“গাযওয়াতুল হিন্দ” কি অতি নিকটে???

image

রাসুলুল্লাহ
(সাঃ) এর প্রতিশ্রুত “গাযওয়াতুল হিন্দ”
কি অতি নিকটে???
“গাযওয়াতুল হিন্দ” বলতে ইমাম মাহদি(আঃ)
এবং ঈসা(আঃ) এর আগমনের কিছুকাল
আগে অথবা সমসাময়িক সময়ে এই পাক-ভারত-
বাংলাদেশে মুসলিম ও কাফিরদের মধ্যকার
সংগঠিত যুদ্ধকে বুঝায়।
“গাযওয়া” অর্থ যুদ্ধ, আর “হিন্দ” বলতে এই
উপমহাদেশ তথা পাক-ভারত-বাংলাদেশসহ
শ্রীলঙ্কা,নেপাল,ভুটানকে বুঝায়।
এবং বর্তমানে এই অঞ্চলের উত্তেজনাকর
পরিস্থিতি আমাদেরকে সেই গন্তব্যের
দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আল্লাহু আ’লাম।
একটা বিষয় মাথায় রাখা উচিত আর
তা হলো রাসুলুল্লাহ(সাঃ) এর
প্রতিটি কথা সত্য এবং গত ১৪০০ বছরের ইতিহাস
সেই সাক্ষী বহন করে চলেছে। এবং ইন
শা আল্লাহ্ কিয়ামত পর্যন্ত সত্য হয়ে যাবেই।
এটাই একজন মুসলিমের ঈমানের অন্যতম
ভিত্তি যে সে রাসুলুল্লাহ(সঃ) এর সব কথা,
ভবিষ্যৎবাণীকে বিনা বাক্যে বিনা দ্বিধায়
মেনে নিবে।
রাসুলুল্লাহ(সঃ) এর কথা অনুযায়ী খোরাসান
(বর্তমান আফগানিস্থান) থেকে কালিমাখচিত
কালোপতাকাধারীদের উত্থান এবং তাদের
কাশ্মীর পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া, পূর্ব
প্রস্তুতি হিসেবে ভারতের কাশ্মীর
সীমান্তে ৭ লক্ষ সেনা মোতায়েন, পাক-
ভারত-বাংলাদেশের
হকপন্থী ইসলামী দলগুলোর আলোচনায়
উঠে আসা, পানি নিয়ে ভারতের
সাথে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের
উত্তেজনাকর পরিস্থিতি, কাশ্মীর
নিয়ে পাকিস্তানের সাথে ভারতের
উত্তেজনাকর পরিস্থিতি, বাবরি মসজিদ ধ্বংস
এবং মুসলিমদের নির্যাতন নিয়ে ভারতের
ভেতরে মুসলিমদের ক্ষোভের বিস্ফোরণ,
সেভেন সিস্টারস তথা ভারতের ৭
টি অঙ্গরাজ্যের স্বাধীনতার
দাবি নিঃসন্দেহে ভারত বিভক্তির ইঙ্গিত
বহন করে।
সে সময় অবশ্যই পাক-ভারত-বাংলাদেশের
মুসলিম
নামধারী মুনাফিকরা আলাদা হয়ে যাবে।
তারা হইতো কাফিরদের পক্ষে যোগ
দিবে অথবা পালিয়ে বেড়াবে। এবং এই
ভয়ঙ্কর
যুদ্ধে মুসলিমরা জয়ী হবে এবং তারা বায়তুল
মুকাদ্দাস(বর্তমান ফিলিস্তিন) এ গিয়ে
ঈসা(আঃ) এর সাথে মিলিত
হবে এবং খিলাফাত প্রতিষ্ঠা করবে।
হাদিস শরীফে বর্ণিত “গাজওয়াতুল হিন্দ”
সম্পর্কে আসা ৫ টি হাদিসই বর্ণনা করছি।
(১) হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) এর প্রথম হাদিস
আবু হুরায়রা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত,
তিনি বলেনঃ
“আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের
থেকে হিন্দুস্থানের সঙ্গে যুদ্ধ করার
প্রতিশ্রুতি নিয়েছেন। কাজেই আমি যদি সেই
যুদ্ধের নাগাল পেয়ে যাই,
তাহলে আমি তাতে আমার জীবন ও সমস্ত সম্পদ
ব্যয় করে ফেলব। যদি নিহত হই,
তাহলে আমি শ্রেষ্ঠ শহীদদের অন্তর্ভুক্ত হব।
আর যদি ফিরে আসি, তাহলে আমি জাহান্নাম
থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত আবু হুরায়রা হয়ে যাব”।
(সুনানে নাসায়ী, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৪২)
(২) হযরত সা্ওবান (রাঃ) এর হাদিস
নবীজি সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামের আজাদকৃত গোলাম
হযরত সা্ওবান (রাঃ) বর্ণনা করেন, আল্লাহর
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বলেছেন,
“আমার উম্মতের দুটি দল এমন আছে, আল্লাহ
যাদেরকে জাহান্নাম থেকে নিরাপদ
করে দিয়েছেন। একটি হল তারা,
যারা হিন্দুস্তানের সাথে যুদ্ধ করবে, আরেক
দল তারা যারা ঈসা ইবনে মারিয়ামের
সঙ্গী হবে’।
(সুনানে নাসায়ী, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৪২)
(৩) হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) এর দ্বিতীয় হাদিস
হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হযরত
মুহাম্মদ (সাঃ) হিন্দুস্তানের কথা উল্লেখ
করেছেন এবং বলেছেন,
“অবশ্যই আমাদের একটি দল হিন্দুস্তানের
সাথে যুদ্ধ করবে, আল্লাহ্ সেই দলের
যোদ্ধাদের সফলতা দান করবেন, আর
তারা রাজাদের শিকল/
বেড়ি দিয়ে টেনে আনবে । এবং আল্লাহ্
সেই যোদ্ধাদের ক্ষমা করে দিবেন (এই
বরকতময় যুদ্ধের দরুন)।
এবং সে মুসলিমেরা ফিরে আসবে তারা ঈসা
ইবনে মারিয়াম(আঃ) কে শাম দেশে(বর্তমান
সিরিয়ায়) পাবে”।
হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন,
“আমি যদি সেই গাযওয়া পেতাম,
তাহলে আমার সকল নতুন ও পুরাতন
সামগ্রী বিক্রি করে দিতাম
এবং এতে অংশগ্রহণ করতাম । যখন আল্লাহ্
আমাদের সফলতা দান করতেন
এবং আমরা ফিরতাম, তখন আমি একজন মুক্ত আবু
হুরায়রা হতাম; যে কিনা সিরিয়ায় হযরত
ঈসা (আঃ) কে পাবার গর্ব নিয়ে ফিরত । ও
মুহাম্মাদ (সাঃ) ! সেটা আমার গভীর
ইচ্ছা যে আমি ঈসা (আঃ) এর এত
নিকটবর্তী হতে পারতাম,
আমি তাকে বলতে পারতাম যে আমি মুহাম্মাদ
(সাঃ) এর একজন সাহাবী”।
বর্ণনাকারী বলেন যে হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ)
মুচকি হাসলেন এবং বললেনঃ ‘খুব কঠিন, খুব
কঠিন’।
(আল ফিতান, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪০৯)
(৪) হযরত কা’ব (রাঃ) এর হাদিস
এটা হযরত কা’ব (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত
হাদিসে মুহাম্মাদ (সাঃ) বলেনঃ
“জেরুসালেমের (বাই’ত-উল-মুক্বাদ্দাস)
[বর্তমান ফিলিস্তিন] একজন রাজা তার
একটি সৈন্যদল হিন্দুস্তানের দিকে পাঠাবেন,
যোদ্ধারা হিন্দের ভূমি ধ্বংস করে দিবে, এর
অর্থ-ভান্ডার ভোগদখল করবে, তারপর
রাজা এসব ধনদৌলত দিয়ে জেরুসালেম
সজ্জিত করবে, দলটি হিন্দের রাজাদের
জেরুসালেমের রাজার দরবারে উপস্থিত
করবে, তার সৈন্যসামন্ত তার নির্দেশে পূর্ব
থেকে পাশ্চাত্য পর্যন্ত সকল এলাকা বিজয়
করবে, এবং হিন্দুস্তানে ততক্ষণ অবস্থান
করবে যতক্ষন না দাজ্জালের ঘটনাটি ঘটে”।
(ইমাম বুখারী (রঃ) এর উস্তায নাঈম বিন হাম্মাদ
(রঃ) এই হাদিসটি বর্ণনা করেন তার ‘আল
ফিতান’ গ্রন্থে । এতে, সেই উধৃতিকারীর নাম
উল্লেখ নাই যে কা’ব (রাঃ)
থেকে হাদিসটি বর্ণনা করেছে)
(৫) হযরত সাফওয়ান বিন উমরু (রাঃ)
তিনি বলেন কিছু লোক তাকে বলেছেন
যে রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ
“আমার উম্মাহর একদল লোক হিন্দুস্তানের
সাথে যুদ্ধ করবে, আল্লাহ্ তাদের সফলতা দান
করবেন, এমনকি তারা হিন্দুস্তানের
রাজাদেরকে শিকলবদ্ধ অবস্থায় পাবে।
আল্লাহ্ সেই যোদ্ধাদের ক্ষমা করে দিবেন।
যখন তারা সিরিয়া ফিরে যাবে, তখন
তারা ঈসা ইবনে মারিয়ামকে (আঃ) এর
সাক্ষাত লাভ করবে”।
(আল ফিতান, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪১০)
এখানে রাসুল (সাঃ) এর বর্ণিত তৎকালীন
হিন্দুস্তানের সীমারেখা বর্তমান ভারত,
নেপাল, শ্রীলংকা, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান
নিয়ে।
বর্তমানে এই উপমহাদেশের
মুর্তিপুজারী ভূখণ্ডের মুসলিম প্রধান ভূখণ্ডের
উপর সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও
অর্থনৈতিক আগ্রাসনের অব্যাহত
প্রচেষ্টা দেখলে বুঝা যায় যে, এটি একদিন
চূড়ান্ত সংঘাতময়রূপ ধারণ করবে এবং এখানকার
দ্বীন ইসলামকে টিকিয়ে রাখতে রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভবিষ্যৎ
বাণী মোতাবেক উম্মতের একটি দলকে এই
দিকে অগ্রসর হতে হবে। এবং এটি ঘটবে সেই
সমসাময়িক সময়ে যখন সমগ্র
দুনিয়াতে ইসলামের
ক্রান্তিলগ্নে ইসলামকে খিলাফতের
আদলে সাজাতে আল্লাহ ইমাম
মাহদিকে প্রেরণ করবেন আর যার খেলাফতের
সপ্তম বছরে দাজ্জালের আবির্ভাব
হবে এবং দাজ্জালের সাথে মহাযুদ্ধের
নেতৃত্ব দিতে ঈসা (আঃ) এর আগমন ঘটবে।
“CIA terrified of Ghazwa e Hind” শিরোনামে এই
ভিডিওটি দেখলে বুঝতে পারবেন
তারা কতোটা সচেতন আর
আমরা কতোটা গাফেল হয়ে আছি।

প্রকৃত সময় এবং অবস্থা একমাত্র আল্লাহ্ সুবহানু
তায়ালাই জানেন। আমরা কেবলমাত্র
হাদিসের আলোকে এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট
অনুযায়ী ঘটনা সম্পর্কে নিজেদেরকে সচেতন
এবং প্রস্তুত করতে পারি। মহান আল্লাহ্
আমাদেরকে সহিহ বুঝ দান করুন,ক্ষমা করুন,
মুনাফিকি থেকে হিফাজত করুন এবং তার প্রিয়
বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমিন।
শেয়ার করুন। যেসব ভাই
বোনেরা জানে না তাদেরকে জানার
সুযোগ করে দিন।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s