[ আমীন জোরে বলার ব্যাপারে আহলে হাদীসদের কাছে কোন স


সহীহ হাদীসের দাবিদার আহলে হাদীসদের দৈন্যদশা

[ আমীন জোরে বলার ব্যাপারে আহলে হাদীসদের কাছে কোন সহীহ হাদীস নেই। আমীন বলার অনেক সহীহ হাদীস আছে। কিন্তু আমীন জোরে বলার কোন সহীহ হাদীস নেই। এই বিষয়ে আহলে হাদীসদের চ্যালেন্জ করলেও তারা কোন সহীহ হাদীস দেখাতে পারেনি। বিস্তুারিত পড়ুন এবং জানুন এই মাসআলায় আহলে হাদীসরা কেন ইয়াতীম। আমরা নিজেরাও আমীন বলি। এজন্য শুধু আমীন বলার হাদীস নয়, বরং জোরে আমীন বলার সহীহ হাদীস দেখাতে বলা হয়েছে। এখানে তাদের দেয়া দলিলগুলো সংক্ষেপে খন্ডন করা হলো]

প্রথম দলিল:

হাদিস নং ১: আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্নিত: রাসুল স. যখন সূরা ফাতিহা পড়ে শেষ করতেন তখন উচ্চস্বরে আমীন বলতেন। (মুসতাদারাকে হাকিম ২২৩ পৃ., বায়হাকি ২য়, ৫৮ পৃ)

খন্ডন:

আপনি প্রথম দলিল হিসেবে একটা দুর্বল হাদীস এনেছেন। এই হাদীসে তিনজন রাবী সম্পর্কে বিতর্ক রয়েছে, ১. ইসহাক ইবনে ইব্রাহীম ইবনে আলা। সে দুর্বল ও মিথ্যুক। ২. ইসহাক ইবনে ইব্রাহীম এর উস্তাদ আমর ইবনে হারেস মাজহুল বা অজ্ঞাত। ৩. আমর ইবনে হারেস এর উস্তাদ আব্দুল্লাহ ইবনে সালেম নাসেবী ছিলো। সতুরাং এধরনের মনগড়া বর্ণনা আনলেন কেন? আপনাকে সহীহ সনদ আনতে বলা হয়েছিলো।

দ্বিতীয় দলিল:

ওয়ায়েল ইবনু হুজর রাযি. সুত্রে বর্ণিত। তিনি রাসুল স.-এর পিছনে সলাত আদায় করেছেন। রাসুল স. ‘ওলাদদোয়াল্লিন’ বলার পর সশব্দে ‘’আমীন’’ বলেছেন।

(আবু দাউদ; হাসান সহীহ; হাদীস নঃ ৯৩৩, পৃ ১/১৩৫)

খন্ডন:

এই হাদীসে আলা ইবনে সালেহ আল-আসাদী একজন নিতান্ত দুর্বল রাবী রয়েছে।ইমাম আবু হাতিম রহ. তার সম্পর্কে বলেন, সে শিয়াদের সর্দার ছিলো। দেখুন, মিজানুল ই’তেদাল খ.২, পৃ.২১২।

তৃতীয় দলিল:

হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,

রাসূল স. নামাযে গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওলাদ জল্লিন এমনভাবে বলতেন যে রাসূল স. এর নিকটবর্তী কাতারের লোকেরা শুনতে পেত।

ইবনে মাজা, হাদীস নং ৯৩৪।

খন্ডন: এই হাদীসটি খুবই দুর্বল। এই হাদীসের বর্ণনায় বিশর ইবনে রাফে নামে একজন রাবী রয়েছে যে হাদীস জাল করতো। তার মতো জালকারী বর্ণিত হাদীস গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়াও হাদীসের বর্ণনায় আবু আব্দুল্লাহ নামে একজন মাজহুল ও অজ্ঞাত রাবীর রয়েছে।

চতুর্থ দলিল:

সাহাবী আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, লোকেরা আমীন বলা ছেড়ে দিয়েছে! অথচ নবী (সঃ) যখন ‘গাইরিল মাগযূবি আলাইহিম ওয়ায্‌যল্লীন’ তখন এতটা জোরে আমীন বলতেন যে, প্রথম কাতারের সমস্ত লোক তা শুনতে পেতেন এবং মসজিদ বেজে উঠত (ইবনে মাযাহ ১ম খন্ড ৬২ পৃঃ);

খন্ডন:

এই হাদীসের বর্ণনায় বিশর ইবনে রাফে রাবী রয়েছে। তার সম্পর্কে মুহাদ্দিসদের বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে। সে হাদীস জাল করতো। মুহাদ্দিসদের ঐকমত্যে সে দুর্বল।

পণ্চম দলিল:

নারী সাহাবী উম্মে হোসাইন (রাঃ) তিনি বলেন- রাসুল (সঃ) আমীন বললেন । আমি পিছনের মেয়েদের কাতার হতে তা শুনতে পেলাম (মাসমাউজ যাওয়াদের ১৮৭ পৃঃ; তুহ্‌ফাতুল আহওয়াযী ১ম খন্ড ২০ পৃঃ; তালিকুল মুমাজ্জাদ ১০৫);

খন্ডন:

এই বর্ণনায় ইসমাইল ইবনে মুসলি আল-মক্কী নামে একজন দুর্বল রাবী রয়েছে।

এই বর্ণনাটি উম্মে হোসাইন থেকে ইবনে হুসাইন বর্ণনা করেছে। ইবনে উম্মে হোসাইন মাজহুল বা অজ্ঞাত।

এই বর্ণনায় আরেকটা সমস্যা হলো, ইসমাইল ইবনে মুসলিম হাদীসটি আবু ইসহাক সাবেয়ী থেকে বর্ণনা করেছে। আবু ইসাহাক সাবেয়ী শেষ জীবনে ভ্রমগ্রস্ত হন।

এই বর্ণনার আরেকটি ত্রুটি হলো, আবু ইসহাক সাবেয়ী মুদাল্লিস ছিলো। এখানে সে ইবনে উম্মে হোসাইন থেকে আন সূত্রে বর্ণনা করেছে।

ষষ্ঠ দলিল:

হযরত আযেশা রা. থেকে বর্ণিত রাসূল স. বলেন,

ইহুদীরা আমীন ও সালামের উপর যে পরিমাণ হিংসা করে অন্য কিছুর উপর এতোটা হিংসা করে না।

(ইবনে মাজা, মুসানদে আহমাদ)

খন্ডন:

প্রথমত এই হাদীসের সাতে নামাজে আমীন আস্তে বা জোরে বলার কোন সম্পর্ক নেই। বরং এই হাদীস থেকে নামাযে আমীন আস্তে বলার প্রমাণ পাওয়া যায়। কারণ নামাযে সালাম আস্তে বলা হয়, ঠিক তেমনি আমীনও আস্তে বলা হবে। কানযুল উম্মালে এই হাদীসটির আরেকটি অংশ হলো, ইহুদীরা রব্বানা লাকাল হামদ এর উপরও হিংসা করে। নামাযে কেউ রব্বানা লাকাল হামদ জোরে বলে না।

২. এই হাদীসের সবগুলো সনদই দুর্বল। ইবনে মাজার বর্ণনায় সুহাইল ইবনে আবি সালেহ নামে একজন বর্ণনাকারী রয়েছে। শেষ জীবনে তার স্মৃতি নষ্ট হয়ে যায়।সুহাইল ইবনে আবি সালেহ এর শাগরেদ হাম্মাদ ইবনে আবি সালামা এরও শেষ জীবনে স্মৃতিতে ত্রুটি দেখা যায়।

৩. মুসনাদে আহমাদের বর্ণনায় আলী ইবনে আসেম নামে একজন নিতান্ত দুর্বল বর্ণনাকারী রয়েছে।

সপ্তম দলিল:

আবু দাউদের ৯৩২ নং হাদীসটিতে রয়েছে হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর রা. থেকে বর্ণিত ‍‌”ওয়ালাদ্দাল্লীন” পাঠ করার পর জোরে আমীন বলতেন।

এই হাদীসের উপর একটু বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন। পাঠকের সমীপে নিবেদন ধৈর্য্য সহকারে পুরো আলোচনা পড়ুন।

এই “জোরে আমীন” বলার কথাটি শায ও বিচ্ছিন্ন বর্ণনা। এই হাদীসটি বিভিন্ন কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। অন্যান্য কিতাবে জোরে আমীন বলার কথা নেই। সেখানে আমীন মাদসহ পড়ার কথা আছে। অর্থাৎ আমীন টেনে মাদসহ পড়েছেন। এই হাদীসটিতে স্পষ্ট উল্লেখ নেই যে রাসূল স. নামাযে মাদসহ আমীন বলেছেন না কি নামাযের বাইরে। সুতরাং এই হাদীসের শায ও বিছ্চিন্ন বর্ণনা দ্বারা আমীন জোরে বলার প্রমাণ দেয়া কখনও সমীচিন নয়।

এই হাদীসটি শায বা বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রমাণ:

এই হাদীসটি ইমাম সুফিয়ান সাউরী থেকে তার দশজন ছাত্র বর্ণনা করেছে। এর মাঝে ৮জন বর্ণনা করেছে যে, রাসূল স. আমীন টেনে মাদসহ পড়েছেন আর দুইজন বলেছে রাসূল স. জোরে আমীন বলেছেন। তাদের এই দুইজনের বক্তব্য শায ও দুর্বল।

সুফিয়ান সাউরী রহ. এর ৮জন ছাত্রের বর্ণনা:

১. ইমাম ওকী তার উস্তাদ ইমাম সুফিয়ান সাউরী থেকে মাদসহ টেনে পড়ার কথা বর্ণনা করেছেন। দেখুন, মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, খ.২, পৃ.৪২৫। দারে কুতনী, খ.১, পৃ.১২৭।মুসনাদে আহমাদ, খ.৩, পৃ.৩১৬।

২. ইমাম আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-মুহারেবী সুফিয়ান সাউরী থেকে মাদসহ পড়ার কথা বর্ণনা করেছেন।

দেখুন, দারে কুতনী, খ.১, পৃ.১২৭।

৩. ইমাম আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী সুফিয়ান সাউরী থেকে مد بها صوته (মাদসহ টেনে পড়েছেন) বর্ণনা করেছেন। তিরমিযি, খ.১, পৃ.৫৭, দারে কুতনী, খ.১, পৃ.১২৭।

৪. ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে সাইদ আল-কাত্তান সাউরী থেকে مد بها صوته (মাদসহ টেনে পড়েছেন) বর্ণনা করেছেন। তিরমিযি, খ.১, পৃ.৫৭।

৫. ইমাম উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দির রহমান আল-আশজায়ী সুফিয়া সাউরী থেকে يمد بها صوته (মাদসহ টেনে পড়েছেন) বর্ণনা করেছেন। বাইহাকী, খ.২, পৃ.৫৭।

৬. মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ আল-ফারইয়াবী মাদসহ পড়ার বর্ণনা করেছেন।

৭. ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ সুফিয়ান সাউরী থেকে মাদসহ পড়ার কথা বর্ণনা করেছেন। (জুযউল কিরায়া, পৃ.২৬)

৮. সুফিয়ান সাউরী রহ. এর অষ্টম শাগরিদ হলো ইমাম কবীসা। তিনিও মাদসহ পড়ার কথা বর্ণনা করেছেন। জুযউল কিরায়া, পৃ.২৬।

সুফিয়ান সাউরী রহ. এর নবম ছাত্র খাল্লাদ ইবনে ইয়াহইয়া। সে এই হাদীস বর্ননা করেছে এভাবে, قال أمين رفع بها صوته في الصلوةঅর্থাৎ তিনি আমীন বলেছেন এবং নামাযে জোরে আমীন বলেছেন।

খাল্লাদ ইবনে ইয়াহইয়া একজন বিতর্কিত বর্ণনাকারী। তার বর্ণিত এই বর্ণনাটি মূলত: জাল। এই শব্দে হাদীসটি বর্ণিত হয়নি। এই সনদের আবু আব্দুর রহমান সুলামী নামে একজন দুর্বল বর্ণনাকারী রয়েছে। মুহাদ্দিসগণ তার শক্ত সমালোচনা করেছেন। আবু আব্দুর রহামন সুলামী সূফীদের পক্ষে জাল হাদীস তৈরি করতো। এছাড়াও এই হাদীসের বর্ণনাকারী খাল্লাদ ইবনে ইয়াহইয়ার এর ছাত্র মুয়াজ ইবনে নাজদাও বিতর্কিত।

সুফিয়ান সাউরী রহ. এর দশম ছাত্র হলো মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর। আবু দাউদের হাদীসটি মুহাম্মাদ ইবনে কাসীরের সূত্রে বর্ণিত। মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর একজন বিতর্কিত রাবী। ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মাইন বলেন, لا تكتبوا عنه، لم يكن بالثقة অর্থাৎ তার কাছ থেকে হাদীস লিখবে না। কেননা সে বিশ্বস্ত নয়। (মিজানুল ই’তেদাল, খ.৩, পৃ.১৬৬)।

সুতরাং সার কথা হলো, সুফিয়ান সাউরী থেকে হাদীসটি দশজন রাবী বর্ণনা করেছে। এর মাঝে আটজন টেনে পড়ার শব্দে বর্ণনা করেছে। কিন্তু দু’জন জোরে আমীন বলার কথা বলেছে। এই দু’জনের মাঝে একজনের বর্ণনা জাল। অপর বর্ণনাকারী বিতর্কিত। সুতরাং এতোজন মুহাদ্দিসের বিপরীতে মুহাম্মাদ ইবনে কাসীরের বর্ণনা কখনও গ্রহণযোগ্য হতে পারে ন।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো:

ইমাম সুফিয়ান সাউরী নিজে এই হাদীসের বর্ণনাকারী হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজে আস্তে আমীন বলতেন।

সুতরাং এধরনের শায বর্ণনাকে যারা সহীহ বলে চালিয়ে দেয় তারা আর যাই হোক কখনও প্রকৃত আহলে হাদীস হতে পারে না।

অথচ আমীন অনুচ্চস্বরে বলার পক্ষে বহু সহীহ, হাসান, হাসান লিগাইরিহী, সহীহ লিগাইরিহী হাদীস আছে, তেমনি যুগ যুগ ধরে যেমন সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন, তবে তাবেয়ীন, ইমাম মুজতাহিদীন, মুহাদ্দিস, মুফতী ওলামায়ে কেরাম সবার আমল এ প্রমাণকে আরো বহুগুণ শক্তিশালী করেছে। তার পরেও আহলে হাদীসরা শুধু মুসলমানদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে, নামাযের মত ইসলামের মুখ্য ইবাদতকে বিতর্কি ত বানানোর মানসে বিকট আওয়াজে উচ্চস্বরে আমীন বলার প্রথা জারি করতে চায়। আমি নিচে কয়ে হাদীস ও সাহাবায়ে কেরামের আমলের বর্ণন উল্লেখ করছি।

ইমাম, মুক্তাদী এবং একাকী নামায আদায়কারী সকলে ‘আমীন’ অনুচ্চস্বরে বলবে
১। হযরত ওয়ায়েল ইবনে হুজর (রা.) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন “আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে নামায আদায় করেছি, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দাললিন বললেন, তখন অনুচ্চস্বরে আমীন বললেন। (মুস্তাদরাকে হাকেম ২/২৩২ হা. ২৯১৩, দারা কুতনী ১/২৬৩ হা. ১২৫৬)
২। হযরত ওয়ায়েল ইবনে হুজর সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন “আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নামায পড়ান। অতঃপর যখন গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দাললিন তেলাওয়াত করেন তখন তিনি অনুচ্চস্বরে আমীন বললেন। (মুসনাদে আহমদ ৪/৩১৬ হা. ১৮৮৫৪)
৩। হযরত ওয়ায়েল ইবনে হুজর (রা.) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পেছনে নামায আদায় করেছি। “তিনি সূরায়ে ফাতেহার পর উচ্চস্বরে আমীন বলেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে শিক্ষা দেওয়ার জন্যই এরূপ করেছেন। (কিতাবুল কুনা লি আবী বিশর দূলাবী ১/৪৪১ হা. ১৫৫৮)
এই হাদীস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্বাভাবিক আমল ছিল আমীন অনুচ্চস্বরে বলা। তবে কখনো মুক্তাদিদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য উচ্চস্বরে বলেছেন। তাও চিৎকার করে নয়।
৪। হযরত হাসান সূত্রে বর্ণিত “হযরত সামুরা ইবনে জুন্দুব ও হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) পরস্পর আলোচনা হলো। হযরত সামুরা (রা.) হাদীস বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, আমি স্মরণ রেখেছি যে, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুটি স্থানে সিক্্তাহ করতেন অর্থাৎ চুপ থাকতেন। একটি তাকবীরে তাহরীমা বলার পর দ্বিতীয়টি হলো, গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দাললিন তেলাওয়াত করার পর। হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) এটির স্বীকৃতি দিলেন না। তখন উভয়ে এই মাসআলা জানার জন্য উবাই ইবনে কা’আবের প্রতি পত্র লিখলেন। হযরত উবাই ইবনে কা’আব (রা.) উত্তরে লেখলেন, সামুরা (রা.) নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিষয়টি ঠিকভাবেই স্মরণ রেখেছেন। (সুনানে আবু দাউদ ১/১১৩ হা.৭৭৫, সুনানে তিরমিযী ১/৫৯ হা. ২৫১)
(উল্লেখ্য যে, তাকবীরে তাহরীমার পর সানা পড়া হয় এবং ফাতিহার পর আমীন বলা হয়। এগুলো যেহেতু অনুচ্চস্বরেই পড়া হত সে কারণে এদুটি সময়কে সিক্তা বা চুপ থাকার সময় বলা হয়েছে।)
৫। হযরত ওয়ায়েল ইবনে হুজর (রা.) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন “হযরত উমর (রা.) ও হযরত আলী (র.) বিসমিল্লাহ, আউজু বিল্লাহ এবং আমীন উচ্চস্বরে বলতেন না। (শরহে মা’আনিল আছার ১/১৫০)
৬। হযরত ইবরাহীম নখয়ী (রহ.) বলেন “পাঁচটি জিনিস অনুচ্চস্বরে বলা হয়- সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, আউযু বিল্লাহ, বিসমিল্লাহ, আমীন এবং আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল হাম্দ।” (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক ২/৮৭ হা. ২৫৯৭)
আমীনের বাস্তবতা কী?
‘আমীন’ দু’আর অন্তর্ভুক্ত। (বুখারী)
আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন قد اجیبت دعوتکما মাওলানা ছানাউল্লাহ (রহ.) এই আয়াতের অর্থ করেন এভাবে। “হযরত মুসা (আ.) দু’আ করতেন এবং হারুন (আ.) ‘আমীন’ বলতেন, আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, তোমাদের উভয় ভাইয়ের দু’আ কবুল হয়েছে।” (সূরা ইউনুস আয়াত ৮৯, তাফসীর সানায়ী ৪/৮১)
দু’আ করবে অনুচ্চস্বরে :
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন
ادعوا ربکم تضرعا وخفیا
“নিজ প্রভুর কাছে বিনয় ভাবে অনুচ্চস্বরে দু’আ করো। নিশ্চয় আল্লাহ সীমালংঘনকারীদেরকে পছন্দ করেন না।” (সূরায়ে আ’রাফ ৫৫)
সুতরাং ‘আমীন’ অনুচ্চস্বরে বলাই সর্বোত্তম এবং এটি নবী করীম (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামেরও আমল।

প্রত্যেক মুসলমানদের উচিত এসব জেনে শুনে বিভিন্ন মানুষের চিত্তাকর্ষক কথায় পাগল হওয়া। শোনামাত্র কারো কথায় পাগল হওয়া কোনো বিবেকবান মুসলমানের কাজ নয়।

মুফতি লুৎফুর ফরায়জী

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s