ইনসাফের আদালতে আল্লামা ওলীপুরী

মেরাজের রাতে সংঘটিত তাশাহুদ সম্পর্কিত ঘটনাটি কি বানোয়াট?

Posted on June 6, 2014 by Admin
প্রশ্ন

নামধারী আহলে হাদীস এক ভাই আল্লামা নুরুল ইসলাম ওলীপুরী দা.বা. এর একটি বক্তব্য নিয়ে নিচে উদ্ধৃত মন্তব্য করেছে। এ ব্যাপারে আপনাদের মতামত কামনা করছি।

হুবহু বক্তব্যটি তুলে ধরছি-

ওলীপুরি সাহেবের মি’রাজের রাত্রিতে ‘আত-তাহিয়াত’ (অর্থাৎ তাশাহুদ) সম্পর্কে ভিত্তিহীন বক্তব্যের জবাবঃ

সর্বপ্রথম মি’রাজ সম্পর্কে আমরা আমাদের অবস্থান পরিস্কার করছি। আমরা বিশ্বাস করি মি’রাজ রাসুল (সাঃ)-এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ মু’জেজা। রাসুল (সাঃ)-কে মহান আল্লাহ তায়ালা সশরীরে ঊর্ধ্বাকাশে নিয়ে গিয়েছেন। আমরা মি’রাজ সম্পর্কে কুরআন ও সহীহ হাদিস দ্বারা প্রমানিত প্রত্যেকটা বক্তব্য বিনা বাক্য ব্যায়ে, বিনা যুক্তিতে ঈমান রাখি।

আল্লাহ ও তাঁর রাসুল মি’রাজ সম্পর্কে যে বর্ণনা দিয়েছেন তা অক্ষরে অক্ষরে বিশ্বাস করি। আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাঃ) যেখানে থেমে গেছেন, আমরাও সেখানে থেমে যাই। নিজেদের পক্ষ থেকে কল্পনার ঘোড়া ছুটাই না। এবং বিশুদ্ধ বর্ণনা ছাড়া কাল্পনিক কোন কিছু বর্ণনা করা চরম গর্হিত কাজ মনে করি। আশা করি সম্মানিত পাঠক মি’রাজ সম্পর্কে আমাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করেছেন।

এবার আমাদের মুল বক্তব্যঃ

আমরা কয়েকদিন আগে নুরুল ইসলাম ওলীপুরি সাহেবের প্রায় ১৮ মিনিটের একটা বক্তব্য শুনলাম। এই বক্তব্য তিনি মি’রাজ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। এই ১৮ মিনিটের বক্তব্যে তিনি কমপক্ষে পাঁচটি বিষয়ে মারাত্মক ভুল বার্তা দিয়েছেন। উনার তৃতীয় ভুল বার্তা ‘’মি’রাজের রাত্রিতে রাসুল (সাঃ)-এর সাথে আল্লাহর সর্বপ্রথম যে কথা হয়েছিল তা ছিল ‘আত-তাহিয়াতু’

আমাদের সমাজে বহুল প্রচলিত কথা হল, রাসুল (সাঃ) মি’রাজের রাত্রিতে ‘আত-তাহিয়াতু’লাভ করেন। এ বিষয়ে একটি গল্প প্রচলিত আছে।

গল্পটির সার-সংক্ষেপ হল, রাসুল (সাঃ) যখন মি’রাজের রাত্রিতে যখন সর্বচ্চ নৈকট্যে পৌঁছান তখন মহান আল্লাহকে সম্ভাষণ করে বলেনঃ ”আত-তাহিয়াতু লিল্লাহি…’ তখন মহান আল্লাহ বলেনঃ ‘আস-সালামু আলাইকা…’ তখন রাসুল (সাঃ) চান যে, তাঁর উম্মাতের জন্যও সালামের অংশ থাকুক। এজন্য তিনি বলেনঃ ‘আসসালামু আলাইনা ওয়া…’ তখন জিবরীল (আঃ) ও সকল আকাশবাসী বলেনঃ ‘আশহাদু…’; কোন কোন গল্পকার বলেনঃ আস-সালামু আলাইনা…’ বাক্যটি ফেরেশতাগন বলেন”

বিভিন্ন হাদিসে বলা হয়েছে, সাহাবীগণ সলাতের শেষ বৈঠকে সালাম পাঠ করতেনঃ ‘আল্লাহকে সালাম, নাবীকে সালাম, জিবরীলকে সালাম’; তখন রাসুল (সাঃ) তাদেরকে বললেনঃ ‘এভাবে না বলে তোমরা আত-তাহিয়াতু… বলবে। সকল হাদিসেই এইরূপ বলা হয়েছে। কোন হাদিসেই বলা হয়নি যে, ‘আত-তাহিয়াতু’মি’রাজের রাত্রিতে রাসুল (সাঃ) লাভ করেছেন।

ইমাম কুরতুবী বলেনঃ ”এ গল্পটির কোন ভিত্তি আছে বলে জানা যায় না। কোথাও কোন গ্রন্থে সনদসহ বর্ণিত হয়েছে বলেও জানা যায় না। মি’রাজের ঘটনা বিভিন্ন হাদিস ও সিরাত গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। কোথাও কোন সনদ সহ বর্ণনায় মি’রাজের ঘটনায় এ কাহিনীটি বলা হয়েছে বলে আমি দেখতে পাইনি। সনদ বিহীন ভাবে কেউ কেউ তা উল্লেখ করেছেন”

কুরতুবী, তাফসীর ৩/৪২৫

আত-তাহিয়াত-কে তাশাহুদ বলা হয়। সহীহ হাদিসে তাশাহুদের বর্ণনাঃ

শাকীক ইবন সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন মাস’উদ (রাঃ) বলেন, আমরা নাবী (সাঃ)-এর পিছনে সলাত আদায়কালে বলতাম, ‘আসসালামু আলা জিবরীল, ওয়া মিকাঈল এবং আসসালামু আলা ফুলান ওয়া ফুলান’

তখন রাসুল (সাঃ) আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেনঃ ‘’আল্লাহ নিজেই তো সালাম, তাই তোমাদের কেউ সলাত আদায়কালে যেন বলে- আত্তাহিয়াতু লিল্লাহি ওয়াসসলাওয়াতু ওয়াত-ত্বাইয়বাতু, আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালেহিন’’ (অর্থাৎ আমাদের সব সালাম ও অভিবাদন, সলাত ও দু’আ এবং পবিত্রতা মহান আল্লাহর জন্য। হে নাবী! আপনার উপর সালাম, আল্লাহর রহমত ও কল্যাণ বর্ষিত হোক। আমাদের ও আল্লাহর সকল নেক বান্দাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক);

কেননা তোমরা যখন এটা পাঠ করবে তখন তা আসমান ও যমিনের মাঝে যত নেক বান্দা আছে সবার নিকটেই পৌঁছে যাবে। আর সাথে এটাও পড়বে ‘আশহাদু আল-লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহ’ (অর্থাৎ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নেই। আমি সাক্ষ্য আরও দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল)

বুখারী ৮৩১, ৮৩৫, ১২০২, ৬২৩০, ৬২৬৫, ৬৩২৮, ৭৩৮১

মুসলিম ৪০২

আবু দাউদ ৯৬৮

ইবন মাযাহ ৮৯৯

নাসাঈ ১১৬৮, ১১৬৯

বুলুগুল মারাম ৩১৪

তিরমিযি ২৮৯

আহমাদ ৭০৮, ৭১৩

মিশকাতুল মাসাবীহ ৯০৯

দারিমী ১৩৪০,১৩৪১, ১৩৪৬

ইবন খুজায়মাহ ৭০৪

ইরওয়া ৩৩৬

রাসুল (সাঃ) তাশাহুদকে কুরআন শিক্ষা দেয়ার মতো গুরুত্ব দিয়ে সাহাবীগণকে তা শিক্ষা দিতেনঃ

আবদুল্লাহ ইবন মাস’উদ (রাঃ) বলেনঃ ‘’রাসুল (সাঃ) আমার হাত তাঁর উভয় হাতের মধ্যে নিয়ে আমাকে তাশাহুদ শিক্ষা দিয়েছেন, যেভাবে তিনি আমাকে কুরআনের সুরা শিক্ষা দিতেন’’মুসলিম ৪০২ আহমাদ ৭০৯, ৭১০, ৭১২

ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ ‘’রাসুল (সাঃ) আমাদেরকে যেভাবে কুরআনের সুরা শিক্ষা দিতেন, ঠিক সেইভাবে আমাদেরকে তাশাহুদ শিক্ষা দিতেন’’মুসলিম ৪০৩

হে সম্মানিত পাঠক! চিন্তা করে দেখুন, রাসুল (সাঃ) আত-তাহিয়্যাত বা তাশাহুদকে কত গুরুত্ব দিয়ে সাহাবীগণকে শিক্ষা দিয়েছেন। কিন্তু কোথাও তিনি বলেননি যে, মি’রাজের রাত্রিতে আল্লাহর সাথে আমার যে কথোপকথন হয়েছিল এটা সে বাক্য!’’

মি’রাজের রাত্রিতে রাসুল (সাঃ)-এর সাথে মহান আল্লাহর কথোপকথনের বিস্তারিত বর্ণনা হাদিস ও সিরাত গ্রন্থসমুহের মধ্যে বিদ্যমান। কিন্তু কোন একটা হাদিস গ্রন্থে সনদসহ মি’রাজে রাসুল (সাঃ) আল্লাহর সাথে ‘আত-তাহিয়্যাত’বলে কথা শুরু করেছেন বলে উল্লেখ নেই।

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

একেই বলে অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী। এক বিষয়ে কোন স্থানে কোন বিষয় উল্লেখ না করা সেটির অস্তিত্ব অস্বিকার করা মুর্খতা বৈ কিছু নয়। বিজ্ঞ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অজ্ঞ ব্যক্তিদের অধিকাংশ অভিযোগ হয়ে থাকে মুর্খতাসূলভ। কিন্তু সেটি যদি অভিযোগ না হয়ে জানতে চাওয়ার মানসিকতা হতো, তাহলে কতই না ভাল হতো।

সবাই সব কিছু জানবে এমন নয়। তাই জ্ঞানীদের কাছ থেকে জিজ্ঞাসা করে মানার নির্দেশ আল্লাহ তাআলা পবিত্র কালামে দিয়েছেন। কিন্তু জানতে না চেয়ে অভিযোগ করে বসা মুর্খতা ছাড়া আর কি হতে পারে?

ইমাম কুরতুবী রহঃ। পৃথিবী বিখ্যাত তাফসীর বিশারদ। যে কিতাবের গ্রহণযোগ্যতা সর্বজনবিদিত। ইমাম কুরতুবী রহঃ স্বীয় তাফসীরে কুরতুবীতে সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত তথা ২৮৫ ও ২৮৬ নং আয়াতের তাফসীর করতে গিয়ে লিখেনঃ

قَوْلُهُ تَعَالَى: (آمَنَ الرَّسُولُ بِما أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ). [رُوِيَ عَنِ الْحَسَنِ وَمُجَاهِدٍ وَالضَّحَّاكِ: أَنَّ هَذِهِ الْآيَةَ كَانَتْ فِي قِصَّةِ الْمِعْرَاجِ، وَهَكَذَا رُوِيَ فِي بَعْضِ الرِّوَايَاتِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَقَالَ بَعْضُهُمْ: جَمِيعُ الْقُرْآنِ نَزَلَ بِهِ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ عَلَى مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَّا هَذِهِ الْآيَةَ فَإِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: هُوَ الَّذِي سَمِعَ لَيْلَةَ الْمِعْرَاجِ، وَقَالَ بَعْضُهُمْ: لَمْ يَكُنْ ذَلِكَ فِي قِصَّةِ الْمِعْرَاجِ، لِأَنَّ لَيْلَةَ الْمِعْرَاجِ كَانَتْ بِمَكَّةَ وَهَذِهِ السُّورَةُ كُلُّهَا مَدَنِيَّةٌ، فَأَمَّا مَنْ قَالَ: إِنَّهَا كَانَتْ لَيْلَةَ الْمِعْرَاجِ قَالَ: لَمَّا صَعِدَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وبلغ في السموات فِي مَكَانٍ مُرْتَفِعٍ وَمَعَهُ جِبْرِيلُ حَتَّى جَاوَزَ سِدْرَةَ الْمُنْتَهَى فَقَالَ لَهُ جِبْرِيلُ: إِنِّي لَمْ أُجَاوِزْ هَذَا الْمَوْضِعَ وَلَمْ يُؤْمَرْ بِالْمُجَاوَزَةِ أَحَدٌ هَذَا الْمَوْضِعَ غَيْرُكَ فَجَاوَزَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى بَلَغَ الْمَوْضِعَ الَّذِي شَاءَ اللَّهُ، فَأَشَارَ إِلَيْهِ جِبْرِيلُ بِأَنْ سَلِّمْ عَلَى رَبِّكَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ. قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، فَأَرَادَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَكُونَ لِأُمَّتِهِ حَظٌّ فِي السَّلَامِ فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، فَقَالَ جِبْرِيلُ واهل السموات كُلُّهُمْ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أن محمدا عبد هـ وَرَسُولُهُ.

অনুবাদ- হযরত হাসান বসরী রহঃ, হযরত মুজাহিদ রহঃ, হযরত জাহহাক রহঃ থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় এ আয়াত মিরাজের ঘটনার সময়কার। এমনিভাবে হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ থেকেও কিছু বর্ণনায় তা পাওয়া যায়।

তবে কেউ কেউ বলেছেনঃ পূর্ণ কুরআন জিবরাঈল আঃ হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর কাছে নিয়ে এসেছেন এ আয়াত ছাড়া। যা রাসূল সাঃ মেরাজের রাতে শুনেছেন।

আর কেউ কেউ বলেন, এ আয়াত মিরাজের ঘটনার সময়কার নয়। কেননা, মেরাজের ঘটনা হয়েছে মক্কায়। আর এ পূর্ণ সুরা নাজিল হয়েছে মদীনায়।

তবে যারা বলেন যে, এ আয়াত মেরাজের রাতে নাজিল হয়েছে তারা বলেন, রাসুল সাঃ যখন আসমানে উঠলেন এবং উঁচু স্থানে পৌঁছলেন সাথে ছিলেন জিবরাঈল আঃ। এমনকি তারা সিদরাতুল মুনতাহায় পৌঁছলেন। তখন তাঁকে জিবরাঈল আঃ বললেন, নিশ্চয় আমি এ স্থান অতিক্রম করতে পারবো না। আর আপনাকে ছাড়া আর কাউকে এ স্থান অতিক্রম করার অধিকার দেয়া হয়নি। তারপর রাসূল সাঃ তার অতিক্রম করলেন এবং এমন স্থানে পৌঁছলেন যেখানে আল্লাহ তাআলা তাঁকে পৌঁছাতে চাইলেন। তখন জিবরাঈল আঃ তাঁকে [রাসূল সাঃ] ইশারা করলেন, আল্লাহ তাআলাকে সালাম করার জন্য। তখন রাসূল সাঃ বললেন, আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াসসালাওয়াতু ওয়াত ত্বায়্যিবাতু। তখন আল্লাহ তাআলা বললেন, আসসালামু আলাইকা আইয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু। তখন রাসূল সাঃ চাইলেন সালামের একটি অংশ উম্মতীদের জন্যও বরাদ্দ হোক। তাই তিনি বললেন, আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালেহীন। তারপর জিবরাঈল আঃ এবং আসমানবাসী সবাই বলতে লাগল, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়ারাসূলুহু।

আলজামে লিআহকামিল কুরআন তথা তাফসীরে কুরতুবী, তাফসীরে সূরা বাকারা, আয়াত নং-২৮৫-২৮৬।

একই বর্ণনা এসেছে- বাহরুল উলুম তথা তাফসীরে শমরকন্দী, তাফসীরে সূরা বাকারা, আয়াত নং-২৮৫-২৮৬।

ইমাম কুরতুবী রহঃ এর বক্তব্যটির দিকে ভাল করে দৃষ্টি বুলালে আমরা দেখতে পাই। তাফসীরে কুরতুবীতে বর্ণিত ঘটনাটি কোন বানোয়াট ঘটনা নয়। সেটির সনদও রয়েছে। যা হযরত হযরত হাসান বসরী রহঃ, হযরত মুজাহিদ রহঃ, হযরত জাহহাক রহঃ থেকে বর্ণিত। শুধু তাই নয়, হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ থেকেও কিছু কিছু বর্ণনায় তা উদ্ধৃত বলে ইমাম কুরতুবী রহঃ মত দিয়েছেন।

ইমাম কুরতুবী রহঃ পরিস্কার ভাষায় লিখেছেন যে, এ আয়াতটি হাসান বসরী রহঃ, হযরত মুজাহিদ রহঃ, হযরত জাহহাহক রহঃ এবং হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ এর কতিপয় বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত যে, তা মেরাজ সম্পর্কিত। আর যারা উক্ত আয়াতকে মেরাজ সম্পর্কিত বলে মত দিয়েছেন তারাই এর সাথে উপরে বর্ণিত ঘটনাটি উদ্ধৃত করেছেন। তাহলে কি দাঁড়াল? এই ঘটনার বর্ণনাকারী, হযরত হাসান বসরী রহঃ, হযরত মুজাহিদ রহঃ, হযরত জাহহাক রহঃ, সেই সাথে হযরত হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ এর কিছু বর্ণনায়ও তা উদ্ধৃত।

তারপরও শুধু অজ্ঞতাবশতঃ উক্ত ঘটনাটিকে সূত্রহীন ও বানোয়াট বলে মন্তব্য করা মুর্খতা ছাড়া আর কী হতে পারে?

নির্ভরযোগ্য তাফসীর গ্রন্থে বর্ণনাকারীর কথা উল্লেখকরতঃ বর্ণনাকৃত বক্তব্যকে প্রচলিত বানোয়াট গল্প বলে মন্তব্য করা কতটা স্পর্ধার কাজ তা বিচার করার ভার সকল বিজ্ঞ পাঠকদের কাছেই ন্যস্ত করলাম।

অভিযোগকারী একথা বলতে পারে যে,

ইমাম কুরতুবী রহঃ যাদের থেকে এ বর্ণনা প্রমানিত বলেছেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়। ইমাম কুরতুবী রহঃ স্বীয় তাফসীর গ্রন্থে তিনজন বড় মুহাদ্দিস ও তাফসীরবিদ এবং ইতিহাসবীদের রেফারেন্স দিয়ে বানোয়াট গল্প এনেছেন।

একথা বলার পর এ উদ্ভট দাবির ক্ষেত্রে দলীল পেশ করে তা প্রমাণ করতে পারে। কিন্তু বেধড়ক ঘটনাটির সূত্র সম্পর্কে যাচাই বাছাই ছাড়া ঘটনাটিকে বানোয়াট প্রচালিত গল্প বলে ঠাট্টা করা বেআদবী আর উদ্ধতপনা ছাড়া আর কিছু মনে হয় না।

এসব চামচিকার ভেংচি আল্লামা নুরুল ইসলাম ওলীপুরী দা.বা. এর মত পূর্ণিমা চাঁদকে কখনো ম্লান করতে পারবে না ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহ তাআলা আমাদের এসব অতি পন্ডিত মুর্খ গবেষকদের বিভ্রান্তিকর গবেষণা থেকে মুসলিম জাতিকে হিফাযত করুন। আমীন।

والله اعلم بالصواب

উত্তর লিখনে

লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

মুফতী-জামিয়াতুল আস’আদ আল ইসলামিয়া-ঢাকা

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s