঝা যায় যে মুমিল নিজের থেকে “বুকের উপর” শব্দটি বাড়িয়ে দিয়েছেন।(শরহুল মুন্তাকা ২য় খন্ড ২৭৮পৃ, মারেফুস সুনান ৪৩৮পৃ)
শায়খ নাসিরুদ্দিন আল্বানিও উক্ত হাদিসটিকে দুর্বল বলেছেন। (সূত্র http://www.masjidsalauddin.com/)
তবে মুসনাদে বাজ্জারে একটি বর্ণনা আছে যেখানে উক্ত হাদিসে عند صدره (বুকের কাছে) শব্দ আছে।
এটার জবাব হল উক্ত হাদিসের ভিত্তি হল মুহাম্মদ ইবনে হাজর এর উপর। প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা যাহবি তার সম্পর্কে বলেন, তার বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং উক্ত বর্ণনাটিও গ্রহণযোগ্য নয়। (আযযাওয়াইদ ২য় খন্ড ৩৫পৃ,তাকরিরে তিরমিযি ২য় খন্ড ২২পৃ)

Shared from Google Keep

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s