তাবলীগ সম্পর্ক কিছু কথা

image

এক রোগী তার একটা মারাত্মক সমস্যা নিয়ে ডাক্তারের কাছে এসেছেন।

ডাক্তারঃ আপনার কি সমস্যা?

রোগীঃ ডাক্তার সাহেব আমার সারা গায়ে ব্যাথা !

ডাক্তারঃ কোথায় কোথায় দেখান তো একটু !

রোগীঃ (আঙ্গুলের মাথা দিয়ে সব জায়গায় টিপে টেপে দেখাচ্ছে) এই যে এখানে, ওখানে !!

ডাক্তার মশাই রোগীর এহেন বয়ান শুনে সমস্ত রোগী যে সমস্ত জায়গায় টিপে টিপে দেখাচ্ছিলো সব জায়গায় এক্সরে করে দেখলো কোথাও কোন সমস্যা নাই। তাহলে এই লোক কি মিথ্যে বলছে? নাহ ! রোগী মিথ্যে বলেনি। আসল ব্যপার হচ্ছে, রোগী যে আঙ্গুল দিয়ে টিপে টিপে দেখাচ্ছিলো যে এখানে ওখানে ব্যাথা সেই আঙ্গুলের মাথাটাই ছিল ব্যাথা, তাই এই আঙ্গুল টিপে যেখানেই দেখায় না কেন সব জায়গাতেই ব্যাথা লাগে, এমনকি টেবিল, চেয়ার, কীবোর্ড সব জায়গায় ব্যাথা !!!!!!!

রোগীর এহেন অবস্থা দেখে ডাক্তার সাহেব আঙ্গুলের মাথা পরীক্ষা নীরিক্ষা পূর্বক ঔষুধ লিখে দিলো, কয়েকদিন সেবন করার পর আঙ্গুলের মাথার সাথে সাথে সারা শরীরের (!), টেবিল, চেয়ার, কীবোর্ডের সব জায়গার ব্যাথা ভালো হয়ে গেলো !!

দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনতটা ঠিক ঐ রকমই। যখন আপনার দিল খারাপ থাকবে আপনার দ্বারা সব জায়গাতেই খারাপ কাজ হবে। লোকে খারাপ ভাববে, নিজের কাছেও খারাপ লাগবে। তাবলীগের মেহনত মানুষের ঐ দিলের পিছনে। যার দিল ঠিক হয়ে যায় তার সব ঠিক হয়ে যায়। তাইতো দেখা যায়, চোর ডাকাত, গুন্ডা বদমাশ, দাগী আসামীও তাবলীগের কল্যানে বুজুর্গ বনে যাচ্ছে। তাবলীগ ওয়ালারা মেহনত করে মূল জিনিসের পিছনে যা আপনাকে সমস্ত পাপাচার থেকে ঠেকাবে। দিলের পিছনে মেহনত না করে তার খারাপ কাজ গুলোর উপর মেহনত করলে ঐ লোকটা শুধু এসলাহের পরিবর্তে পিছলাহই হবে, কোনদিন তাকে লাইনে আনা যাবেনা। এলাকার ছিচকে চোর। চুরির দায়ে পুলিশ তাকে জেলে নিয়ে আচ্ছামত ধোলাই দিলো। লোকটা ভাববে এহন তো মাইর খাইয়া অভ্যাস হয়ে গেছে আর সবাই তো জেনেই গেছে আমি যে চোর, তাই সেই লোক তখন সাহসের আতিসাহ্যে চোর থেকে ডাকাতে রুপান্তরিত হবে। আর একটা লোক চোর, তাকে আপনি একটু কষ্ট করে বুঝিয়ে শুনিয়ে তাবলীগে পাঠিয়ে দিন, দেখবেন কয়েকদিন পর তার মুখে সুন্নতী দাড়ী, মাথায় টুপি, হরদম মসজিদে আনাগোনা। সে শুধু চুরিই ছাড়বেনা, বরং যেই লোক কোনদিন মসজিদের ধারের কাছ দিয়েও হাটতোনা সে রীতিমতো মসজিদ আবাদ করবে।

এটাই সত্য, এটাই বাস্তব। যে সকল মুহতারামগন জেনে শুনে তাবলীগের বিরোধীতা করেন, আপনাদের অনুরোধ করবো আমার কথার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য অন্তত ৩ দিন হলেও সময় লাগিয়ে আসুন, তার পর বলুন আমি সত্য বলেছি কি মিথ্যা। তাও এভাবে অনুমান নির্ভর এবং শত্রুতা বশতঃ দ্বীনের এই ঝান্ডাবাহী জামাতকে ঘিরে প্রোপাগন্ডা চালাবেন না প্লিজ।

কালেক্টেড বাই মিম মিফতাহ

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s