আহলে হাদিস ও গাইর মুকাল্লিদদের

আহলে হাদিস ও গাইর মুকাল্লিদদের
থেকে সাবধান। এবং আমরা মাযহাব মানি কেন?
অনেকদিন যাবত্ই
আহলে হাদিসরা বাংলাদেশের
সরলমনা মুসলমানদের মাথা নষ্ট করার পেছনে খুব
তত্পরতা চালাচ্ছে। তারা এই মিশনে কিছুটা সফল
হচ্ছে ।তাই আমাদের উচিত্ এসব লোকের কথায়
কান না দেয়া। তারা আমাদের
বলে যে তোমরা হাদিসের বিপরিত নামায
পড়ে থাক।
যখন একজন সাধারন হাদিস
সর্ম্পকে অপারদর্শিকে যখন এধনের
কথা বলবে তখন সভাবিক তার
মনে খটকা সৃষ্টি হবে । তখনই
তারা আমাদেরকে মগজ ধোলাই দিয়ে তাদের
দলে ভিরানোর চেষ্টা চালাবে ।তাই এসময়
আমাদের কিছু করনিয় আছে ।একটু বুঝুন
যে আমরা মাযহাব কেন মানি ।এজন্য
যে আমরা মুজতাহিদ নই। এখন প্রশ্ন
আসতে পারে তাহলে মুজতাহিদ কারা?মুজতাহিদ
হতে কিছু গুণ থাকা লাগে। সেগুলো হচ্ছে.
১.আরবী ভাষা সর্ম্পকে গভীর জ্ঞান।
নাহু .সরফ.বালাগাতে অত্যন্ত দক্ষতা।
২.উলুমুল কোরান সর্ম্পকে গভীর জ্ঞান।
তাফসীর .সববে নুযুল এধরনের বিষয়
ভালভাবে জানা।
৩.উলুমুল হাদিসে ভীষন দক্ষতা
৪.যেসব মাসয়ালায় আলিমগণের
ইজমা রয়েছে তাও জানা থাকা জরুরি ।
৫.ইজতিহাদের নিয়ম নীতি অর্থাত্
উসূলে ফিকহ বিষয়ে পারদর্শিতা।
৬.ইজতিহাদ যেহেতু চিন্তা ও মেধার গভীর
ব্যবহার .তাই মুজতাহিদকে উচ্চ পর্যায়ের মেধা ও
সূক্ষ্ম চিন্তাশক্তির অধিকারী হতে হবে।
পাশাপাশি তাকে খোদাভীরু ও পরহেজগার
হতে হবে, যাতে তার ইজতিহাদ চাহিদা ও
প্রবৃত্তির প্রভাবে প্রভাবিত না হয়।
এখন আমি আপনি চিন্তা করি যে এই কয়টি গুণের
মধ্যে কয়টির অধিকারি আমরা?
আমাদের মধ্যে যদি এসব গুণ
থেকে একটি অর্বতমান
থাকে তাহলে বঝতে হবে আমরা নিজেরা কোরান
ও হাদিস থেকে সরাসরি মাসয়ালা বের
করতে অক্ষম। তাই আমাদের কারো তাকলিদ
করতে হবে বা কারো মাযহাব মানতে হবে ।যার
মাঝে এসকল গুণ বিদ্যমান।
তবে আমরা এটা মনে করিনা যে তিনি সকল
ভুলের উর্ধে।কিন্তু তার থেকে ভুল হওয়াটা খুবই
দুর্লভ।
আহলে হাদিস ও
গাইরে মুকাল্লিদরা মনে করে যে তারা নিজেরাই
হাদিস থেকে মাসয়ালা বের করতে পারবে।
কিন্তু যখন তাদের মাঝে বর্নিত ৬টি গুণ
না থাকে এবং তারা কথিতা আহলে হাদিস ও
গাইরে মুকাল্লিদ হওয়ার কারনে ৪মাযহাবের
কোন ইমামকে অনুসরন
করতে না পেরে নিজেদের বানানো সাধারন
কোন আলেমকে মানে।আমরা কোন সাধারন
ইমামের তাকলিদ করি না।মুসলিম
বিশ্বে সবচেয়ে বেশী অনুসরনকৃত ইমাম আবু
হানিফার মাযহাব অনুসরন করি। অনেকে আবার
মনে করতে পারেন যে তিনি তো একজন মানুষ
তার থেকেও তো ভুল হওয়া খুব সাধারন!
তিনি আসলে একা একা আমাদের মাযহাব
সাজাননি তাঁর একটি উচ্চাঙ্গের একটি ফিকহ
বোর্ড ছিল । এই মজলিসটি তাঁরই
নেতৃত্বে পরিচালিত হতো। কোন
একটি বিষয়ে যদি সদ্ধান্তে উপনিত
হতে হলে সকলের মতামত নিয়ে পরেই সে বিষয়
গ্রহণ করা হতো।কোন একজন যদি অনুপস্হিত
থাকত.তাহলে তার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা স্হগিত
থাকত। এছাড়াও তো তার দুই বিখ্যাত শাগরেদ আবু
ইউসুফ ও মুহাম্মাদ রঃ তো আছেনই ।আর কোন
বিষয়ে কোন খটকা লাগলে আলেমগণের
থেকে জিজ্ঞেস করে নিব।তাহলে এত সুন্দর সুদৃঢ়
মাযহাব থাকতে কেন আমরা আহলে হাদিস
বা গাইরে মুকাল্লিদ হব ।
তাই পূর্বের প্রশ্নে ফিরে আসছি .কেউ
যদি বলে মাযহাব কেন মান?
তাহলে সোজা জবাব দিব ইজতিহাদ
করতে পারিনা তাই মাযহাব মানি ।
আর যদি বলে উদাহরন সরূপ তোমরা রফয়ে ইদাইন
করনা এটাতো সুন্নাত পরিপন্হি ।
তাহলে জিজ্ঞেস করব রফয়ে ইদাইন
না করা কি কোন হাদিসে নাই ? তখন
সে বলবে আছে তবে তা যয়ীফ হাদিস। তখন
জিজ্ঞেস করব এটা কি তোমার মত নাকি কোন
ইমামের মত ? তখন সে বলবে কোন ইমাম মত। তখন
জিজ্ঞেস করব যে এই হাদিসকে কি কোন ইমামই
সহীহ বলেনি?
তখন সে বলে হ্যাঁ তা তো বলেছেই।তখন
আমি বলব আমার জন্য এতটুকুই যথেষ্ঠ।আর
যদি পারি তাহল তাকে হেকমতের সহিত কোন
বিজ্ঞ আলেমের নিকট নিয়ে যাব।
আমরা আল্লাহর নিকট দোয়া করব যেন
তিনি আমাদেরকে মৃত্যু পর্যন্ত সঠিক সহীহ
দ্বীনের উপর কায়েম দায়েম রাখেন।আমিন

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s