দরবারী আলেম কারা?? তাদের ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী কেমন হওয়া উচিত???

১। “দরবারী আলেম” বলতে কাদেরকে বুঝানো হয়???

-যেসব (নামধারী) আলেম দ্বীন কায়েমের কথা বলেনা, জিহাদ-কিতালের কথা বলেনা, জালিম ও কুফফার শাসকদের বিরুদ্ধে কথা বলে না, বরং যারা দ্বীন কায়েমের জন্যে প্রাণপণ চেষ্টা করছে, জালিম-কুফফার শাসকদের বিরুদ্ধে কথা বলছে, আল্লাহর রাস্তায় জান ও মাল দিয়ে জিহাদ ও কিতাল (যুদ্ধ) করছে এসি রুমে বসে উল্টো তাঁদের বিরুদ্ধে ফতোয়া দেয়, জালিম-মুরতাদ শাসকদের মুসলিম শাসক বলে এবং তাঁদের আনুগত্য করা ফরজ, তাঁদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা হারাম বলে ফতোয়া দেয় তারাই হচ্ছে “দরবারী আলেম”
তথা জালেম-মুরতাদ শাসকদের পা চাটা আলেম। আমরা ঢালাওভাবে সকলকে “দরাবারী আলেম” বলিনা এমনকি সে যদি দ্বীন কায়েমের কথা না বলে, জিহাদ-কিতালের কথা না বলে, জালিম-কুফফার শাসকদের ভয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে কথা না বলে তাও। আমরা তখনি একজন আলেমকে “দরবারী আলেম/ দুনিয়াবী আলেম” বলি যখন সে, মুজাহিদিনদের বিরুদ্ধে এবং যারা দ্বীন কায়েমের জন্যে প্রাণপণ চেষ্টা করছে তাঁদের বিরুদ্ধে এবং জিহাদের বিরোধিতা করে ফতোয়া দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে।

– সৌদি মুরতাদ রাজা কিংবা অন্যান্য মুরতাদ সরকারকে রক্ষার জন্য আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে মিথ্যাচার করে, আয়াত ও হাদিসের অর্থ বিকৃত করে। যারা যে কোন উপায়েই হোক রাজা ও সরকারদেরকে রক্ষার চেষ্টা করে। তারা সত্যকে গোপন করে ও সত্যকে মিথ্যার দ্বারা ঢেকে দেয়। কেউ দুনিয়াবী স্বার্থে কেউবা অজ্ঞতার কারণে কেউবা মুরতাদ সরকারের ভয়ে। ভয় পেলে কিংবা না জানলে এসব ব্যাপারে চুপ থাকাই তাদের জন্য শ্রেয় ছিলো। কেউবা টিভি পর্দায় কিংবা সরকারের থেকে কিছু উচ্ছিষ্ট লাভ করার আশায়।

– যারা ইসলামের এই চরম বিপর্যয়ের সময়, যখন ইসলামী শরীয়াত বিজয়ী নেই, যেখানে রাসুল (সাঃ) কে নিয়ে হাসি-তামাশা করা হচ্ছে, যেখানে কোরআনকে অবজ্ঞা করা হচ্ছে, রাস্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলামী শরীয়াতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেখানে ফুরুয়ী-ইখতিলাফ জিইয়ে রেখে তাদের ‘ধর্ম ব্যবসা’ জারি রেখেছে। এটার কিছু উদাহরণ দেওয়া দরকার, সেগুলো নিচে দেওয়া হল-

তাঁরা মানুষের মাঝে এমন বুঝ নিয়ে আসছেন – মানুষ ফিকহ শাস্ত্র এবং ফকীহদের অপ্রয়োজনীয় মনে করছে। ফরয বাদ দিয়ে নফল প্রতিষ্ঠা নিয়ে গণ্ডগোল শুরু করছে। তাঁদের কথায় মনে হয় তাঁরা এই হাদীস ভুলে গেছেন –
قال رسول الله صلى الله عليه و سلم ( إن الله قال من عادى لي وليا فقد آذنته بالحرب وما تقرب إلي عبدي بشيء أحب إلي مما افترضت عليه وما يزال عبدي يتقرب إلي بالنوافل حتى أحبه فإذا أحببته كنت سمعه الذي يسمع به وبصره الذي يبصر به ويده التي يبطش بها ورجله التي يمشي بها وإن سألني لأعطينه ولئن استعاذني لأعيذنه وما ترددت عن شيء أنا فاعله ترددي عن نفس المؤمن يكره الموت وأنا أكره مساءته )
“যে ব্যক্তি আমার কোন ওয়ালীর সাথে শত্রুতা করে, আমি তার সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করি। বান্দা আমার নৈকট্য অর্জনের জন্যে ফরয আদায়ের চাইতে প্রিয় কোন কাজ করেনি। আর বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকে, এক পর্যায়ে আমি তাকে ভালবেসে ফেলি।”- সহিহ বুখারী

ফিকহের একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ফরয-নফল, মাকরুহ-হারাম এগুলো শ্রেণী-বিন্যাস করা।
একারণেই দেখা যায়, তাঁরা মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের চেয়ে কিছু নফল-মুস্তাহাবকে ফরযের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন।
তাঁরা এক সুন্নাহ ছেড়ে আরেক সুন্নাহ এর দিকে দাওয়াত দেন – ইকামতের শব্দ বিজোড় বলা, আসরের সালাতের সময়, ঈদের সালাতের তাকবীর।
জিহাদের ফরযীয়াতের আলোচনা থেকে সবাইকে বিরত রাখা, এই আলোচনা শুরু করলেই খাওয়ারিজ, চরমপন্থী এসব বলা। যদি “খাওয়ারিজরা” ভুলও হয়, তাহলে সঠিক জিহাদের পথ কি তা না বলা। কিভাবে আমরা মজলুম মুসলিম ভাইদের কাফিরদের হত্যা লুটপাট থেকে রক্ষা করব সঠিক উপায় উনারা কক্ষণও বলবেননা। এসবের কারণে সাধারণ মানুষ এখন ইবাদতের চূড়া যে জিহাদ তথা কিতাল ফি সাবিলিল্লাহ এটা ভুলেই গেছে। এই ইবাদত নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ উনারা করেন।

নাহিয়ানিল মুনকার বলতে উনারা প্রধানত শুধু উনাদের ইজতিহাদের বিদআতের নিষেধ বুঝেন। প্রকাশ্য হারাম (শরীয়তের বিলুপ্তি, মদ-জুয়া, নাইট ক্লাব), কবীরা গুনাহ এসব সম্পর্কে উনারা জন সাধারণকে কিছু বলবেন না, বললেও গোপনে।
তারাই মুসলিমদের খাওয়ারিজ করে দিচ্ছে – সব তাবিজ পরলেই শিরক, জামায়াত ইসলাম বিদাতি কাজেই সাঈদীর ফাঁসি দিলেও আমাদের কিছু এসে যায়না, যে কোন পীরের মুরিদ মানেই মুশ্রিক – এরা আমাদের মুসলিম ভাই নয় – এগুলো তাঁরা বিস্তার করছে। কিছু বিদআত করলে তাঁদের মুসলিম না ভাবা। কোন একজন বিদআত করলেই যে বিদআতী হয়না – সেটা মানুষকে না বুঝানো। অজ্ঞতার অজুহাত শুধু শাসক শ্রেণির মাঝে সীমাবদ্ধ রাখা।
– যারা যে কোন মূল্যে জিহাদের বিরোধিতা করাকে তাদের অন্যতম পবিত্র দায়িত্ব বানিয়ে নিয়েছে। জিহাদের জন্য এমন সব আজগুবি শর্ত গুড়ে দিয়েছে যা কোন সলফে সালেহী কখনো আলোচনা করেন নি। এর দ্বারা তাদের একটাই উদ্দেশ্য মুরতাদ সৌদি রাজা ও অন্যান্য সরকারদের ‘সুস্পষ্ট কুফরী’ দেখেও যাতে মুসলিম জাতি চুপ করে বসে থাকে। যদিও এসময় এসব মুরতাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর ব্যাপারে সলফে সালেহীনদের ইজমা রয়েছে।

– যারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে আফগান জিহাদকে খুব সমর্থন করেছিলো, কিন্তু এখন তাদের ‘আংকেল’ আমেরিকার সাথে জিহাদকে কোনভাবেই সহ্য করতে পারছে না। এই জিহাদকে ফিতনা, ফাওদা, খারেজীদের কাজ, ‘মুসলিম উম্মাহকে বিপদে ফেলার সামিল’ ইত্যাদি নামে অভিহিত করছে।

২। এইসব দরাবারী আলেমদের ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী কি??

-তাঁদের এহেন জঘন্য শরিয়ত বিরোধী কার্যকলাপের পরেও তাঁদের ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী হচ্ছে-ভারসাম্যপূর্ণ, শুধুমাত্র তা বৃহত্তর ফেতনা এড়ানোর জন্যে। তাঁদের যেসব কথা ও কাজ ভালো, কোরআন হাদিসের সাথে সংঘর্ষিক না সেগুলো মেনে নিতে আমাদের কোন আপত্তি নেই। যেমন তারা নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাত, বিবাহ, পারিবারিক জীবন নিয়ে অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলে থাকেন। সেগুলো কেউ মেনে নিলে আমাদের কোন আপত্তি নেই। কিন্তু কেউ যদি তাঁদের কাছ থেকে দ্বীন কায়েম, জিহাদ-কিতাল ইত্যাদি বিষয়ে তাঁদের মতকে গ্রহণ করে এবং সেগুলোকে দলীল হিসেবে পেশ করে তখন আমাদের প্রবল আপত্তি আছে কেননা যে ব্যক্তি নিজে দ্বীন কায়েমের চেষ্টা করেনা, জিহাদ-কিতালে অংশগ্রহনে করে না, জালিম ও কুফফার শাসকদের বিরুদ্ধে কথা বলেনা সেই ব্যক্তি কিভাবে দ্বীন কায়েম, জিহাদ-কিতাল নিয়ে আপনাকে সঠিক বক্তব্য দিবে?? শহীদ শাইখ আবদুল্লাহ আযযাম (রাহীমাহুল্লাহ) একটি উপমার মাধ্যমে খুব সুন্দর করে এই বিষয়টা আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেনঃ

“যদি কেউ কোন মুসলিম পপ স্টারকে জিজ্ঞাসা করে যে, গান শোনা কি ইসলামে অনুমোদিত নাকি নিসিদ্ধ? সে(পপ স্টার) তাঁর সাধ্যমত চেষ্টা করবে এবং এর জন্যে প্রয়োজনে কোরআন সুন্নাহ থেকে দলিল দিয়ে হলেও বুঝানোর চেষ্টা করবে যে ইসলামে এর অনুমোদন রয়েছে। এই পপ স্টারের আমলের দিকে যদি কেউ লক্ষ করে তাহলে সে সহজেই বুঝতে পারবে যে, অযৌক্তিক যুক্তি দিয়ে হলেও পপ স্টার তাঁর পক্ষে সাফাই দেয়ার চেষ্টা করছে। ঠিক একইভাবে যদি কোন আলিম, যিনি আল্লাহ্‌র রাসূল(সাঃ) এর, তাঁর সাহাবাগনের এবং পূর্ববর্তী সত্যনিষ্ঠ আলিমগণের পদাঙ্ক অনুসরণ করেনা, জিহাদের ময়দানে অংশগ্রহণ করেনা,তাঁর কাছে গিয়ে যদি জিজ্ঞেস করা হয় যে, বর্তমান সময়ে জিহাদের বিধান কি? তাহলে এটি ধারণা করা খুব বেশী কঠিন কোন বিষয় নয় যে তিনি কোন ধরনের উত্তর দিতে পারেন। (Defense of the Muslim Land By শহীদ শাইখ ডঃ আবদুল্লাহ আযযাম)

-আরও পরিস্কার করে বলি-আপনি যদি নামাজ রোজা, হজ্জ, যাকাত, বিবাহ, পারিবারিক জীবন ইত্যাদি বিষয়গুলো সম্পর্কে জানার জন্যে জন্যে নুমান আলী খান, ইয়াসির কাদী, ডঃ বিলাল ফিলিপস, মতিউর রহমান মাদানী, ডঃ সাইফুল্লাহ, ডঃ আব্দুল্লাহ জাহাংগীর এবং এই ক্যাটাগরীর যারা আছে তাদের কাছে যান তাহলে সেটা নিয়ে আমাদের কোন আপত্তি নেই। কিন্ত আপনি যখন দ্বীন প্রতিষ্টা, জিহাদ-কিতাল ইত্যাদি বুঝার জন্যে এইসব আলেমদের কাছে যাবেন তখন আমাদের প্রবল আপত্তি আছে কারণ এদের কেউ দ্বীন প্রতিষ্টা, জিহাদ-কিতাল নিয়ে কথা বলেনা, নিজেরাও দ্বীন প্রতিষ্টার তাগিদ অনুভব করেনা, জালেম এবং কুফফার শাসকদের বিরুদ্ধে কথা বলেনা। বরং উল্টো আরও জিহাদ-কিতালের বিরুদ্ধে বলে, জিহাদ-কিতালের জন্যে আজগুবি সব শর্ত জুড়ে দেয় যেসব সব শর্ত আল্লাহ রাসুল(সাঃ),সাহাবায়ে কিরাম এবং সালাফে সলেহিনরা যুক্ত করেননি। আপনাকে দ্বীন প্রতিষ্টা, জিহাদ-কিতাল, এগুলো বুঝার জন্যে অবশ্যই ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রঃ), শহীদ হাসান আল বান্না, শহীদ সাইদ কুতুব, শহীদ শাইখ ডঃ আব্দুল্লাহ আযযাম, শহীদ ইমাম আনোয়ার আল আওলাকি, আবু মুহাম্মদ অসীম আল মাকদিসি, আবু বসির আত তারতুসি, আবু হামজা আল মিশারী, উস্তাদ আবু উবাইদা এদের কাছে যেতে হবে কারণ নিজেরা শুধু জিহাদের কথা বলেই ক্ষান্ত হয়নি নিজেরা শরীরে জিহাদে অংশগ্রহণ করেছে, মৃত্যু ভয়কে উপেক্ষা করে জালিম এবং কুফফার শাসকদের বিরুদ্ধে কথা বলছে এবং নিজেদের জীবন দিয়ে তাঁদের কথার সাক্ষ্য রেখে গেছে। আল্লাহ উনাদের উত্তম প্রতিদান দিন। আমীন।

৩। এইসব দুনিয়ালোভী “দরবারী আলেম”দের ব্যাপারে কোরআন-হাদিস কি বলে???

এইসব দুনিয়ালোভী, জেনেশুনে ইলম গোপনকারী “দরবারী আলেমদেরকে” সতর্ক করে আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ

“এ সত্ত্বেও যারা আল্লাহর নাযিল করা তাঁর কিতাবের অংশবিশেষ গোপন করে রাখে এবং সামান্য বৈষয়িক মূল্যে তা বিক্রি করে দেয়, তারা এটা দিয়ে যা হাসিল করে এবং যা দিয়ে তারা নিজেদের পেট ভর্তি করে রাখে তা মূলত আগুন ছাড়া আর কিছুই নয়, শেষ বিচারের দিনে আল্লাহ তাআলা তাদের সাথে কথা বলবেন না, তিনি তাদের পবিত্রও করবেন না, তাঁদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি।”-সূরা আল বাকারাঃ ১৭৪

তাছাড়া আল্লাহ রাসুল(সাঃ) জানতেন যে, তারপর একদল আলেমদের জন্ম হবে যারা দ্বীনের ব্যাপারে যথেষ্ট জ্ঞান অর্জন করবে কিন্তু সে জ্ঞানকে দুনিয়াবানী স্বার্থে ব্যবহার করবে, জেনে শুনে ইলম গোপন করবে, জালেম-কুফফার শাসকদের বিরুদ্ধে কথা বলবেনা। তাই তিনি আমাদেরকে এইসব দুনিয়ালোভী আলেমদের ব্যাপারে সতর্ক করে গেছেন। রাসুল(সাঃ) বলেনঃ

“তিন শ্রেণীর মানুষকে সর্বপ্রথম জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। এর মাঝে প্রথম শ্রেণীটা হচ্ছে-একদল জ্ঞাণী আলেম যারা দুনিয়াবী স্বার্থে ইলম গোপন করতো এবং জালেম শাসকদের বিরুদ্ধে কথা বলতো না।সংক্ষেপিত)-জামে আত তিরমিজি ও ইবনে হিব্বান।

দরবারী এবং দুনিয়ালোভী আলেমদের ব্যাপারে অত্যন্ত কড়া কথা বলেছেন শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া। শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ) বলেন-

“যদি কোন শাইখ কুরআন এবং সুন্নাহ হতে অর্জিত শিক্ষা অনুযায়ী আমল ত্যাগ করে এবং এমন বিচারকের অনুসরণ করে যে আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসূলের শিক্ষা অনুযায়ী বিচার করেনা, তখন সে একজন ধর্মত্যাগী এবং কাফের হিসেবে বিবেচিত হবে যে দুনিয়া ও আখিরাতে শাস্তি পাওয়ার উপযুক্ত।“-আল ফতোয়া, ইবন তাইমিয়া, খন্ড-৩৫, পৃষ্টা-৩৭৩

৪। “দরবারী/ দুনিয়াবী আলেমদের” মুখোশ উন্মোচন করা কি জরুরী?? কিভাবে “দরবারী আলেমদের” চিহ্নিত করবেন???

-যদি দরবারী/দুনিয়াবী আলেমদের চিহ্নিতই করতে না-ই পারেন, তাহলে তো আপনি দুনিয়ায় বিভ্রান্তির মধ্যে ঘুরপাক খেতেই থাকবেন। এইজন্য তাঁদের চিহ্নিত করাটা জরুরী। কারা দুনিয়াবী আলেম আর কারা প্রকৃত আলেম তা চিহ্নিত করার জন্য কুরআন-সুন্নাহই অবশ্যই কিছু criteria বলে দেয়া আছে। তার মধ্যে অন্যতম criteria হচ্ছে-যারা জালিম শাসকের বিরুদ্ধে কথা বলে না তারা জাহান্নামে নিক্ষেপ হবে। এভাবে কুরআন-সুন্নাহর সাহায্যে আপনি খুব সহজেই দুনিয়াবী আলেমদের চিহ্নিত করতে পারবেন। কিন্তু আমাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে আমরা যেন কুরআন-সুন্নাহর বাইরে গিয়ে কোন সত্যিকারের আলেমের বিরুদ্ধে অপবাদ না দেই। কারন সত্যিকারের আলেমরাই নবীগনের উত্তরসুরী, আমাদের নেতা, আমাদের পথ প্রদর্শক। কুরআন-সুন্নাহর সাহায্যে একটু এদিক-সেদিক তাকালেই আমরা দেখতে পাবো কারা দুনিয়াবী আলেম আর কারা সত্যিকারের আলেম ইনশা আল্লাহ।

সবাইকে এসব আলিম সম্পর্কে সচেতন করতেই এগুলো উল্লেখ করা হল। আল্লাহর কসম, অন্য কোন কারণে বা ব্যক্তি আক্রোশ থেকে এগুলো লেখা হয়নি।

জাযাকাল্লাহু খাইর।

http://goo.gl/c869VS

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s