নুসরা vs ISIS ভুলবোঝাবুঝির অবসান।

image

খিলাফার আগমনী ধ্বনি ও ইসলামে খলিফা নিযুক্তির পদ্ধতি
——————————————–
এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে কারণ উম্মাহ এখন আবার খিলাফার দ্বারপ্রান্তে। আর কে সেই খিলাফার খলিফা হবেন এটা নিয়ে যেন আমরা ফিতনায় জড়িয়ে না যাই।

ইসলামে খলিফা, যিনি মুসলিম জাহানের ইমাম এবং শাসক, নিম্নের তিনটি উপায়ে তিনি নিয়োজিত হতে পারেন।

১- উনি সিদ্ধান্তগ্রহণকারীদের (আহল আল হাল ওয়া’ল আকদ) দ্বারা নিযুক্ত হতে পারেন। আবু বকর আল সিদ্দিক (রাঃ) এইভাবে খলিফা নিযুক্ত হয়েছিলেন, খলিফা নিযুক্ত হবার পর সাহাবারা কোন সম্মিলিতভাবে উনাকে বায়াত দিয়েছিলেন এবং উনার খিলাফত মেনে নিয়েছেন। উসমান ইবনে আফফান (রাঃ) এভাবে খলিফা নিযুক্ত হন যখন ওমর (রাঃ) সিনিয়র ৬ জনের সমন্বয়ে গঠিত সুরাহ কাউন্সিলের উপর খলিফা নিয়োগের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। ‘আব্দ আল রহমান ইবনে ‘আউফ (রাঃ) মুহাজিরিন এবং আনসারদের সাথে আলোচনা করলেন। যখন তিনি দেখলেন, সাহাবারা ওসমান (রাঃ) এর দিকে বেশী ঝুঁকে পড়ছেন, তখন তিনি নিজে প্রথমে ওসমান (রাঃ) কে বায়াত দিলেন, পরে অন্য ৬জনই দিলেন এবং এর পরে মুহাজির ও আনসার সকলেই বায়াত দিলেন। আলী (রাঃ) ও একইভাবে খলিফা নিযুক্ত হন।

২- খলিফা নিজেই উনার মৃত্যুর পর পরবর্তী খলিফাকে নিযুক্ত করে যান। আবু বকর (রাঃ) উমর (রাঃ)কে এভাবে খলিফা নিযুক্ত করে যান।

৩- শক্তির মাধ্যমে নিজেই খলিফা নিযুক্ত হওয়া। যখন কেউ শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে খলিফা নিযুক্ত হন, তখনও তাকে মান্য করা আমাদের জন্য ফরয যতক্ষণ খলিফা কোরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী শাসন করেন। উমাইয়াদ এবং আব্বাসি খলিফারা এবং তাদের পরে যারা এসেছেন, তারা এভাবেই খলিফা হয়েছেন। কিন্তু এই পদ্ধতি শারিয়া সম্মতনা যেহেতু জোরপূর্বক ক্ষমতায় যাওয়া হয়। এক উম্মাহ যেন ভেঙ্গে না যায় এবং ভয়ঙ্কর কোন ফিতনা যেন মুসলিমদের মধ্যে ছড়িয়ে না পরে, এই জন্যই এভাবে খলিফা আসলে এবং উনি যদি কোরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী শাসন করেন, তাহলে তার আনুগত্য করা আমাদের জন্য ফরয।

আমাদের সময়ে ইসলামিক এমিরেট অফ খোরাসান এর আমীর হলেন মোল্লা উমর (আল্লাহ্‌ উনাকে হেফাজত করুন)। উনার হাতে শেখ ওসামাসহ অনেকেই বায়াত দিয়েছেন। উনি তখন খোরাসানের পূর্ণ ক্ষমতায় কিন্তু উনি খিলাফত প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান নাই এবং তিনি উম্মাহর সকল মুসলিমের বায়াত চাননি। কেন করেননি, সেটার স্পষ্ট কোন কারণ আমরা জানি না। কিন্তু উম্মাহর জিহাদের অন্যতম স্কলাররা সেখানে ছিলেন বা উনারা একে অন্যের সাথে যুক্ত ছিলেন। নিশ্চয়ই কোন কারণ ছিল, যার কারণে উনি খিলাফত প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানাননি।

২০০১ সালের পর পশ্চিমা বাহিনী যখন খোরাসান আক্রমণ করে তখন খোরাসানের পুরো ক্ষমতা আর মোল্লা উমরের হাতে থাকে না কারণ তারা কাবুল ছেড়ে দেয় জিহাদের স্বার্থে। এরপর পশ্চিমা বাহিনী ইরাক আক্রমণ করে।

তখন ইরাকে জিহাদ বলতে কিছু ছিল না। কিন্তু ধীরে ধীরে শেখ জারকাউয়ি (র) জিহাদের পথ তৈরি করেন আল্লাহ্‌র ইচ্ছায়। এরপর আবু উমর যিনি হুসাইন ইবনে আলীর বংশধর তিনি এসে ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক ঘোষণা দেন। এই স্টেট ঘোষণাকে শেখ উসামা থেকে শুরু করে শেখ জাওয়াহিরি, ইমাম আওলাকি (আল্লাহ্‌ উনাদের সুহাদা কবুল করুন এবং শেখ জাওয়াহিরিকে হেফাজত করুন) প্রশংসা করেছেন। স্টেট এর আমীর আবু উমর আল বাগদাদির শাহাদার পর ডঃ আবু বকর আল বাগদাদি আল হুসাইনি আল কুরাইশি আমীর নিযুক্ত হন। এর পর স্টেট এর অনেকেই উনি কুরাইশ বংশের হওয়াই এবং হাদিসের ব্যাখ্যার ভিত্তিতে উনাকে আমীর উল মু’মিনিন উপাধি দেন। স্টেট এর বড় অংশ ইরাকে এবং শামে ছোট অংশ। এদের মুজাহিদ সংখ্যা ১২-১৫ হাজারের মত। স্টেট এর এলিট বাহিনীর অনেক সদস্যই খোরাসানের।

শেখ জাওয়াহিরি স্টেট এর প্রশংসা করলেও পরে এসে বায়াত নিয়ে ভুল বুঝাবুঝি হয়। প্রথমত, যখন স্টেট ঘোষণা করা হয় আবু ওমরের অধীনে, তখন আল কায়দার উপরের সাথে ঠিকমত পরামর্শ করা হয়নি। কিন্তু এরপরও স্টেট ডিক্লেয়ার করলে ইরাকে কোন ফিতনা হবে না দেখে শেখ জাওয়াহিরি স্টেটকে মেনে নেন এবং এর প্রশংসা করেন। শুধু তাই নয়, আবু উমরকে উনি আমীর উল মু’মিনিন বলে ডাকেন। স্টেট এর কথা অনুযায়ী তারা আলকায়দার কাছে ফরমাল কোন বায়াত দেননি। ইরাকে আল কায়দার যে গ্রুপ ছিল সেটা স্টেট এ যোগ দেন যখন শেখ জাওয়াহিরি তাদের সহ অন্য সব গ্রুপকে স্টেট এর অধীনে যেতে বলেন। এর কারণ এই যে স্টেট এর অবস্থান গ্রুপের উপরে।

এরপর দ্বিতীয় দফা ভুল বুঝাবুঝি শুরু হয়, যখন আবু ওমর শহীদ হন। শেখ জাওয়াহিরি চাচ্ছিলেন স্টেট যেন তাদের সাথে পরামর্শ না করে পরবর্তী আমীর নিয়োগ না করেন। কিন্তু স্টেট আমীরের শূন্য অবস্থান দ্রুত পূরণ করার জন্য সেকেন্ড ইন কমান্ড আবু বকর কে আমীর নিযুক্ত করেন। এই পর্যন্ত ভুল বুঝাবুঝি হলেও তা বাইরে প্রকাশ পায়নি।

স্টেট আল কায়দার কিছু পরামর্শ ঠিক মেনে নিতে পারছিল না যদিও পরামর্শগুলো ফেলেও দেয়নি। এর মধ্যে একটা ছিল রাফিদাদের টার্গেট না করা, বিশেষ করে ইরানকে। অথচ স্টেট এর সামনে রাফিদিরা সুন্নি মুসলিমদের উপর অত্যাচারের ষ্টীম রুলার চালিয়ে যাচ্ছিল। ঠিক সে সময় ২০১১ সালে শুরু হয় সিরিয়ার আসাদের অত্যাচার। তখন স্টেট শেখ জুলানির অধীনে জাবহাতুনুসরা তৈরি করে সিরিয়াতে পাঠায়। উনি যখন সিরিয়াতে তখন কিছু বিষয়ে উনার সাথে পরামর্শ ছাড়াই স্টেট সিদ্ধান্ত নিয়েছে যেটা উনার পছন্দ হয়নি। তখন আবু মারিয়ার পরামর্শে শেখ জুলানি স্টেট এর বায়াত তুলে নিয়ে শেখ জাওয়াহিরিকে বায়াত দেন এবং নুস্রাকে আলাদা গ্রুপে পরিণত করেন। এটা দেখে নুস্রার যারা মুজাহিদ তাদের ৮০% নুস্রা ত্যাগ করে স্টেট এ ফিরে যায় এবং গঠন করে ইসলামিক স্টেট অফ ইরান এন্ড শাম। কিন্তু ততদিনে নুস্রাকে বাইরের মুহাজিররা আলকায়দা এফিলেটেড হিসাবে জেনে যায় এবং তারা আসলে স্টেট থেকে এসেছে তা ঢাকা পরে যায়। এর অন্যতম কারণ ছিল স্টেট এটা নিয়ে উচ্চবাচ্য করেনি।

সিরিয়াতে তখন আইসিস ও নুস্রা সবচেয়ে শক্তিশালী কিন্তু নুস্রা সাপ্লাইয়ের জন্য তুরস্কের রুট ধরল কারণ অন্য কোন রাস্তা ছিল না। অন্যদিকে আইসিস, ইরাক থেকে সাপ্লাই রুট। এই জন্য আইসিস প্রথম থেকেই সেকুলার, ফ্রি সিরিয়ান আর্মি এদের সাথে কোন ধরণের গ্রুপ করতে যায় নি যদিও একসাথেই অনেক সময় জিহাদ করেছে। আইসিস যেখানেই গিয়েছে সেখানেই শারিয়া প্রতিষ্ঠা করেছে। এতে আসাদের দীর্ঘ শাসনে কুফরির মধ্যে বসবাস করা সিরিয়ানদের অনেকেই এই শারিয়াকে মানতে পারেনি। আর সেকুলার গ্রুপ গুলো তো তা মেনে নেয়ই নি।

অন্যদিকে, নুস্রা, যেহেতু অন্য দলগুলোর মত তুরস্কের রুট ব্যবহার করত, তাই ইচ্ছা থাকলেও সব জায়গায় শারিয়া চালু করতে পারে নাই। যখন আইসিস একের পর এক রাক্কাহ, ডেউজ্জুর, আলেপ্প, ইডলিব, লাতাকিয়া, হামা সহ অনেক অংশে শারিয়া চালু করে দিল, তখন পশ্চিমা কুত্তারা সেকুলার গ্রুপগুলোর সাথে মিলে আইসিসের বিপক্ষ নিল। এদিকে শেখ জাওয়াহিরি স্টেটকে ইরাকে এবং নুস্রাকে সিরিয়াতে জিহাদের আহ্বান জানায় যেটা স্টেট ইগ্নর করে। এই ইগ্নর করাটাকে অনেকে ভাল চোখে দেখেননি। কিন্তু স্টেট এর কথা অনুযায়ী, জিহাদের কোন সীমা নেই, যেহেতু সিরিয়ার মানুষও নির্যাতিত এবং ইসলামিককে পুরো শামে প্রতিষ্ঠা করাই তাদের উদ্দেশ্য, তাই তারা শাম ছাড়বে না। এমন এক সময়ে এই আহ্বান যখন শামের মুজাহিদদের দখলের ৭০% এর বেশী জায়গা আইসিসের দখলে। এরপর নুস্রাও আইসিসের উপর ক্ষেপে যায়। উপায়ন্তর না দেখে যখন, পশ্চিমা কুত্তাদের মদদে সেকুলার ফ্রি সিরিয়ান আর্মি ও তার দোসররা আইসিসের মুহাজিরদের মারার জন্য অস্র বহন করা শুরু করলো তখন নুস্রার অনেক মুহাজির সেগুলোকে আটকে দেয়। কিন্তু নুস্রার উপরের নির্দেশে পরে ছেড়ে দিতে হয়। ফলাফল, সিরিয়ার বাইরে থেকে সব ফেলে আসা অনেক মুজাহিদ শহীদ হন, লাঞ্ছিত হন অনেক মুহাজির বোন। নুস্রার এই নিরব থাকা এবং অস্র না আটকানোকে নুস্রার অনেক মুহাজির ভাল চোখে দেখেন নি এবং তারা সুযোগ বুঝে আইসিসে চলে যায় অনেকে, আবার অনেকে স্বাধীন গ্রুপ তৈরি করেন। এই সব ঘটতে ছিল স্বাধীন জায়গা গুলোতে কিন্তু ফ্রন্ট লাইনের নুস্রা ও আইসিসের মুজাহিদরা এগুলো খুব একটা জানতেন না এবং তারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়েই জিহাদ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। পরে যখন দেখলেন আইসিস এর মুহাজিরদেরকে মারা হচ্ছে তখন অনেক নুস্রার ভাইই আসলে তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছিল।

এর মধ্যে আইসিস ও নুস্রার কিছু বিষয় নিয়ে নুস্রা স্বাধীন কাজীর কাছে যেতে আহ্বান জানালেন যেখানে আইসিসের কোন কাজীই থাকবে না কিন্তু নুস্রার কাজী থাকবেন। আইসিস এই আহ্বান এ সাড়া স্বাভাবিকভাবেই দেয়নাই। এই অবস্থার আরও খারাপ হয় যখন শেখ জুলানি ডেড লাইন দেন যে আলেপ্প, ইডলিব ও লাতাকিয়া থেকে আইসিসকে সাতদিনের মধ্যে সরে যেতে, তা নাহলে তাদেরকে আক্রমণ করা হবে। তখন আইসিস এই তিন এলাকা থেকে পিছু হঠে এবং রাক্কাহ আর দেইজ্জুর এ অবস্থান নেয়।

এই সময় আইসিসের শেখ আদনানি ও নুস্রার শেখ সুলাইমান মুবালাহা করেন আল্লাহ্‌ যেন তাদের মধ্যে যে সঠিক তাদেরকে সাহায্য করেন এবং যে মিথ্যা কথা বলছে তার যেন চেহারা আল্লাহ্‌ উন্মোচন করে দেন।

এরপর একের পর এক নুস্রাতে সমস্যা হতে লাগল। নুস্রার একটা গ্রুপ দেইজ্জুর এ কয়েকবার আইসিসকে আক্রমণ করে। পরে নুস্রা সেই গ্রুপকে নুস্রা থেকে বের করে দেয়। কিন্তু এরপর নুস্রা সিদ্ধান্ত নেয় আইসিসের মুহাজিরদের গ্রেফতার করবে। যেহেতু রাক্কাহ ও দেইজ্জুর এ যাওয়া সম্ভব নয় তাই যারা তখনও আলেপ্প বা হামা বা অন্য জায়গায় ফ্রন্ট লাইনে ছিল তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা করলো। কিন্তু লোকাল নুস্রার ভাইয়েরা এটাতে অংশ নেয়নি। তারা বরং লুকিয়ে রেখে, নিজের নুস্রার আইডি তাদেরকে দিয়ে গ্রেফতার এরিয়েছেন। নুস্রার টপ ও নুস্রার মাঠ এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য দেখা দেয়। এতে অনেক মুহাজির আবারও নুস্রা ছেড়ে স্বাধীন গ্রুপ এ বা আইসিসে যেতে শুরু করে। এতে নুস্রা তাদের পাসপোর্ট অনলাইনে প্রকাশ করে দেবে বলে হুমকি দেয়। এই মধ্যে আবু মারিয়া স্বীকার করেন যে, উনি কোন কারণ ছাড়াই নুস্রাকে স্বাধীন হতে পরামর্শ দিয়েছিলেন।

এর মধ্যে শেখ আবু কাতাদার একটা মেসেজ কারাগার থেকে বের হয় যেটাতে দাবী করা হয় আইসিস খাওয়ারিজ। জেলে থাকা কোন আলেমের কথা গ্রহণযোগ্য না হলেও নুস্রা এটাকে পুঁজি করে আইসিসকে আক্রমণ করার চেষ্টা করে। শেখ মাকদিসির ক্ষেত্রে একই কথা প্রযোজ্য। শুধুমাত্র শেখ জাওয়াহিরিই ফ্রি ছিলেন এবং উনি যদিও বলেছেন বায়াত নিয়ে উনাদের সাথে স্টেট এর বিরোধের কথা কিন্তু উনি তাদেরকে খাওয়ারিজ বলেননি এবং বরং নিজেদের মধ্যে মারামারি করতে নিষেধ করলেন। শেখ জাওয়াহিরি আবারও স্টেটকে ইরাকে ফিরে যাবার কথা বলেন। কিন্তু শেখ আদনানি তখন উনার কথাকে রিফিউট করেন এই বলে যে কুফফারদের একে দেয়া বর্ডার উনারা মানবেন না এবং বায়াতের বিষয়টি পুরাই ভিন্ন। স্টেট কখনও আল কায়দাকে ফরমাল বায়াত দেয়নি যদিও শেখ জাওয়াহিরি ইনফরমাল উপদেশ বা আলোচনা করাকে ফরমাল হিসাবে ধরেছেন। শেখ জাওয়াহিরির অবস্থান হল সব জায়গাতেই লোকাল মানুষ আমীর হবেন এবং তারা স্বাধীনভাবে তা কন্ট্রোল করবেন কিন্তু স্টেট এর কথা হল, আমরা যেহেতু শারিয়া প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছি তাই, এটার জন্য যে যোগ্য সেই আমীর হবেন এবং কোন বর্ডার দিয়ে দেশ আলাদা করা হবে না।

এই ফিতনার মুখে শেখ আবু বকর আল বাগদাদি সিদ্ধান্ত নেন আগে উনারা বাগদাদ নিয়ে নিবেন এবং সেখান থেকে খিলাফত ডিক্লেয়ার করে তারপর আবার শামে শক্তভাবে আগাবেন। এই সিদ্ধান্ত জানা যায় এই বছর মার্চের মাঝামঝি সময়। তখন ধারণা ছিল, যদি এটা সত্যি হয় তবে অন্তত বছর ২ লাগবে। কিন্তু আল্লাহ্‌র অশেষ রহমত যে আড়াই মাসের মাথায় আজকে বাগদাদ আইসিসের দখলে আসার উপক্রম।

উপরের তথ্যগুলো ভেরিফাই করার কোন সুযোগ পাঠকদের হয়তো নেই। আমি যতদূর জানতে পেরেছি, যতদূর ভেরিফাই করতে পেরেছি তা থেকেই লেখা। আমার কাছে আইসিস ও আলকায়দার ব্যাপারটা নিছক ভুল বুঝাবুঝি মনে হয়। কারণ উনাদের মধ্যে যোগাযোগ ফেস টু ফেস হয়নাই। তাই মেসেজ ভুল বুঝা বা ভুল মেসেজ পৌঁছা খুব স্বাভাবিক। যারা কমিউনিকেশনের রুল জানেন তারা জানেন যে, এ থেকে একই মেসেজ যখন সি তে যায় বি হয়ে তখন সেই মেসেজ পরিবর্তনের অনেক সম্ভাবনা থাকে। আইসিস যদিও নিজ স্টেট এ স্বাধীন ছিল কিন্তু আফগানিস্তানে বর্তমান পরিস্থিতিতে শেখ জাওয়াহিরির কাছে মেসেজ পৌঁছাতে অনেক ব্যাক্তি হয়ে যাওয়ার কথা এবং সেই ক্ষেত্রে ভুল বুঝাবুঝি আমার কাছে স্বাভাবিক মনে হয়। শেখ আদানানি শেখ জাওয়ারিরির বর্তমান পদ্ধতির সমালোচনা করলেও শেখ ওসামাকে নিয়ে কিন্তু কোন প্রশ্ন তুলেন নি।

এই ভুল বুঝাবুঝির মধ্যেই আইসিস আলহামদুলিল্লাহ্‌ বাগদাদ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই ভুল বুঝাবুঝি ইচ্ছাকৃত না। আর না হলে এমন দ্রুত এত বিজয় হয়তো আসত না। সিরিয়াতে অলরেডি নুস্রার সাথে অন্য গ্রুপগুলোর বিতণ্ডা শুরু হয়েছে। ফ্রন্ট লাইনে নুস্রা ডেডিকেটেড হলেও অন্যান্যরা এত ডেডিকেটেড না। এইজন্য অনেক জায়গা এখন আবার আসাদের দখলে চলে যাচ্ছে।

আসলে আজকে সেকুলার যারা নুস্রাকে কিছু বলছে না তারা আইসিস কে বড় সমস্যা মনে করছে বলেই কিছু বলছে না। আইসিস শেষ হলে নুস্রাকেও ওরা ছাড়বে না। এটাই কুফফার ও মুনাফিকদের স্টাইল।

আল্লাহ্‌ আইসিস ও নুস্রাকে দ্রুত মিলিয়ে দিন। আমীন

এখন ফিরে আসা যাক খিলাফতের বিষয়ে। আইসিস নিজেদের স্টেটকে ক্রমে বর্ধিত করে চলেছে। শেখ আবু বকর আল বাগদাদিকে অনেকেই আমীর উল মু’মিনিন বলছেন। কিন্তু মোল্লা উমর তো অনেক আগেই আমীর যার কাছে ওসামা বিন লাদিন (র) ও বায়াত দিয়েছেন। তাহলে পার্থক্য কোথায়? আসলে খলিফা হবার জন্য যে ৭/৮ টি যোগ্যতার প্রয়োজন দুইজনেরই তা আছে। সেই ক্ষেত্রে উনাদের যে কেউই খলিফা হতে পারেন উপরের পদ্ধতি অনুসারে। কিন্তু একটা ভিন্ন হল আইসিস শুধু ইরাকে সীমাবদ্ধ নয় তারা ইরাকের বাইরেও খিলাফত ছড়িয়ে দেয়া জন্য টার্গেট করেছে এবং সেই জন্য জিহাদ করে চলেছে। এই ক্ষেত্রে মোল্লা উমর শুধু খোরাসানে সিমাবদ্ধ ছিলেন।

আইসিস খুব সম্ভবত বাগদাদ নিতে পারলেই খিলাফত ডিক্লেয়ার করবে। তাই এখন প্রশ্ন হল কে খলিফা হবেন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে আবু বকর আল বাগদাদিই আইসিসের প্রধান হিসাবে খলিফা নিযুক্ত হবেন অথবা উনি এটা রিফিউজ করে অন্য কাউকে এই দায়িত্ব নিতে বলতে পারেন, সেটা মোল্লা উমরকেও আহবান জানাতে পারেন। কিন্তু আমার ধারণা কেউ স্বেচ্ছায় খলিফার দায়িত্ব নিতে চাইবেন না কারণ এটার ওজন যিনি জানেন তিনি কখনও তা নিতে চাইবেন না। এই কারণে আইসিসের শারিয়া কাউন্সিলের চাপে শেষ পর্যন্ত হয়তো আল বাগদাদিকেই এই দায়িত্ব নিতে হতে পারে।

অন্যরা উনাকে খলিফা হতে জোড় করার পিছনে একটা বিশেষ কারণ দেখাতে চাইতে পারেন যেটা এই মুহূর্তে অন্য কারো নাই। সেটা হচ্ছে উনি মুহাম্মদ (সাঃ) এর বংশধর। সহিহ বুখারির ৯ম খণ্ডের ২৫৩ নম্বর হাদিসে অনুযায়ী, মুহাম্মাদ বিন জুবাইর বিন মুত’ইম বলেছেন, আমি নবীজিকে বলতে শুনেছি, খিলাফতের ব্যাপারটা কুরাইশদের মধ্যে থাকবে, এবং কেউ তাদের বিপক্ষে যাবে না, কিন্তু আল্লাহ্‌ উনাকে নিযুক্ত করবেন যদি তারা ইসলামকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে।

বুখারি ৯ম খণ্ডের ২৫৪ নং হাদিস অনুযায়ী, ইবনে উমর (রাঃ) বলেন রসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, খিলাফতের ব্যাপারটা কুরাইশদের মধ্যে থাকবে যদি কেবলমাত্র কুরাইশদের মধ্যে দুইজনও অবশিষ্ট থাকে।

উলামাদের মধ্যে একটা ইজতিহাদ আছে যে কুরাইশ বংশের খলিফাকে আমরা আমীর উল মু’মিনিন বলে সম্বোধন করব, অন্য কেউ হলে সুলতান বা অন্য কোন স্যালুটেশনে ডাকব। যেহেতু এটা ইজতিহাদের ব্যাপার, তাই এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এই বিষয়ে স্কলারদের কাছে জানতে চাওয়া উচিৎ যদি আমাদের কোন প্রশ্ন থাকে।

ইন এনি কেইস, যদি খিলাফত ডিক্লেয়ার হয়, তাহলে যদি মোল্লা উমরকে খলিফা নিযুক্ত করা হয় তাহলে আমাদের এই নিয়ে বিতর্ক করার সুযোগ নেই যে কেন আল বাগদাদি খলিফা হলেন না কিংবা যদি বাগদাদি খলিফা নিযুক্ত হন তাহলেও আমরা বিতর্কে যেতে পারব না এই জন্য যে কেন মোল্লা উমর খলিফা হল না। আমি এই দুইজনের মধ্যে যোগ্যতার পার্থক্য দেখি না শুধু আল বাগদাদির কুরাইশ বংশের হওয়া ছাড়া।

এই উম্মাহ অলরেডি অনেক রক্ত দিয়েছে। এই বার উম্মার রাইজের সময়। আমরা উম্মাহর এই ক্রিটিক্যাল সময়ে কে খলিফা হল আর কে হল না, এটা নিয়ে থেমে থাকার উপায় নাই। কিংবা খিলাফত আমাদেরকে কি দিবে এটা জিজ্ঞাসা করার উপায় নেই। সবচেয়ে বড় কথা আমরা আমাদের জীবদ্দশায় আবার খিলাফত পেতে যাচ্ছি এবং আমাদের উচিৎ চিন্তা করা আমরা খিলাফতের জন্য কি করতে পেরেছি। যদি উত্তর না থাকে, তাহলে উচিৎ এখন থেকে লেগে যাওয়া।

আল্লাহ্‌ আমাদের হিকমার সাথে পরিস্থিতি বিচারের তৌফিক দিন এবং সকল প্রকার ফিতনা থেকে মুক্ত রাখুন।

http://www.youtube.com/watch?v=0Z5dyMM-KWs

https://www.youtube.com/watch?v=SVm5tA8GYUg

(By Murad Bin Muhammad )

image

Advertisements

3 thoughts on “নুসরা vs ISIS ভুলবোঝাবুঝির অবসান।

  1. আবু আবদুল্লাহ says:

    ঐ মায়ের মত হয়ো না; যে তার সন্তানকে দ্বী-খন্ডিত করতে সন্তুষ্ট!!!
    শাইখ আবু মুহাম্মদ আল-মাকদেসী (আল্লাহ উনাকে হেফাজত করুন)

    ১৪৩৪ হিজরী
    ১৭ই নভেম্বর ২০১৩ ইংরেজী
    ভাষান্তরে:- আবু হাফসাহ

    দ্বীনের বুঝ রাখে, শরীয়তের জ্ঞান রাখে, জিহাদ ও মুজাহিদদের প্রতি আগ্রহী ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি ভালবাসা রাখে এমন কোন ব্যাক্তি পাওয়া যাবে না, যে জিহাদ ও মুজাহিদদের দলে দলে বিভক্ত হওয়াকে সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিবে।

    অথবা তাওহীদের দাওয়াত এবং তাওহীদের পথে কিতালের মাঝে বিবাদ করে, অথবা উপরোক্ত কোন একটিকে জিহাদ থেকে পৃথক করে, অথবা তাওহীদের সাহায্যকারী ও দাওয়াতের অনুসারীদেরকে অমুক, তুমকের অনুসারীতে বিভক্ত করে। বরং তারা হলো সৃষ্টির সবচেয়ে বড় জাহেল ও দাওয়াত ও জিহাদের পথে মারাত্মক ক্ষতিকর।

    আল্লাহ তায়ালা যে সম্পর্ক অটুট রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন তারা তা কর্তন করে। দ্বীনের সাহায্যকারীদের কে তারা দলে-উপদলে বিভক্ত করতে প্রয়াস চালায়। তাদের কাছে তাওহীদের সেই বন্ধন যথেষ্ট হয় না যা পরিপূর্ন ও যথার্থ!!

    ইবনুল কায়্যিম (রাহঃ) বলেনঃ
    “কোরাআন-সুন্নাহ যার জন্য যথেষ্ট নয় আল্লাহ তায়ালা তাকে যমানার নতুন নতুন ফিতনা থেকে রক্ষা করবেন না”।

    কোরআন-সুন্নাহ যার আরোগ্য হবে না আল্লাহ তায়ালা তার শরীর ও মনে কখনো শেফা দিবেন না।
    কোরআন-সুন্নাহ যার জন্য যথেষ্ট হবে না আল্লাহ (সুবঃ) তাকে সল্পতা ও বঞ্জনার মাঝে নিক্ষেপ করবেন।

    নিশ্চয়ই আলোচনা হয় বড়দের সাথেই, ঐ নিচুদের সাথে নয় যারা হাইওয়ানের চেয়ে ও নিকৃষ্ট।

    এরা জিহাদের সাহয্যকারী ও সত্যিকার জিহাদ প্রেমিক হতে পারে না বরং তারা হচ্ছে সেই মিথ্যা দাবীদার যালেম মহিলার মত যে তার সন্তানের ব্যাপারে উদাসীন ছিল। অতঃপর সে ঐ সন্তানকে দ্বিখন্ডিত করতে সম্মত হলো যার সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। অথচ সে দাবি করল যে সে তার সন্তান। যদি সে তার দাবীতে সত্যবাদীই হতো তাহলে অবশ্যই তার সন্তানের প্রতি সহানুভুতিশীল হতো।
    এবং সে সেই সন্তানের দেহ কে দ্বিখন্ডিত ও ছিন্ন-বিছিন্ন করতে অস্বীকার করতো। এবং সে এ কথা মেনে নিত যে, সন্তাটির সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই ও সে তার মা নয়। এবং সন্তানের বিষয়টি তাকে চিন্তিত ও করত না, বা সে মেনে নিত যে সন্তানের সাথে তার বা তার সাথে সন্তানের কোন সম্পর্ক নেই। যেমনটি তার দয়াশীল, স্নেহময়ী প্রকৃত মা করেছিল। আর সেটা হলো, মহিলা চায় নি যে, সন্তানটি দ্বিখন্ডিত হোক বা টুকরা টুকরা হোক। এতে কোন সন্দেহ নেই যে, পাঠক সেই উপমাটি বুঝতে পেরেছেন যেই ঘটনার দিকে আমি ইঙ্গিত করছি, আর সেটি হলো ঐ হাদিস যা ইমাম বুখারি (রাহঃ) উনার সহীহ গ্রন্থে এনেছেন। “কিতাবুল ফারায়েজ” পর্বে “যখন একজন মহিলা সন্তান দাবী করে” নামক অধ্যায়ে বর্ণিত সুলাইমান আলাইহিস সালাম এবং সন্তান নিয়ে বিবাদে লিপ্ত সেই দুই মহিলার ঘটনা যাদের একজনের সন্তান বাঘে নিয়ে গিয়েছি।

    আমি এমন এক সময়ে এই রিসালাটি লিখছি (লেখক কারাগারে অবস্থান কালে লিখিত হয়েছে), যখন কিনা আমার কাছে এই সংবাদ পৌছেছে যে, কিছু লোক বারংবার সেই মিথ্যা দাবীদার মায়ের বেশভূষা ধারন করছে, মিছে ক্রন্দনকারী দরদিনীর সাদৃশ্য অবলম্বন করছে।

    আর যদি তারা উম্মাতের এই দুরবস্থা, উম্মাহ ও তার দ্বীনের উপর শত্রুদের আগ্রাসনের কারনে নিজ আর্তনাদে সত্যবাদী হত এবং উম্মাহর জিহাদের অবস্থা ও তার উপর সংঘদ্ধ হওয়াকে সহানুভূতির দৃষ্টিতে দেখতো তাহলে তারা তাদের নিজেদের জন্য এই অবস্থানকে মেনে নিত না।

    বরং তারা তাদের মতো হতো যাদের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
    “আল্লাহ তায়ালা যে সম্পর্ক অক্ষুন্ন রাখতে আদেশ করেছেন যারা তা অক্ষুন্ন রাখে ভয় করে তাদের রব কে এবং ভয় করে কঠোর হিসাবকে”।
    সুতরাং তারা যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং সঠিক কথা বলে।

    সিরিয়ার বিভিন্ন মুজাহিদীন গ্রুপের ব্যাপানে আমাদের স্পষ্ট অবস্থান এবং যার কাছে জিহাদের বিষয়টি গুরুত্ববহ তার প্রতি আমাদের নসিহা হচ্ছেঃ
    সিরিয়ার মধ্যে আমাদের যে সকল মুজাহিদ ভাইরা তাওহীদের পতাকাকে বুলন্দ করেছেন তাদের সকলকেই আমরা ভালবাসি ও সাহায্য করি। তাকেও আমরা ভালবাসি ও সাহায্য করি, যে দলে দলে বিভক্ত না করে তাওহীদের পতাকাকে প্রতিষ্ঠিত ও সাহায্য করে।
    তাদের মধ্যে সর্বাগ্রে রয়েছে ‘জাবাহাতুন নুসরাহ’ এর ভাইরা এবং ‘দাওলাতুল ইরাক এন্ড শামের’ ভাইরা। আমরা মুজাহিদদের দলে উপদলে বিভক্ত হওয়ার উপর সন্তুষ্ট নই বরং এটা আমাদেরকে পীড়া দেয়।

    তাই আমরা তাদেরকে আহবান করছি তাওহীদের একই পতাকাতলে একই আমীরের অধীনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার।
    আর এটাও যদি কঠিন হয় তাহলে অন্ততপক্ষে তারা একটিমাত্র মজলিসে শূরার ছায়াতলে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, যা তাদেরকে একত্রিত ও মতৈক্য করে দিবে। আমরা তাদের জন্য এই দুই অবস্থা ছাড়া তৃতীয় কোন অবস্থাতে সন্তুষ্ট নই। বরং আমরা আশা রাখি প্রতিটি সেই দল তাদের সাথে মিলিত হবে যারা মূলনীতিকে এক। এটা আবশ্যক যে, সিরিয়া বাসী আমার ভাইদেরকে সিরিয়ার জিহাদের ফ্রন্ট লাইনে বা নেতৃত্বে নিয়ে আসা।

    প্রতিটি জ্ঞানবান ব্যাক্তি জানে যে, আজকে আমরা সিরিয়ার যে কঠিন যুদ্ধে আছি তার সমাধান দলে দলে বিভক্তির মাধ্যমে বা কোন একটি দলের পক্ষ থেকে সম্ভব নয়।

    তাহলে এটা কিভাবে মেনে নেয়া যায় যে, মুজাহিদরা দলে দলে বিভক্ত থাকুক অথচ কাফেরা বিভিন্ন বর্ণের হওয়া সত্তেও তারা মুজাহিদদের মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধ।
    বিশেষভাবে বাতেনিয়া, সলেবিয়া ও আরবের বিভিন্ন মুরতাদ সংস্থাগুলো এরা প্রত্যেকেই মুজাহিদদের বিরুদ্ধে ষড়ষন্ত্রে লিপ্ত। এরা তাদের তাওহীদ ও জিহাদের বিরুদ্ধে সঙ্গবদ্ধ হয়ে আগ্রাসন চালাচ্ছে।

    কাফেরদের এই ষড়ষন্ত্র ও আগ্রাসন রুখা সম্ভব নয় মুজাহীদদের কে এক কাতারবন্দি হওয়া ছাড়া।
    আর এই ঐক্য মতবিরোধকে মিটিয়ে দিবে, আত্মিক শক্তিকে বৃদ্ধি করবে। এবং শাখাগত বা কম গুরুতপূর্ন মাসলাহার (কল্যাণ) উপর জিহাদের সার্বিক মাসলাহাকে (কল্যাণ) প্রাধান্য দিবে। আর কম গুরুত্বপূর্ন বা শাখাগত মাসলাহা গুলো বিজয় ও তামকিনের (কর্তৃত্বের) পর শীঘ্রই বাস্তবায়ণ করা যাবে ইনশাল্লাহ।
    কেননা ঐক্যবদ্ধতার মাধ্যমে কাফেররা ত্রুদ্ধ হয়, তাওহীদবাদীদের চক্ষু শীতল হয় এবং মুজাহিদের কাতার শক্তিশালী ও দৃঢ় হয়।

    মহান আল্লাহ বলেনঃ “নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে ভালবাসেন যারা তার পথে এক কাতারবন্দি হয়ে যুদ্ধ করে যেন তারা সীসাঢালা প্রাচীর। (সূরা আস সফ-২)

    ভাইদের উদ্দেশ্য কিছু নসিহাঃ

    ১। আমি তাদেরকে স্মরন করিয়ে দিচ্ছি, রাসূল (সঃ) এর শরয়ী রাজনীতি দিকে লক্ষ্য রাখার বিষয়টি। বিশেষভাবে মদীনায় মুসলমানদের ইসলামী রাষ্টের প্রাথমিক পর্যায়ে যখন মুসলমানরা শক্তিশালী ছিল না।
    তিনি (সঃ) বিদ্যমান সকল সন্ধিচুক্তির প্রতি দৃষ্টি রাখতেন। এমনকি ইয়াহুদীদের সাথে ও সন্ধি করেছেন। আর এই চুক্তি ইসলামী রাষ্ট শক্তিশালী হওয়া বা কাফেররা ভজ্ঞ না করার আগ পর্যন্ত রক্ষা করেছেন।
    মুনাফিকদের কারো কারো কাছ থেকে কষ্ট পাওয়া সত্ত্বেও রাসূল (সঃ) তাদের সাথে সংঘর্ষে জড়ান নি। বরং তাদেরকে মুসলমানরা শক্তিশালী হওয়ার আগ পর্যন্ত অব্যহতি ও অবকাশ দিয়েছেন। আর অন্যদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন যাতে মানুষ এ কথা না বলতে পারে যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ সাথীদের হত্যা করেন। লোকদের নতুন ইসলামে প্রবেশের বিষয়টি ও রাসূল (সঃ) লক্ষ্য রাখতেন।

    ২। আমি তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি …………
    জাগতিক শক্তি ও উপাদান এর ব্যপারে রাসূল (সঃ) এর লক্ষ্য রাখার বিষয়টি। রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাওয়াক্কুল কারী, সবরকারী ও দৃঢ় বিশ্বাসীদের সর্দার হওয়া সত্ত্বেও শক্তিমত্তা ও দুর্বলতার প্রতি, প্রভাব ও শক্তির কমতির প্রতি লক্ষ্য রেখে কাজ করেছেন।

    ৩। জাহেলিয়াত থেকে লোকদের নতুন ইসলামে আসার কারনে তাদের অনেকের অন্তরে ইসলাম এখনো প্রোথিত হয় নি এই বিষয়টি ও তিনি লক্ষ্য রাখতেন। এসব গুলো বিষয়ই রাসূল (সঃ) বিবেচনায় রেখে কাজ করেছেন। যদিও তিনি মুহাজির ও আনসারের নামের আধিক্যেকে মিটিয়ে দিয়েছেন। তথাপি মানুষের মনে তাদের নেতাদের নের্তৃত্বের বিষয়টি যে গেথে ছিল এবং বিভিন্ন ঘটনায় তাদের নেতাদের পরামর্শ গ্রহণ এসব ব্যাপারে উদাসীন ছিলেন না। আর সীরাতে এ ব্যাপারে প্রমাণাদি ভরপুর। যে ব্যাক্তি এসবগুলো জ্বালিয়ে দিবে, এসব বিবেচ্য বিষয়দি মিটিয়ে দিতে তাড়াহুড়া করবে, এগুলো গুরুত্ব দিবে না, সে যেন কোন জিনিশকে তার যথার্থ পূর্বে নিয়ে আসতে তারাহুড়া করল। সে রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রাজনৈতিক দূরদর্শিতার প্রতি দৃষ্টিপাত করেনি। ফলে অচিরেই সে লড়াইয়ের এই প্রাঙ্গনে দলে দলে বিচ্ছিন্ন হতে দেখবে। এবং একই সময়ে অসংখ্য গ্রুপের আবির্ভাব ঘটবে। আর এটা রাসূল (সঃ) এর রাজনীতি এর অন্তর্ভুক্ত নয়।

    ৪। তই আমরা পছন্দ করি সিরিয়ার জিহাদের নের্তৃত্বে এবং সম্মুখভাগে তার নিজ দেশের আমাদের তাওহীদবাদী ভাইরা চলে আসুক। আর এতেই আমরা মাসলাহা (কল্যান) দেখতে পাচ্ছি। এজন্যে আমি আমার মুজাহিদ ভাইদের প্রতি জিহাদের বিভিন্ন মা’রেকা( যুদ্ধক্ষেত্র) গুলো উপমা হিসাবে পেশ করছি।

    আর যারা এই জিহাদকে জাহেলী বর্ডার এর সীমা রেখার বিভাজনের সাথে জড়িত থাকার মিথ্যাদাবী তুলে বিষয়টি উপেক্ষা করে, আমরা তাদের প্রতি সন্তুষ্ট নই। কস্মিনকালে ও আমরা সিরিয়াকে এধরনের কোন কিছুর সাথে সম্পর্কিত করি না। বরং এটাকে আমরা সম্পর্কযুক্ত করি আল্লাহর কিতাবের সাথে। যেমনটি আল্লাহ তায়ালা তার নবীদের প্রেরনের ক্ষেত্রে লক্ষ্য রেখেছেন। ( অর্থাৎ প্রত্যেক নবীকেই তার নিজ কাউমের লোকদের থেকেই বানিয়েছেন।

    সুতরাং নবীদের ক্ষেত্রই যদি নিজ কাউমের বিষয়টি লক্ষ্য রাখা হয় তাহলে তো অন্যদের ক্ষেত্রে এটি আরো অধিক প্রযোজ্য। অনুরুপ ভাবে আমরা এই বিষয়টিকে রাসুল (সঃ) এর রাজনৈতিক দূরদর্শিতার সাথে সম্পর্কযুক্ত করছি যে ব্যাপারে রাসুল (সঃ) সচেতন ছিলেন। বিভিন্ন ঘটনায় বা ক্ষেত্রে তিনি এই বিষয়টি উপেক্ষা করেন নি।

    ৫। জিহাদের ইমারাহ, তামকিনের আগের ইমারাহ ও পরের ইমারার মধ্যে এবং ‘ইমারাতুল মু’মিনিন’ ও ‘তামকীন প্রাপ্ত দাওলাত’ এর মধ্যে রয়েছে সুস্পষ্ট পার্থক্য, যে ব্যাপারে আমাদের আরো সতর্ক হওয়া জরুরী। আর খেলাফত তো অনেক দূরের বিষয়।
    সুতরাং প্রতিটি জিনিষকে তার যথার্থ নাম ও প্রকৃতস্থানে রেখে তার সাথে আচরণ করা উচিত। বাস্তাবিক শরয়ী নামে নামকরণ করে প্রতিটি বিষয়কে তার সঠিক স্থানে রাখা উচিত। তাহলে তার উপর এমন কিছু বর্তাবে না যা ওয়াজিব নয়, এমন কিছু প্রয়োগ হবে না যা প্রয়োগ হওয়ার নয়।

    আমি আমার মুসলমান ভাইদেরকে সাধারাণ ভাবে এবং দ্বীনের সাহায্যকারীদের বিশেষভাবে আহবান করছি, সিরিয়াতে তাওহীদের ঝান্ডাকে সাহায্য করার জন্য। তাগুত শাসকবর্গ ও আগ্রাসী শত্রুদের ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে সতর্কদৃষ্টি রাখার জন্য। যারা জিহাদের বিরুদ্ধে চক্রান্তে লিপ্ত, যারা জিহাদ ও মুজাহিদদের বদনাম রটাচ্ছে, এসব কাফের শাসকদের মিথ্যা রটনাকে সত্যায়ণ করা এবং তাদের বাতিলকে সাহায্য করা থেকে সতর্ক হোন।

    বিশেষভাবে আমি আমার তালেবে ইলম ভাইদেরকে এই বরকতময় পতাকাকে সাহায্য করার জন্য ও একে প্রতিরক্ষা করার জন্য আহবান করছি। আহবান করছি বাড়াবাড়ি অথবা কোন একদলের পক্ষপাত না করে বিভিন্ন ইসলামী দলগুলোকে ঐক্যের ক্ষেত্রে সাহায্য করার জন্য। কেন না পক্ষালম্বনকারী ব্যাক্তি সত্য মিথ্যা, ন্যায়-অন্যায় পার্থক্য করতে পারে না। জেনে রেখো যে তাদের মুজাহিদ ভাইয়েরা চায় যে তারাও জিহাদে বের হক এবং তারা তাদের সাহায্য কামনা করে। তারা আমার কাছে বারংবার এই আবেদন করেছে যে, আমি যেন এ বিষয়টি তোমাদের কে স্মরণ করিয়ে দেই যে, মুজাহিদরা তালেবে ইলমদের সাহায্যের প্রতি তাকিয়ে আছে। তারা যেন তাদের দেহ, বল্লম, জিহবা, খঞ্জর ও কন্ঠ দ্বারা সর্বাত্মকভাবে সাহায্য করে।

    আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
    “হে ঈমান্দারগণ! তোমরা আল্লাহর (দ্বীনের) সাহায্যকারী হও”।

    আমি এই রিসালাহ লিখেছি তাওহীদের ঝান্ডাকে সাহায্য করতে, জিহাদ ও মুজাহীদদের কল্যাণ, আমার নিকট তাদের নসীহা চাওয়ার প্রতি আগ্রহ দেখে।
    তারা যদি আমার কাছে নাও চাইত তথাপি এটা আমার উপর আবশ্যক ছিল এ ব্যাপারে কিছু লেখা। আর তারা যখন চাইলোই তখন তো বলার অপেক্ষা রাখে না। তারা আমাকে জানিয়েছে যে, তারা আমার নসীহাকে গুরুত্ব দেয়। আমার দিক-নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে না। তারা আমার লিখনী গুলোকে তাদের সৈনিকদের শিক্ষা দেয়।
    সুতরাং আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমাদেরকে ও তাদেরকে কবুল করেন। মুজাহিদদের কাতার গুলোক এক করে দেন। তাওহীদের ঝান্ডাকে শক্তিশালী করেন ও শিরকের পতাকাগুলোকে পদানত করে দেন। আমাদের দুশমনদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করেন। শত্রুদের কাধ ও গর্দানগুলোকে আমাদের বশে এনে দেন।
    আমীন! ছুম্মা আমীন!

    লেখকঃ- খাদেমুল মুজাহিদীন
    শাইখ আবু মুহাম্মদ আল মাকদেসী
    সংগ্রহেঃ- মিম্বারউত তাওহীদ অল জিহাদ।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s