বাংলাদেশে হঠাৎ করেই এত নাস্তিক এর আবির্ভাব হল কিভাবে?

ফাহিম সিদ্দিকী
হঠাৎ করে এত নাস্তিক এর আবির্ভাব বাংলাদেশে কিভাবে হল? কারন, সেই নেটওয়ার্ক তাদের নিজেদের সীমানা পেরিয়ে হাজির হয়েছে আমাদের দেশে আর এইসব নাস্তিকদের ডলারে Pay করছে, যেটাকে আমরা অনেক সময় বলি -Freelancing ।

এখন বুঝতে পারছি নাস্তিকদের শুধু ইসলাম নিয়ে মাথা ব্যথা কেন? আরও তো ধর্ম আছে? আজ পর্যন্ত কোন নাস্তিক কে দেখলাম না অন্য ধর্ম নিয়ে মাথা ঘামাতে। তখন মনে হয় এদের হয়ত মাথা আছে, তবে সুস্থ চিন্তা করার সেই ব্রেইনটা নেই।

যে কোন ইসলামীক সাইট কে গ্রহণযোগ্য হিসেবে নেবেন না, হতে পারে যে সাইট থেকে আপনি ইসলাম সম্পর্কে জানছেন, সেটা কোন নাস্তিক দ্বারা পরিচালিত।
হ্যা, নাস্তিক হ্ওয়া তাদের ব্যাপার। তবে যা সহ্য করা যায় না তা হল ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা। নাস্তিকতা মানে কি শুধু ইসলাম কে ঘৃণা করা? এইসব নাস্তিকরা অনেক কিছু লিখে আর Reference দেয় কিছু Website এর যেগুলোর কোন বাবা মা নেই। প্রমান করার ও উপায় নেই যে এই Website গুলো কোন মুসলিম দ্বারা পরিচালিত। আর সেইসব Website থেকে তারা বিভিন্ন তথ্যের উদ্বৃতি দিয়ে সেটার আবার নিজের মত ব্যখ্যা দেয়।

তবে এই সব Website এবং Online material এর Maximum ইহুদি-নাসারা দের দ্বারা পরিচালিত
যেখানে ইসলাম কে বিকৃত করা হয় এবং ভুল ব্যখ্যা করা হয়। আর সেইসব তথ্য নিয়ে নাস্তিকরা হাজির হয় ব্লগে এবং ফেইজবুকে।

ইসলামের বিরুদ্ধে লেখা আজকে থেকে শুরু হয়নি। ইংরেজি সহ আরো অনেক ভাষাতে এইটা অনেক আগে থেকে শুরু হয়েছে। কিন্তু ইসলামের প্রচার প্রসারে বিন্দু মাত্র আঘাত আনতে পারেনি এই গুলো। সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে কিছু Anti Islamic Page বাংলায় চালু করা হয়েছে।

আপনি হয়তো প্রথমে শুনলে মনে হবে কে কেন কি কারনে ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী লেখালেখির জন্যে টাকা পয়সা দিবে। আসুন দেখি কারা কত টাকা খরচ করছে ইসলাম বিদ্বেষী কর্মকান্ডে।

Center For American Progress সংগঠনটি গত ছয় মাস ধরে আমেরিকায় ইনভেস্টিগেশন চালায়।

তারা Fear, Inc. The Roots of the Islamophobia Network in America শিরোনামে ১৩০ পৃষ্ঠাব্যাপী ওদের রিপোর্ট প্রকাশ করে।

ওদের রিপোর্ট মতে আমেরিকায় অনেকগুলো সংগঠন মিলে গত দশ বছরে প্রায় ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যায় করে মুসলিম ও ইসলাম বিদ্বেষী কর্মকান্ডের জন্যে!!!

গত ১০ বছরে USAএর বিভিন্ন সংগঠন এত টাকা খরচ করেছে। ধরে নেয়া যায় USA এর ভেতর থেকে আরও $ খরচ করা হবে নিকট ভবিষ্যতে এবং এটি চলমান থাকবে।

অথচ USA সরকার তার Budget ঘাটতি মেটানোর জন্য প্রতি বছর ব্যাংক থেকে টাকা ধার করছে, নাগরিকদের যাবতীয় সুবিধা দিতে টাকা ধার করছে ব্যাংক থেকে।আর অবাক করা ব্যাপার হল, ফেডারেল সরকার এই ধারকৃত টাকা শোধ করার জন্য পুনরায় ধার করছে। ফলে যা ঘটছে তা হল গত ১৯৭০-১৯৯৭ সাল পর্যন্ত এই শক্তিশালী(!?) দেশটি Budget ঘাটতির মধ্যে ছিল। ১৯৯৮-২০০১ সাল পর্যন্ত Budget Surplus ছিল। আর ২০০৯ এ এসে USA এর Budget ঘাটতি Trillion ছাড়ায়।

http://www.whitehouse.gov এই সাইটে,Under section -“Office of Management and Budget” একটি Historical Table এ দেখানো হয়েছে ,1850–1900 সালে সর্বমোট Budget ঘাটতি ছিল ৯৯১ মিলিয়ন ডলার। দেখা যাচ্ছে, তাদের এই ঘাটতি পরম্পরা শুরু হয়েছে ১৮৫০ সাল থেকে। ২০১০ সালে তাদের Budget ঘাটতি এসে দাড়ায় $ ১.৩ Trillion। আগষ্টে ধারনা করা হয়েছে, এটা $১.৫Trillion এ পৌছাবে। ফলস্বরুপ, ফেডারেল সরকারের Debt দিন দিন বেড়েই চলেছে। আর ফেডারেল সরকার তার Debt Ceiling ও দিন দিন বাড়িয়ে চলছে, নাহয় তো দেওলিয়া হয়ে যাবে।

December 2009 এ Debt Ceiling ছিল $12.394 trillion ,যা বাড়িয়ে February 2010 – $14.294 trillion করা হয়। আর এই Debt Ceiling ১২বারের ও বেশি বাড়ানো হয়েছে। আর USA এর Expenditure সবচেয়ে বেশি Defense Sector এ।

আসুন দেখি সেই রিপোর্ট টি কি বলছে:
রিপোর্টটিতে এইসব মুসলিম ও ইসলাম বিদ্বেষী কর্মকান্ডের মাধ্যমে ISLAMOPHOBIA তৈরী করার কথা বলা হয়েছে যাতে ইসলাম নিয়ে মানুষের মধ্যে ভয় গড়ে ওঠে এবং মানুষের মধ্যে ইসলাম এর প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি হ্য়।

সংগঠন গুলো হলো,
* Donors Capital Fund
* Richard Mellon Scaife foundations
* Lynde and Harry Bradley Foundation
* Newton D. & Rochelle F. Becker foundations and charitable trust
* Russell Berrie Foundation
* Anchorage Charitable Fund and William Rosenwald Family Fund
* Fairbrook Foundation

এই টাকা গুলো ব্যয় কারা হয় ইসলাম বিদ্বেষী বই, আর্টিকল, ম্যাগজিন, ওয়েব সাইট ও ব্লগ লিখালেখির জন্যে। এদের শীর্ষে আছেন এটলাস সার্গ ব্লগের লেখিকা পাম গেলার, জিহাদ ওয়াচ সাইটের রবার্ট স্পেন্চার, মিডল ইস্ট ফোরামের ডেনিয়েল পাইপ, টেরোরিসম ইনভেস্টিগেট সাইটের স্টিভ এন্ডারসন সহ আরো সো কলড এক্সপার্ট। এদের সহযোগিতায় ইন্টারনেটে হাজার হাজার ওয়েবসাইট, ব্লগ, আর্টিকল ও বই লিখে ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী প্রচারোনা চালায়। এজন্যেই আপনি দেখবেন যে, ইন্টারনেটে ইসলাম/মুসলিম বিরুধী ম্যাটেরিয়াল অনেক বিশাল।

এদের সাথে বিভিন্ন মিটিংয়ে ও কর্মকান্ডে যোগ দেয় সো কলড মুসলিম নামধারী লোকজন ডলারের লোভে।

Center For American Progress এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইসলামের বিরুদ্ধে conspiracy ছাড়াও, একটি শক্ত নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে যারা পুরো আমেরিকার মানুষের কাছে পৌছানোর ক্ষমতা রাখে, কিছু influential মানুষের মাধ্যমে, মিডিয়া পার্টনার এবং রুট লেভেলের কিছু সংস্থার মাধ্যমে। তাদের কাজ ছিল ভুল তথ্য প্রদান করা,মিস গাইড করা মুসলিমদের এবং Give a rise to Islamophobia। এই ভুল তথ্য প্রদান করা, মিস গাইড শুরু হয় ৫জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং তাদের সংস্থার মাধ্যমে।

গত ১০বছরের ও বেশি সময় ধরে ৪০মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে ৭টি সংস্থা এই কাজে। আর এই ভুল তথ্য প্রদান করা, মিস গাইড করার Experts রা হলেন
• Frank Gaffney at the Center for Security Policy
• David Yerushalmi at the Society of Americans for National Existence
• Daniel Pipes at the Middle East Forum
• Robert Spencer of Jihad Watch and Stop Islamization of America
• Steven Emerson of the Investigative Project on Terrorism

আসুন দেখি ইউ এস এর কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যারা কিনা এই Islamophobia এর পক্ষে কাজ করছে:–
The political players:
Rep. Peter King
Rep. Sue Myrick
Rep. Allen West
Rep. Renee Elmers
Rep. Paul Broun
Rep. Michele Bachmann

কিছু মিডিয়া যেগুলো ইসলাম নিয়ে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে এবং মানুষকে Mislead করছ
The media:
Fox News Channel
David Horowitz
Freedom Center
Pamela Geller and Atlas Shrugs
Washington Times
The National Review
Christian Broadcast Network
Clarion Fund
Rush Limbaugh
Sean Hannity
Mike Savage
Glenn Beck
Mark Levin
Bryan Fischer

The grassroots organizations যেগুলো Islamophobia এর পক্ষে কাজ করছে-
Brigitte Gabriel’s ACT! For America
Pamela Geller’s Stop Islamization of America
Eagle Forum
Tennessee Freedom Coalition
State Tea Party movements
American Family Association

কিছু রিলিজিয়াস গ্রুপ–
The religious right
Pat Robertson
John Hagee
Ralph Reed
Franklin Graham

এই চারটিকে একসাথে রিপোর্টিতে The Islamophobia echo chamber বলে অভিহিত করা হয়েছে। এই Islamophobia নেটওয়ার্ক ইসলামি শরিয়াকে ভুল ভাবে define করে আমেরিকানদের কছে Prsesent করছে।

রিপোর্টিতে বলা হয়েছে-
“The latest calculated smear against Islam and Muslims in America by the small but vocal members of the Islamophobia network is the deliberate misdefinition of Sharia, or Islamic religious law. This network mischaracterizes Sharia as a totalitarian ideology of hate and triumphalism committed to replacing the U.S. Constitution with a radical Islamist Caliphate that will subordinate and punish all non-Muslim adherents. ”

On July 22, in Oslo government building এ বোমা বিস্ফোরনের পর বিভিন্ন pundits এবং mainstream media outlets যেমন-The New York Times, The Washington Post, and The Atlantic আল কায়েদা এবং জিহাদি গ্রুপের সংশ্লিষ্টতা আছে বলে প্রচারনা চালাচ্ছিল। কিন্তু দুঃখজনক ভাবে, ৩২ বছর বয়সী Norwegian named Anders Breivik,self-described Christian conservative, এটার এই বোমা বিস্ফোরনের দায় ভার স্বীকার করে।

Breivik তার manifesto তে রবার্ট স্পেন্চার, যিনি একজন anti-Muslim misinformation scholar(Fear, Inc.The Roots of the Islamophobia Network in America -রিপোর্ট এ যাকে ভুল তথ্য প্রদান কারী,মিস গাইড করার Experts হিসেবে বলা হয়েছে), এবং তার ব্লগ Jihad Watch এর কথা ১৬২ বার উল্লেখ করেছে।

Geller and Spencer,দুইজন anti-Muslim misinformation scholar,একসাথে “Stop Islamization of America”-এই গ্রুপটি প্রতিষ্ঠা করে, a group whose actions and rhetoric the Anti-Defamation League concluded “promotes a conspiratorial anti-Muslim agenda under the guise of fighting radical Islam,- Center For American Progress এর রিপোর্ট অনুযায়ী।

একজন Misinformation experts, Gaffney কাজ করে কিছু right-wing grassroots organizations এর সাথে,যেমন- ACT! for America and the Eagle Forum। তারা তাদের Anti Islamic Message গুলো ছড়ানোর জন্য কাজ করে আরোও কিছু religious right groups যেমন The Faith and Freedom Coalition and American Family Association এর সাথে.

Center For American Progress এর রিপোর্ট অনুযায়ী–
“Speaking at their conferences, writing on their websites, and appearing on their radio shows, these experts rail against Islam and cast suspicion on American Muslims. ”

উল্লখযোগ্য, আমেরিকাতে এই anti-Muslim, anti-Islam grassroots network সফল,কারন তারা বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে যেসব কিনা গত ১০বছরে রাজনৈতিক প্রচারনায় ব্যবহার করে সফলতা এসেছিল–রিপোর্টটি তে বলা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, Internet কে তারা একটি গুরুত্বপুর্ণ মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে ইসলামের বিরুদ্ধে প্রচারনা চালানোর জন্য এবং কিছু Website এবং Blog এ ইসলামকে ভুল ভাবে Present করার জন্য এবং মুসলিমদের Misguide করার জন্য।

সবশেষে দেখা যাচ্ছে, পেটে ভাত থাকুক আর না-ই থাকুক, ধার-দেনা শোধ করার ক্ষমতা থাকুক,আর না-ই থাকুক,ইসলামের বিরুদ্ধে কর্ম কান্ড চালাতেই হবে। মুসলিম দেশের ধন সম্পদ হরি লুট করতেই হবে। গায়ের জোরে, পৃথিবী আমার। তবে মুসলিম দেশগুলো কে লুট করা অনেকে আগে থেকেই শুরু হয়েছে। সেই ইতিহাস আজ আর না-ই লিখলাম।

সুতরাং বুঝতেই পারছেন। আর নাস্তিকদের কথায় কান দেবেন না। আপনি কান দিলেই সে স্বার্থক। হয়ত, এই ব্লগেই কেউ আছেন যিনি ডলার নিয়ে ব্লগিং করছেন।

নিজে জানুন, অন্য মুসলিম ভাই-বোনকে জানান কিভাবে আমাদের অজান্তে নাস্তিকরা মুসলিম সেজে আমাদের ঈমান নষ্ট করতে পারে। আর কত মিলিয়ন ডলার আমেরিকা খরচ করছে ইসলাম কে ধ্বংস করার জন্যে যা কখনোই সম্ভব নয়। কারন ইসলাম তার নিজস্ব গতিতে প্রচন্ড শক্তিতে চলবেই ইনশাআল্লাহ।

শেয়ার করুন আর সকল মুসলিম ভাই-বোনদের জানতে দিন।

(Fear, Inc.The Roots of the Islamophobia Network in America -রিপোর্ট টি ১৩০ পৃষ্ঠার। তাই পুরোটা তুলে ধরা সম্ভব হয়নি বলে দুঃখ প্রকাশ করছি।)

তথ্য সংগ্রহ::
http://www.americanprogress.org/
http://www.cbo.gov
http://www.federalbudget.com/

Collected by মিম মিফতাহ

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s