হুজুরদের একটা প্রতিমূর্তি এবং কিছু কথা

আমাদের সমাজ হুজুরদের একটা প্রতিমূর্তি তুলে ধরেছে তার সেলফ ডিফাইনড ক্যারেকটারাইজেশনের মাধ্যমে। সেটা এমন যে হুজুর মানে জুব্বা-টুপি পরা দাড়িওয়ালা
একজন মানুষ যে কুরআন পড়ে আর পড়ায়, মিলাদ পড়ায় আর চল্লিশার খতম পড়িয়ে দুচার-পাঁচ হাজারটাকা আয় করে কোনরকমে সংসার চালায়। তার সংসার টানাটানির, অনেকগুলা বাচ্চাকাচ্চা। হুজুররা হবে নিরীহ, তারা একগালে থাপ্পর খেলে আরেকগাল পেতে দেবে। তারা অযুর ফরয, নামাযের ওয়াজিব আর রোজা ভঙ্গের কারণ নিয়ে ওয়ায করবে, এর বাইরে কিছু বলতে পারবে না। আর মোল্লাদের বউ হবে কালো বোরকা আবৃতা এক মহিলা যে জগত সংসার সম্পর্কে কোন ধারনা রাখেনা, বেলন চাপড়িয়ে রুটি বানায় আর ফ্যাচফ্যাচ করে কান্নাকাটি করে।

তাই হুজুরদের এর বাইরে কিছু করতে দেখলেই সুশীল সমাজের পশাদ্দেশে আগুন ধরে যায়। হুজুর কেন রাজনীতিতে নাক গলাবে? হুজুর কেন সোশাল সিস্টেম নিয়ে কথা বলবে? এ অধিকার তাকে কে দিয়েছে? হেফাযতে ইসলামের আবির্ভাবে সুশীলরা একারণেই এত খাপ্পা হয়েছে। হুহু! হুজুররা সংবিধান নিয়ে, আইন নিয়ে কথা বলার কে? তাদের থাকতে হবে কুটিরের অন্ধকারে আর মানুষ মরলে খতম পড়াবে। তারা আবার দাবি-দফা আনে?? এত সাহস?? হুজুরদের এত সাহস থাকতে নেই।

তেমনিভাবে হুজুরের পকেটে টাকা দেখলে শাহরিয়ার কবিরদের গোঁফে রামটান পড়ে। হুজুরের টাকা??? নিশ্চয়ই জামাত-শিবির দিসে, হেন-তেন, রাজাকার যুদ্ধাপরাধী ব্লা ব্লা ব্লা বস্তাপচা ডায়ালগ। অথচ সাহাবাদের অনেকেই অত্যন্ত ধনী ছিলেন। কিন্তু শফী কীভাবে হেলিকপ্টারে চড়ে এই চিন্তায় সুশীল গংদের দুচোখের পাতা এক হয় না। যদিও পঁচিশ টাকা বেতনের সরকারি কেরানি কীভাবে বিএমডব্লিউ হাঁকায় সে প্রশ্ন কেউ তোলে না। তারা তো আর হুজুর না। অন্যে করলে কায়দা আর হুজুর করলেই আল কায়েদা আর কি।

বাস্তবিকই আমাদের হুজুররা অত্যন্ত নিরীহ। হুজুরদের বেশিরভাগই খুবই সরল প্রকৃতি, কৃত্রিম জগতের প্যাচগোচ খুব একটা বোঝেন না। আর এই সুযোগ নেয় ভণ্ড সুশীলগুলো। দেশের সব সমস্যার মূলে হুজুরদের উপস্থাপন করা যায়। একটার পর একটা ইস্যু আসে আর রাস্তা থেকে হুজুর ধরে এনে জেলে আটকে রাখা যায়, পিটিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে দেওয়া যায়। কেউ কিছু বলার নেই। হুজুরদের তো আর কেউ লক্ষ টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনার মত নেই। হুজুরদের সরলতার সুযোগ নিয়ে তাদের উপর গুলি নিক্ষেপ করা যায়, তাদের মৃত্যু নিয়ে তামাশা করা যায়। তাদের রক্তকে রঙ বলা যায়। তাদের মানুষ হিসেবে কাউন্ট না করলেও চলে!

তবে এই দিনই দিন নয় আরো দিন আছে। দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা শুধিতে হইবে ঋণ।
facebook> মিম মিফতাহ

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s