আলোচ্য বিষয়ঃ দরবারী আলেম/ফতোয়া ফর ডলারস


সংজ্ঞাঃ যেসব আলেম এসি রুমে বসে ডলারের বিনিময়ে ফতোয়া প্রদান এবং সৌদি ও আমেরিকার গোলামিকে নিজেদের জন্য ফরজ করে নিয়েছে তাদের দরবারি আলেম বলে।

কতিপয় দরবারি আলেমের উদাহরণঃ নাসিরুদ্দিন আলবানি,”রাবী আল মাদখালী,নুমান আলী খান,ডঃ (কবিরাজ) বিলাল ফিলিপস,ইসমাইল মেঙ্ক,ইয়াসির কাদী,আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ,জাহাঙ্গির,মতিউর রহমান মাদারী,ডঃ (কবিরাজ) সাইফুল্লাহ, আসাদুল্লাহিল গালিব,প্রভৃতি।

প্রাপ্তিস্থানঃ পৃথিবীর ৯০% দরবারি আলেম আপনি পাবেন সৌদি আরবে।অন্যান্য দেশে এদের সংখ্যা খুবি কম,কারন ফরিদুদ্দিন মাসুদের মত আলেমের সংখ্যা কমই হয়ে থাকে।মনে রাখবেন সৌদি আরবে হকপন্থী আলেমের জন্ম হয় না এমন না। সৌদির হকপন্থী আলেমদের দেখা মেলে কারাগারে এসি রুমে না

দরবারি আলেমদের বৈশিষ্টঃ

১.সোউদি ও আমেরিকার স্বার্থ রক্ষা করে চলা তদের মন মত ফতোয়া দেয়ায় হচ্ছে দরবারি আলেমদের প্রধান ডিউটি।আমেরিকার সমর্থন ছাড়া সৌদি আরব এক মিনিটও টিকতে পারবে না,তাই সৌদি সরকার বিলিয়ন ডলার খরচ করে এই দরবারি আলেমদের পোষে।তারাও তাদের মনিবের মন মত ফতোয়া দেয় ডলারের বিনিময়ে

২.তারা যে কোন মূল্যে জিহাদের বিরোধিতা করাকে তাদের প্রধান পবিত্র দায়িত্ব
বানিয়ে নিয়েছে। জিহাদের জন্য এমন সব আজগুবি শর্ত গুড়ে দিয়েছে যা কোন সলফে
সালেহী কখনো আলোচনা করেন নি। এর দ্বারা তাদের একটাই উদ্দেশ্য মুরতাদ সৌদি
রাজা ও অন্যান্য সরকারদের ‘সুস্পষ্ট কুফরী’ দেখেও যাতে মুসলিম জাতি চুপ করে
বসে থাকে।

৩.তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে আফগান জিহাদকে খুব সমর্থন করেছিলো,যেহেতু সে যুদ্ধে তাদের সৌদি বাবা আম্রিকার স্বার্থ ছিল।এমন কি এই দরবারি আলেমরা তখন রাশিয়ার বিরুধ্যে জিহাদে শরীক হতে ফতোয়া জারি করে ছিল। কিন্তু এখন সে একই মুজাহিদরা যখন তাদের বড় বাপ আমেরিকার সাথে যুদ্ধ করছে এই দরবারি আলেমরা বলছে মুজাহিদরা খারেজি ফাসাদ সৃষ্টিকারি!

************

৪. এই সব দরবারি আলেমেরা ইসলামে কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি বেশি বেশি আলোচনা করে থাকে যাতে যুবকেরা সেগুলি নিয়ে ব্যাস্ত থাকে ইসলামেরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ নিয়ে যুবকেরা ভাববার সময় না পাইয়।যেমন ধরুন এরা আপনাকে পরামর্শ দিবে কেমন মেয়ে/ছেলে আমাদের বিয়ে করা উচিত,আমাদের লাইফ স্টাইল কেমন হওয়া উচিত,অজু ভঙ্গের কারন নামাজ ভঙ্গের কারন ইত্যাদি।কিন্তু এরা কখনই বলবে না ইসলাম ভঙ্গের কারন, ইসলামে একজন শহিদের মর্যাদা। শেষে যদি মুসলিম তরুনেরা মুসলিমদের উপর নির্যাতন দেখে শহিদ হওয়ার আশায় আম্রিকার বিরুধ্যে অস্ত্র ধরে? এটাই হল ভয়।

৫. কোথাও ব্যাপক সংখ্যক মুসলিম বা অমুসলিম নিহত হলে আপনি এইসব দরবারি আলেমদের সহমর্মিতা জানাতে দেখবেন (কারন এক্ষত্রে আম্রিকার নাখোশ হওয়ার সম্ভাবনা নাই),কিন্তু ইরাক ফিলিস্তিন সিরিয়া মিশর কাশ্মির পাকিস্তান বাংলাদেশ বার্মায় মুসলিম মারতে মারতে শেষ করে ফেললেও এসসকল দরবারি আলেমদের একটি কথাও বলতে দেখবেন না,শেষে যদি আম্রিকা নাখোশ হয় ডলার আসা বন্ধ হয়ে যাই? এটাই হল আশঙ্কা।

৬.লক্ষ করলে দেখবেন দরবারি আলেমদের ফেইসবুকে লক্ষ লক্ষ ফ্যান,কারো বা কোটির বেশি।এর কারন কি জানেন? এরা কোটি কোটি ডলারের জোরে ফেইসবুকে এডভারটাইজ করে পাবলিসিটি কিনেছে।আপনি আগা থেকে গোরা পর্যন্ত খুজেও এইসব দরবারি আলেমদের পেজে একটি মুসলিম নির্যাতনের বর্ণনা পাবেন না,যদিও এর মধ্যে ইরাক মিশর সিরিয়াতে কয়েক লক্ষ মুসলিম মুসলিম হত্যা করা হুয়েছে,এরা এসব ঘটনা এড়িয়ে যাই সত্যকে গোপন করতে চেষ্টা করে।কারন এসব ঘটনা আপডেট করলে মুসলিম তরুনদের মনে যদি জিহাদি জজবা তৈরী হয়ে যাবে শেষে না আবার আম্রিকার বিরুধ্যে যুদ্ধ করে!

৭. এদের উদ্দ্যেশ্য মুসলিম যুবকদের খাশি বানিয়ে রাখা।মুসলিম যুবকদের হাতে চুরি পড়িয়ে রাখা যেন কোনভাবেই হাতে অস্ত্র তুলে না নেয়।

যে সাপের চোখ নেই,
শিং নেই, দাঁত নেই,
ছোটে নাকো হাঁটে না,
কাউকে যে কাঁটে না

বাংলাদেশে আহলে হাদিস গুলি এর উৎকৃষ্ট উদাহরন,এরা বুঝে কোনটা খারাপ কোনটা ভাল সমাজ পরিবর্তনে মুসলিম যুবকদের করনীয় কি,কিন্তু কিছুই করে না হাত গুটিয়ে বসে থাকা ছাড়া।কারন এদেশয়ি আম্রিকান সৌদি আম্রিকান দালাল আহলে হাদিস নেতারা এইসব যুবকদের বুঝাতে সক্ষম হয়েছে জিহাদ মানে ফিতনা,নামাজ রোজা কর বৌ ছেলে নিয়ে সুখে শান্তিতে কাটাও এটাই হল ইসলাম

৮. দরবারি আলেমেরা মুসলিমদের জিহাদ থেকে বিরত রাখতে তাদের ভক্ত চেলাদের দারা মুসলিমদের মধ্যে ছোট খাট বিষয়ে বিতর্ক বাধিয়ে রাখে।যেমন মাঝহাব নিয়ে বিতর্ক,অমুক দল ভন্ড তমুক দল বিদাতি হেন তেন ইত্যাদি।এরা একমাত্র আমরাই সঠিক বাকি সব বাতিলেই ধরনের এই মত প্রতিষ্ঠার জন্য ফিতনা ফাসাদ বাধাতে উদ্যত হয় মুসলিমদের মাঝে।কুফুরি করলেই যেমন কাফের হয় না বিদাত করলেই তেমন বিদাতি হয় না,কিন্তু দরবারির চেলারা এদের সাথে এমন আচরন করে যেমন আচরন অমুসলিমের সাথেও করা হয় না

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ভাল করেই জানতেন এমন আলেমের উদ্ভব হবে যারা ডলারের বিনিময়ে ফতোয়া দিবে জেনে শুনে সত্যকে গোপন করবে।এদের ব্যাপারে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের বানীঃ

“এ সত্ত্বেও যারা আল্লাহর নাযিল করা তাঁর কিতাবের অংশ বিশেষ গোপন করে রাখে এবং সামান্য বৈষয়িক মূল্যে তা বিক্রি করে দেয়, তারা এটা দিয়ে যা হাসিল করে এবং যা দিয়ে তারা নিজেদের পেট ভর্তি করে রাখে তা মূলত আগুন ছাড়া আর কিছুই নয়, শেষ বিচারের দিনে আল্লাহ তাআলা তাদের সাথে কথা বলবেন না, তিনি তাদের পবিত্রও করবেন না, তাঁদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি।”-সূরা আল বাকারাঃ ১৭৪

তাছাড়া আল্লাহ রাসুল(সাঃ) জানতেন যে, তারপর একদল আলেমদের জন্ম হবে যারা দ্বীনের ব্যাপারে যথেষ্ট জ্ঞান অর্জন করবে কিন্তু সে জ্ঞানকে দুনিয়াবানী স্বার্থে ব্যবহার করবে, জেনে শুনে ইলম গোপন করবে, জালেম-কুফফার শাসকদের বিরুদ্ধে কথা বলবেনা। তাই তিনি আমাদেরকে এইসব দুনিয়ালোভী আলেমদের ব্যাপারে সতর্ক করে গেছেন। রাসুল(সাঃ) বলেনঃ

“তিন শ্রেণীর মানুষকে সর্বপ্রথম জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। এর মাঝে প্রথম শ্রেণীটা হচ্ছে-একদল জ্ঞাণী আলেম যারা দুনিয়াবী স্বার্থে ইলম গোপন করতো এবং জালেম শাসকদের বিরুদ্ধে কথা বলতো না।সংক্ষেপিত)-জামে আত তিরমিজি

রাসূল (সঃ) বললেন ,’তোমরা আমাকে মন্দ জিনিস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না বরং ভালো জিনিস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো ।তিনি এই কথা তিনবার বললেন ।পরে বললেন,
‘তোমরা জেনে রাখো সব খারাপের মাঝে সবচেয়ে বড় খারাপ হচ্ছে আলেমদের মাঝে যারা খারাপ তারা আর সব ভালোর মাঝে সবচেয়ে ভালো হলো আলেমদের মাঝে যারা ভালো তারা ।”[দারিমী,মিশকাত আল মাসাবী-পৃষ্ঠা ৩৭]

অপর একটি হাদীসে রাসূল (সঃ) বলেছেন,’আল্লাহ তায়ালার নিকট সবচেয়ে নিকৃষ্ট আলেম তারা যারা সমসাময়িক শাসকগোষ্ঠীর(স্বৈরাচারী) দরবারে যাতায়াত করে ।'[ইবনে মাজাহ]

হযরত আলী (রঃ)থেকে বর্ণিত ,রাসূল (সঃ) বলেছেন ,”আমি অচিরেই লোকদের উপর এমন একটি সময় আসার আশংকা করছি যখন কেবলমাত্র নাম ছাড়া ইসলামের আর কিছুই থাকবে না এবং কুরআনের লিখিত রূপটি ছাড়া তার বাস্তবায়ন থাকবে না ।মসজিদগুলো চাকচিক্যে ভরপুর হলেও হিদায়ত থেকে বঞ্চিত হবে ।ঐ সময়কার আলেমরা হবে আসমানের নিচে বিচরণকারী সর্বনিকৃষ্ট জীব ।তাদের থেকেই বিভিন্ন ফিৎনা ছড়াবে এবং তারা নিজেরাও সেই ফিৎনায় আবর্তিত হবে ।”[বায়হাকী ,শুআবুল ঈমান সহীহ]

ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ) বলেন-

“যদি কোন শাইখ কুরআন এবং সুন্নাহ হতে অর্জিত শিক্ষা অনুযায়ী আমল ত্যাগ করে এবং এমন বিচারকের অনুসরণ করে যে আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসূলের শিক্ষা অনুযায়ী বিচার করেনা, তখন সে একজন ধর্মত্যাগী এবং কাফের হিসেবে বিবেচিত হবে যে দুনিয়া ও আখিরাতে শাস্তি পাওয়ার উপযুক্ত।“-আল ফতোয়া, ইবন তাইমিয়া, খন্ড-৩৫, পৃষ্টা-৩৭৩

দরবারি আলেমদের জ্ঞ্যান গর্ভ দেখে মোটেও বিচলিচ হবেন না,এই পৃথিবীতে এমন অনেক জ্ঞ্যানী ছিল যারা বিচার দিবসে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে যদি তারা কালেমা পড়েছিল। একটি লাইন দিয়ে লেখা শেষ করছি

“দরবারী বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য

…………সোহাগ ভাই

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s