মাসআলা বা ফতোয়া দেয়ার জন্য কি আলেম হওয়া শর্ত ?

উত্তরঃ
অবশ্যই আলেম হওয়া শর্ত। কারণ আল্লাহ
তা’য়ালা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন,
তোমরা যা জাননা তা যারা জানে তাদের
নিকট জিজ্ঞাসা কর। তাই যদি আলেমদের
নিকট জিজ্ঞাসা না করে মূর্খদের নিকট
জিজ্ঞাসা করেন ও আপনাকে কি উত্তর
দিবে ও তো নিজেই জানে না।
ও নিজেও গোমরাহ আর আপনাকেও
গোমরা বানিয়ে ছাড়বে।

¤ এখন প্রশ্ন হলো আলেম হওয়ার জন্য
কি মাদ্রাসায় পড়া বা উস্তাদ
থাকা জরুরী ?
উত্তরঃ
হ্যাঁ অবশ্যই আলেম হওয়ার জন্য
মাদ্রাসায় পড়া বা উস্তাদ থাকা জরুরী।
কারণ আলেমদের
ব্যাপারে হাদীসে বলা হয়েছে যে,
ﺍﻟﻌﻠﻤﺎﺀ ﻭﺭﺛﺔ ﺍﻻﻧﺒﻴﺎﺀ
অর্থঃ আলেমগণ নবীদের ওয়ারিশ।
আর ওয়ারিশ হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট
ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক বয়ান
করা জরুরী যে, তিনি আমার পিত
কিংবা ভাই বা চাচা।
সম্পর্ক ও সূত্র ছাড়া ওয়ারিশ হওয়া যায়
না।

অনুরুপ ভাবে উলামায়ে কেরামও নবীদের
ওয়ারিশ।
আর হাদীসের মধ্যেই স্পষ্ট
বলা হয়েছে যে, আম্বিয়ায়ে কেরাম
টাকা পয়সার ওয়ারিশ বানান
না বরং ইলমের ওয়ারিশ বানান।
আর ওয়ারিশের জন্য যেহেতু সূত্র ও সনদ
থাকা জরুরী সেহেতু আলেম
তথা নায়েবে নবীর জন্যও রাসূল (সাঃ)
পর্যন্ত ইলেমের সনদ বা সূত্র
থাকা আবশ্যক।
আর এই সনদ তখনই থাকবে যখন
সে কাউকে উস্তাদ বানাবে, কারো নিকট
থেকে সরাসরি ইলম অর্জন করবে।
যেমন
আমি বুখারী পড়েছি মাওলানা মাহমুদূল
হাসান সাহেব দা.বা. নিকট,
তিনি পড়েছেন ইউসূফ বিন্নূরী রহ.
নিকট, তিনি পড়েছেন আনওয়ার শাহ
কাশ্মীরী রহ. নিকট, তিনি পড়েছেন
শাইখুল হিন্দ মাহমুদ হাসান
দেওবন্দী রহ.নিকট, এভাবে রাসূল (সাঃ)
পর্যন্ত সনদ পৌছে গেছে।

আলেম হওয়ার জন্য এই সনদ থাকা জরুরী।
কেননা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন শুধু
কিতাব পাঠিয়ে শেষ
করেননি বরং তা বুঝিয়ে দেয়ার জন্য
নবী প্রেরণ করেছেন।
কিতাবাদী যদি একা একা পড়ে বুঝা যেত
তাহলে আর নবী পাঠানোর কোন প্রয়োজন
ছিল না।
আর রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ
এ ইলমকে বহন করবে প্রত্যেক
পরবর্তী ন্যায়পরায়ণগণ,
পূর্ববর্তী ন্যায়পরায়ণগণ
থেকে এবং তারা মিটিয়ে দিবে সীমালঙ্ঘনকারীদে
র সমস্ত পরিবর্তন-পরিবর্ ধন
এবং ভ্রান্ত মতাদর্শীদের
মিথ্যা এবং জাহেলদের
অপব্যাখ্যা সমূহকে ।
মিশকাত পৃঃ৩৬

উপরের আলোচনার দ্বারা বুঝা গেল ইলম
সীনা থেকে সীনায় স্থানান্তরিত
হয়ে এসেছে।

তাই কেউ যদি মাদ্রাসায়
প্রাতিষ্ঠানিকভা বে না পড়ে কোন
উস্তাদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করে,
তাহলে তাকেও আলেম বলা যেতে পারে।

এখন আপনারাই বিবেচনা করুন যারা আলেম না অর্থাত্‍ কোন মাদ্রাসায় পড়া লেখা করে নাই, তাদের ফাতাওয়া গ্রহণযোগ্য হবে কিনা ?

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s